• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

ময়মনসিংহে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজে পারাপার, দেখার কেউ নেই

প্রকাশ:  ০১ জুন ২০১৯, ১৪:৪৭ | আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ১৪:৪৯
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়ীয়া সড়কের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম পোড়াবাড়ী বাজারের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খিরু নদীর উপর ৩ যুগ আগে নির্মিত বেইলি ব্রিজটি। ব্রিজটি ভেঙে এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। জোড়াতালির এই ভাঙা ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ দুই উপজেলার হাজার হাজার ব্যবসায়ী, সাধারণ জনগণ ও যানবাহন। ব্রিজটি মেরামতে কিংবা পুনঃনির্মাণে আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনেও সমস্যা সমাধানে কোনও পদক্ষেপ নেই স্থানীয় প্রশাসনের। এর মধ্যে আবার ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে যাওয়ায় জনসাধারনণের চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। সতর্কতার জন্য প্রশাসন টানিয়ে দিয়েছে লাল নিশান। দুর্ভোগে পরেছে দুই উপজেলার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় পরেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক।

জানা গেছে, ত্রিশাল-ফুলবাড়ীয়াসহ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের পোড়াবাড়ী বাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খিরু নদীর উপর ১৯৮২ সালে ২৪২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থ এ বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ১০-১২ বছর পেরুতেই ব্রিজের অনেকগুলো পাটাতনে মরিচা ধরে ভেঙে পড়তে শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে যাওয়া পাটাতন দীর্ঘদিন ধরে জোড়াতালি দিয়ে চালানোর ফলে প্রতিদিন দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে অনেকেই।

দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে যানবাহন। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের। এছাড়া ওই ব্রিজ দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল নিষেধ থাকলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় কয়েকশ ভারি যানবাহন চলাচল করছে।

স্থানীয়রা জানায়, ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে ভাঙা থাকার কারণে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া ছোট বড় দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারি যানবাহনের সাথে চলাচল করছেন এই অঞ্চলের স্কুল-কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। নদী পারাপারে জনদুর্ভোগ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌমিতা, ঐশি, মেহেদী, আরাফাতসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, ওই ব্রিজ দিয়ে আসা-যাওয়া করতে আমাদের অনেক ভয় করে। স্কুলে যেতে বা নদী পারাপার হতে এটিই একমাত্র রাস্তা। তাই ঝুঁকি আর ভয় নিয়েই প্রতিদিন আমরা ব্রিজ পারাপার দিতে হয়।

স্থানীয় সাইদ জানান, কয়েক বছর আগে ব্রিজ দিয়ে হেটে পাড় হওয়ার সময় ব্রিজের পাটাতন ভেঙে নদীতে পড়ে গিয়ে মারাত্বক আহত হন পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন। পঙ্গু হয়ে এখন তিনি মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

মঠবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ মন্ডল জানান, একটি নতুন ব্রিজের আবেদন নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাপ পারছি যেন এই এলাকার জনদুর্ভোগ দুর হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী শাহেদ হোসেন জানান, পুরো ব্রিজটি সংস্কারের জন্য জেলা প্রকৌশল অফিসের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনও চিঠি আসেনি।

পিপিবিডি/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত