• মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬
  • ||

রাজার পালঙ্কে নয়, বরং ফ্লোরে ঘুমান মাগুরার ডিসি

প্রকাশ:  ৩১ মে ২০১৯, ২১:৫৫ | আপডেট : ৩১ মে ২০১৯, ২২:০১
মাগুরা প্রতিনিধি

রাজা সীতারাম রায়ের স্মৃতিচিহ্ন ও ৩০০ বছরের প্রাচীন পালঙ্কে ঘুমানোর অভিযোগ অস্বীকার করে মাগুরার জেলা প্রশাসক আলী আকবর বলেছেন, আমি ফ্লোরে ঘুমাই, রাজার পালঙ্কে ঘুমানোর প্রশ্নই ওঠে না।

১৬৮৬ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে রাজা উপাধি লাভ করেন সীতারাম রায়। প্রতাপশালী এই রাজার রাজত্বের সীমারেখা ছিল উত্তরে পাবনা এবং দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত। মাগুরার মহম্মদপুরে তিনি গড়ে তোলেন নিজের রাজধানী। এখনও কীর্তি হিসেবে এখানে রয়েছে সেই আমলের রাজপ্রাসাদ, কাচারিবাড়ি, দোলমঞ্চসহ আরও অনেক নিদর্শন। রাজত্বকালে সীতারাম রায় গড়ে তোলেন অস্ত্র তৈরির কামারশালা। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতর রাজা সীতারাম রায়ের রাজপ্রাসাদ এবং দোলমঞ্চটি সংস্কার করলেও কালের বিবর্তনে রাজপ্রসাদ থেকে হারিয়ে গেছে মূল্যবান অনেক সামগ্রী।

দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকার খবরে বলা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজা সীতারামের সেই পালঙ্কটি মাগুরার এনডিসি রাজিব চৌধুরীর সহায়তায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিসি ওই পালঙ্কে ঘুমান এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর তিনি বলেন, পালঙ্কটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসকের বাংলোতেই রয়েছে। আমার এটি আনার প্রশ্নই ওঠে না। বরং পালঙ্কটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তাই আমি মেরামত ও রঙ করিয়েছি।

তবে পালঙ্কটি কেন জাদুঘরে পাঠানো হয়নি, এ প্রশ্নের উত্তরে জেলা প্রশাসক বলেন, আমার আগের জেলা প্রশাসক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে এটি গ্রহণ করার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা এটি গ্রহণ করেনি। এই মূল্যবান সম্পত্তি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গ্রহণ না করলে আমি কি সেটা রাস্তায় ফেলে দেবো? জেলা প্রশাসক হিসেবে পালঙ্কটি সযত্নে সংরক্ষণের স্বার্থেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।

রাজার পালঙ্কে ঘুমানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আমার ফ্লোরে ঘুমানোর অভ্যাস। এখনো আমি ফ্লোরেই ঘুমাই। রাজার পালঙ্কে ঘুমানোর প্রশ্নই ওঠে না।

প্রসঙ্গত, আলী আকবর মাগুরার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন গত বছরের অক্টোবর মাসে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাগুরার সাবেক জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, আমার সময়ে এই পালঙ্ক ডিসির বাসভবনে ওঠানোর প্রশ্নই আসে না। আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি গত বছরের অক্টোবরে। আর পত্রিকার খবরে বলা হচ্ছে এটা করা হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। এছাড়া আমি জনাব আলী আকবরকে একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবেই জানি। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাহলেই বের হবে কেন এটি করা হয়েছে। এখানে ভুল বোঝাবুঝির কোনও অবকাশ নেই।

পিপিবিডি/এস.খান

ডিসি,রাজার পালঙ্ক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত