Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
  • ||

যৌন হয়রানি মামলায় যোগীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

প্রকাশ:  ১৬ মে ২০১৯, ১৫:৪৩ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ১৫:৪৫
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

রাজশাহীতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক এক যুবককে কানটানা সাজা দিয়ে ছেড়ে দেয়ার ঘাটনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে ওসি আতাউর রহমান জানান।

মোস্তফা কামাল যোগীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোননিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোস্তফা কামাল।

ওসি বলেন, স্কুলছাত্রীর যৌন হায়রানির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে আদালতে চালান দেয়া হয়। স্কুলছাত্রীর যৌন হয়রানির ঘটনায় এক যুবককে সহযোগিতা দেয়ায় ওই মামলা তাকে আসামী করা হয়েছে।

বাগমারা উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বারুইহাটি গ্রামে গত ৩ মে এক স্কুলছাত্রীকে ভুট্টা ক্ষেতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক যুবক। ‘হাতেনাতে আটক’ যুবক তৌহিদ আলীকে (২৫) নামমাত্র সালিশে কানটানা সাজা দিয়ে ছেড়ে দেয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। বিষয়টি মিডিয়ায় আসলে গত ৫ মে স্কুলছাত্রীর দাদা বাদি হয়ে বাগমারা থানায় মামলা করে। পরের দিন পুলিশ তৌহিদকে গ্রেফতার করে।

তৌহিদ আলী একই গ্রামের এহিয়া আলীর ছেলে। এহিয়া কুদাপাড়া মাদরাসা শিক্ষক। বিবাহিত তৌহিদ সম্প্রতি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেছে।

শিশুটির স্বজনরা অভিযোগ করেছিলেন, স্থানীয় স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী (১২) ৩ মে সকালে প্রতিবেশী এক ছোটভাইকে নিয়ে মাঠে ঘাস কাটতে যায়। বেলা ১১টার দিকে তৌহিদ শিশুটিকে জোরপূর্বক ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিল, এ সময় ওই দুই শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তৌহিদকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তাকে মারপিট করে আটকে রাখে গ্রামবাসী। বিকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তৌহিদকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে সালিশ বৈঠক বসিয়ে কান ধরে ক্ষমা চাওয়ার পর তৌহিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের পর ওই যুবকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নামমাত্র সালিশ বৈঠক বসানোর পর তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। ধর্ষণের চেষ্টাকারি তৌহিদ কান ধরে ক্ষমা চাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ জমা হয়েছে।

আপস-মীমাংসার জন্য অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে যোগিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেছিলেন, “বিষয়টি জানার পর গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে ওই ছেলেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে মেয়ের পিতাকে মামলা করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু মেয়ের কথা ভেবে সে রাজি হননি। সে কারণে সালিশ বৈঠক বসিয়ে আপোস-মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছিল।”

ছেলেটি শুধু মেয়েটির গায়ে হাত দিয়েছে এবং কামড় দিয়েছে, ধর্ষণের চেষ্টা করেনি দাবি করে মোস্তফা কামাল আরও বলেছিলেন, “সালিশ বৈঠকের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তাদের অনুমতিক্রমে ৪০ থেকে ৫০ জন লোকের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক করে মীমাংসা করা হয়। সালিশ শেষে তৌহিদ কান ধরে সকলের কাছে ক্ষমা চায় এবং আর কোনদিন এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এ নিয়ে তার কাছে লিখিতও নেওয়া হয়েছে।

বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেছিলেন, মাঠের মধ্যে এক মেয়ের গায়ে এক ছেলে হাত দিয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে শুনেছি। তবে এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ওসি।

পিপিবিডি/আরএইচ

রাজশাহী
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত