• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

বৃহৎ ঈদ জামাতের প্রস্তুতি

না.গঞ্জে দেড় লক্ষাধিক মুসুল্লি সমাগমের প্রত্যাশা শামীম ওসমানের

প্রকাশ:  ০৪ জুন ২০১৯, ০১:০০ | আপডেট : ০৪ জুন ২০১৯, ০১:১২
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান এবং এ কে এম সামছুজ্জোহা স্টেডিয়াম সমন্বয়ে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত আয়োজনে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাতের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। মঙ্গলবার (০৪ জুন) বিকেলের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে পুরো জামাতস্থল প্রশাসনের নিরাপত্তা বেস্টনীর আওতায় আনা হবে।

এই ঈদ জামাতে দেড় লক্ষাধিক মুসুল্লির সমাগমের আশাবাদ ব্যক্ত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া।

গত এক সপ্তাহ ধরেই শহরের ইসদাইর এলাকায় এ কে এম সামছুজ্জোহা স্টেডিয়ামে চলছে এই বৃহৎ ঈদ জামাতের আয়োজনের কাজ। পবিত্র মদীনা শরীফের আদলে স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে প্রায় পৌনে দুই লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে প্যান্ডেল করা হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রধান ফটকে আকর্ষণীয় তোরণ নির্মান, প্যান্ডেলের অভ্যন্তরে কার্পেটিং, জামাতের ইমামের জন্য মিম্বর, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও ফ্যানের ব্যবস্থাসহ নানা ধরণের নির্মাণ কাজ চলছে।

সোমবার (০৩ জুন) বিকেলে এ কে এম সামছুজ্জোহা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ঈদ জামাতের এই প্রস্তুতি দেখতে পরিদর্শনে আসেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া।

তাদের সাথে ছিলেন র‌্যাব-১১ সিও লেফটেনেন্ট কর্ণেল কাজী শাসমের উদ্দিন চৌধুরি, বিজিবির স্থানীয় ৬২ নম্বর ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্ণেল আল আমিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহম্মেদ টিটু, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম সহ বিভিন্ন গোয়েন্দ সংস্থা এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা।

শামীম ওসমান এসময় ঈদ জামাতস্থলের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করেন।

শামীম ওসমান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি আশা করছেন এই ঈদ জামাত দেশের সবচেয়ে সুন্দর আয়োজনের এবং অন্যতম বৃহৎ জামাত হবে।

তিনি বলেন, আমার ধারনা এই জামাতে মুসুল্লির সংখ্যা দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। যদি তাই হয় তবে পাশে অবস্থিত ওসমানী স্টেডিয়ামকেও এই জামাতের আওতায় আনার পূর্ব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ষোলাকিয়ার মতো এই ঈদ জামাতও এক সময় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত হতে পারে।

এই জামাত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃংখল জামাত হবে বলে শামীম ওসমাননারায়ণঞ্জবাসীকে আশ্বস্ত করেন। এছাড়া যেহেতু পবিত্র কাবা শরীফ এবং মদীনা শরীফে মহিলাদের জামাতের ব্যবস্থা থাকে, সে অনুযায়ী আগামী ঈদের জামাতে মহিলাদের জন্যও পৃথক জামাতের ব্যবস্তা করা হবে।

সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের সাথে বিষয়টি আলোচনা করেছেন বলেও জানান তিনি। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে এটি মনে রাখে এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসক সহ নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি আহবান জানান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া জানান, কমপক্ষে দেড় লক্ষাধিক মুসুল্লি সমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সে অনুযায়ী জামাত স্থলকে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে নিরাপত্তা বেস্টনির আওতায় রাখা হবে। তিনি বলেন, ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নির‌্যাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবেই এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এর ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ঈদের পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে এ ব্যাপারে স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হবে ঈদুল ফিতরের এই বৃহত্তর জামাত। জামাতকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান ও এ কে এম সামছুজ্জোহা স্টেডিয়ামসহ জামাতস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের পুলিশ সুপার জাানান, এই বৃহত্তর ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগের রাত থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হবে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই।

পিপিবিডি/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত