Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
  • ||

নির্যাতিত সেই মায়ের দায়িত্ব নিলো গফরগাঁও থানা পুলিশ

প্রকাশ:  ২৮ মে ২০১৯, ১০:৪৭
গফরগাঁও প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উথুরী গ্রামে হাজেরা বেগম(৮০) নামে এক বৃদ্ধা মাকে মারধর করে খোলা আকাশের নীচে ফেলে রাখে তার সন্তান। সেই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন গফরগাঁও থানার ওসি মোহাম্মাদ আহাদ খান।

সোমবার (২৭ মে) রাতে গফরগাঁও থানার ওসির অফিস কক্ষে অসহায়, ছেলেদের হাতে নির্যাতিত বৃদ্ধা মাকে তার সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে গফরগাঁও থানার ওসি বরাবর উপজেলার উথুরী গ্রামের বাসিন্দা তিন ছেলে আব্দুস সাত্তার (৫০), সোহরাব উদ্দিন (৪৫) ও সাইফুল ইসলামের (৪০) বিরুদ্ধে ভরণপোষন না করা, জমিজমা লিখে নেওয়াসহ প্রতিনিয়ত নানারকম নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন বৃদ্ধা অসহায় মা হাজেরা বেগম (৮০)।

বৃদ্ধা হাজেলা বেগমের অভিযোগ ছিল প্রায় ১৬ বৎসর পূর্বে স্বামী মারা যাওয়ার সময় হাজেরা বেগমের নামে ১২ কাঠা জমি লিখে দেয়। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেরা হাজেরা বেগমকে কিছুদিন ভরণ পোষণ করে। এক র্পযায়ে ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম গোপনে জোর করে মা হাজেরা বেগমের কাছ থেকে ১২ কাঠা জমি নিজের নামে লিখে নেয়।

এ খবর পাওয়ার পর অন্য ছেলেরা মায়ের ভরণ পোষণ ও খোঁজ খবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় হাজেরা বেগম ছোট ছেলে সাইফুলের সংসারে খাওয়া দাওয়া করতেন। কিন্তু সাইফুলের সংসারে দিন দিন মা হাজেরা বেগমের আদর কমতে থাকে। এমনকি সাইফুল মাকে ভাত কাপড়েও কষ্ট দিতে থাকে।

তিন বেলার মধ্যে কখনো এক বেলা খাবার দিত, কখনো এক বেলাও খাবার দিতনা। উল্টো ছেলে সাইফুল মাকে মারধর অত্যাচার করতো। এ অবস্থা স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে। কিন্তু জমি লিখে নেওয়ায় বিচার সালিশে ছোট ছেলে সাইফুলকেই মা হাজেরা বেগমের ভরণ পোষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাইফুল কোন বিচার সালিশ না মেনে গত বৃহস্পতিবার সকালে মা হাজেরা বেগমকে মারধর করে বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নীচে ফেলে রাখে।

টানা ৩ দিন বৃদ্ধা হাজেরা বেগম না খেয়ে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে পড়ে ছিলেন। এতে হাজেরা বেগম অসুস্থ্য হয়ে পড়লে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস ছোবাহান কালা মিয়া প্রতিবেশীদের সহায়তায় বৃদ্ধা হাজেরা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

শনিবার ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় হাজেরা বেগম ছেলেদের বিচার চেয়ে গফরগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ রোববার বিকেলে হাজেরা বেগমের ছেলে আব্দুস সাত্তার ও নাতী তাফাজ্জলকে আটক করলেও অন্য ছেলেরা পালিয়ে গেছেন। সোমবার রাদ সাড়ে দশটার দিকে হাজেরা বেগমের তিন ছেলে ও পুত্রবধূ এবং নাতীরা গফরগাঁও থানায় উপস্থিত হয়ে হাজেরা বেগমের পা ধরে ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে মায়ের সাথে এ রকম আচরণ করবে না বলে মুচলেকা দেয়।

এ সময় থানা পুলিশ গফরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম খোকন, গফরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ দলীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্যাতিতা বৃদ্ধার মা’র দায়িত্ব তার ছেলেদের হাতে তুলে দেন এবং বৃদ্ধা মা’কে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ইফতার, সেহরী সমগ্রী ও ঈদ উপহার দেওয়া হয়।

গফরগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ খান বলেন, ছেলেরা ভুল বুঝতে পেরে মাফ চাওয়ায়, বৃদ্ধা মা তার সন্তানদের মাফ করে দেওয়ায় সর্বোপরি মানবিক কারণে বৃদ্ধা মা’কে সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

গফরগাঁও সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, এই বৃদ্ধা মায়ের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখার জন্য গফরগাঁও থানার একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন ছেলে এই বৃদ্ধা মায়ের সাথে অসদাচারণ করলে তাকে এবার ছাড় দেওয়া হবে না।

পিপিবিডি/আরএইচ

গফরগাঁও
apps

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত