• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে বাল্কহেড আতঙ্ক

প্রকাশ:  ২৮ মে ২০১৯, ১৩:২১
বরিশাল প্রতিনিধি

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আগামী ৩০ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি যাত্রীবাহী নৌযানের স্পেশাল সার্ভিস। ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটএ)।

এদিকে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলের পথে যদি বাল্কহেড ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ না করা যায় এবং নদী পথের সাংকেতিক চিহ্ন ও বাতিগুলো ঠিক রাখা না যায়, তবে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে, এমন কথাই জানিয়েছেন লঞ্চের মাস্টাররা।

পাশাপাশি যাত্রীবাহী নৌ-রুটে জাল ফেলে মাছ শিকার বন্ধে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা। যদিও এ বিষয়ে কার্যকর পদেক্ষপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চ-স্টিমার ও জাহাজের যাত্রা নিরাপদ করতে রাতে যাত্রীবাহী নৌ-রুটে বাল্কহেডসহ পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া বিশেষ করে ঈদ-কোরবানির মৌসুমে স্পেশাল সার্ভিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দিনে ও রাতে সবসময় বাল্কহেডসহ পণ্যবাহী নৌযান অর্থাৎ যাত্রীবাহী নৌযানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনাও রয়েছে।

তবে রাতে বাল্কহেডসহ পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন লঞ্চের মাস্টাররা। একারণে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা। যার মধ্যে গত ২১ মে রাতে ঢাকা থেকে লালমোহনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি গ্লোরি অব শ্রীনগর-২ লঞ্চটির সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের সংঘর্ষ হয়।

মেঘনায় ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় লঞ্চটির ডানদিক পানিতে নিমজ্জিত হলেও প্রায় আড়াইশ যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তিনদিন পর ২৪ মে রাতে কয়েকশ যাত্রী নিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এমভি মানামী।

মধ্যরাতে ঝড়ের কবলে যখন মেঘনায় লঞ্চটি নিরাপদ আশ্রয়ে যায় তখন হঠাৎ কোনো ‘বস্তু’ লঞ্চটির মাঝ বরাবর ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চের নিচতলা ও দ্বিতীয়তলার কেবিনসহ বেশকিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। একইরাতে পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় তিনশ যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে প্রথমে ঝড়ে ও পরে ভাটার কারণে আটকে পরে এমভি যুবরাজ-৭ লঞ্চ। সব প্রতিকূলতা এড়িয়ে সকালে যখন লঞ্চটি যাত্রা শুরু করে, তখন মেঘনা নদীর মিয়ারচরে পৌঁছালে একটি বাল্কহেড সেটিকে ধাক্কা দেয়।

ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তলা ফেটে গেলে লঞ্চটিকে চরে তুলে দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো হয়। অপরদিকে বাল্কহেডটি ডুবে গিয়ে মিয়ারচরে নৌযান চলাচলের চ্যানেলটি আটকে যায়। এর পরের রাত থেকেই ঢাকা-বরিশাল রুটের বিলাশবহুল লঞ্চগুলোকে কালিগঞ্জ রুট থেকে ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।

এমভি সুন্দরবন লঞ্চের মাস্টার আলমগীর হোসেন বলেন, মিয়ারচর চ্যানেলে বাল্কহেড ডুবির ঘটনার পর বড় লঞ্চগুলোকে মেহেন্দিগঞ্জের কালিগঞ্জ রুট হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় ১ ঘণ্টা বেশি লাগছে, তেমনি খরচও বাড়ছে। এদিকে মিয়ারচরের রুটটিতে ডুবোচর রয়েছে। আরএ রুটটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় চালকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যাদের পানি মাপার যন্ত্র (ইকোসাউন্ডার) রয়েছে তারা চলাচল করতে পারলেও বেশিরভাগ লঞ্চকেই বিপদে পড়তে হবে। আবার কালিগঞ্জ জায়গাটি মেঘনার ডেঞ্জার জোন এলাকার মধ্যে। মিয়ারচর দিয়ে যেমন স্বাচ্ছন্দ্যে নৌ-যান চালনা করা সম্ভব হয়, কিন্তু এখান থেকে ততটাই প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়। মেঘনার এখনটায় পানির সঙ্গে বাতাসের চাপও বেশি, অল্প বাতাসেই প্রচুর রোলিং থাকে এখানে। চালকের একটু ভুলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

তিনি বলেন, মূল কথা হচ্ছে রাতে অবৈধভাবে নদীতে যারা বালু উত্তোলন করে তাদের যেমন ঠেকাতে হবে, তেমনি যাত্রীবাহী নৌ-যান চলাচলের রুটে রাতে বাল্কহেড- কার্গোসহ ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে, পাশাপাশি মাছ শিকারের জাল ফেলাও বন্ধ করতে হবে। নয়তো দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকেই যাবে।

আর মানামী লঞ্চের মাস্টার মো. আসাদ জানান, রাতে নৌ-রুটে বিশেষ করে চাঁদপুর থেকে ঢাকার দিকে বাল্কহেড-কার্গো চলাচল করে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এগুলোর বেশিরভাগই সনাতন পদ্বতিতে চলাচল করায় আমাদের চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। নৌ-পথের আতঙ্ক এখন এগুলোই।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক ও নদী বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এবারে ঈদের আগে ও পরে সাত দিন করে দিনে ও রাতে বাল্কহেডসহ ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া রাতে সবসময় যাত্রীবাহী নৌ-রুটে এসব নৌযান চালনা করা নিষিদ্ধ। আইন-অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে যাত্রীবাহী নৌযানের রুটে মাছ ধরার জাল ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে গত বৃহস্পতিবার (২৩ মে) অনুষ্ঠিত বিশেষ এক সভায় জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান।

পিপিবিডি/আরএইচ

বরিশাল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত