• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

রোগী আসলেই কুড়িগ্রাম ও রংপুরে রেফার্ড, নামেই ৫০ শয্যা

প্রকাশ:  ২০ মে ২০১৯, ১৫:২৭
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। কমপ্লেক্সটি দু’টি ভবন নিয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের। সঙ্গে রয়েছে জনবল সংকট।

এখানে নেই কোনো এক্সরে মেশিন, ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদীর অভাবে পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। একাধিক রোগীর অভিযোগ- এসব কারণে ঝামেলা এড়াতে চিকিৎসকরা চ্যালেঞ্জ না নিয়ে রোগীদের রেফার্ড করে দেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ১৫ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমান আছেন মাত্র ৩ জন এবং ১৭ জন সাধারণ চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন ৪ জন। অত্র হাসপাতালে অভিজ্ঞ ও সাধারণ মিলে ২৭ জন চিকিৎসকের স্থলে বর্তমানে মাত্র ৭ জন চিকিৎসক রয়েছেন। হাসপাতালটিতে ২০০৫ সালে জনসাধারণকে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষে সরকার অত্যাধুনিক মানের একটি এক্সরে মেশিন বরাদ্দ দেন। মেশিনটি আসার পর থেকে কয়েক দিনের মধ্যে যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দেয়। ফলে মেশিন স্থাপনের কিছুদিন পর থেকেই তা বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ইসিজি মেশিন, অপারেশন থিয়েটার, রোগী কল্যাণ সমিতিসহ রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বেশ কিছু সরঞ্জামের একই অবস্থা।

সোমবার (২০ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা ওয়ার্ডে মাত্র ৪ জন ও পুরুষ ওয়ার্ডে মাত্র ৫জন রোগী চিকিৎসা নেয়ার জন্য কাতরাচ্ছেন। হাসপাতালের বেডের রোগীদের অভিযোগ- ২৪ ঘন্টায় ডাক্তার মাত্র ১ বার (রাউন্ড) ঘুরে যায়। এমনকি কখনও ২দিন পর ১ বার ডাক্তার রাউন্ড দেয়। আর প্যারাসিটামল ছাড়া বাহির হতে সব ধরণের ঔষুধ কিনতে হয়। তাছাড়া আর কোন ঔষুধ সহজে মিলছে না এই হাসপাতালে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভর্তিকৃত একাধিক রোগী জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত রোগী, মাথা ফাটা, মাথা ও পেট ব্যথা, ৩দিনের বেশী জ্বর, ডেলিভারি, অর্শ্ব, পাইলস্, নাক-কান-চোখের সমস্যাসহ অপারেশন করতে হয় এমন রোগী এলেই সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেয় কুড়িগ্রাম ও রংপুর হাসপাতালে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটে সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

মেডিকেল অফিসার ডাঃ আতিকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ৩ জন মেডিকেল অফিসারের পক্ষে সেবা দেয়া খুবই কষ্টকর।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ এ.এইচ.এম. বোরহান-উল-ইসলাম বলেন, হাসপাতালটিতে ১৫ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমান রয়েছে মাত্র ৭ জন। হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগে প্রতিদিন আউটডোরে ৩০০/৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পাশাপাশি ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন ৪০/৫০ জন রোগী। তাই সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট হাসপাতালটির সমস্যা নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আশা করছি অতি শীঘ্রই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

পিপিবিডি/আরএইচ

কুড়িগ্রাম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত