Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

চুয়াডাঙ্গায় নেই টিসিবির পণ্য

প্রকাশ:  ১৬ মে ২০১৯, ১৪:০৭
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

রমজানে ১০টি রোজা শেষ হলেও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশর (টিসিবি) ১০টি ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি এখনও শুরু হয়নি। পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দামের সঙ্গে বাজার দামের তারতম্য থাকায় ডিলাররা খুলনা থেকে পণ্য এনে বিক্রি করতে আগ্রহী হচ্ছে না।

খুলনা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশর (টিসিবি) আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গায় জেলায় ১০টি টিসিবি ডিলার রয়েছে। এগুলো হলো সদর উপজেলার তালতলায় মেসার্স সপ্না কন্সট্রাকশন, জীবননগর উপজেলা শহরের বাজারে মেসার্স সাগর কুমার বিশ্বাস, একই উপজেলার চ্যাংখালী সড়কে মেসার্স সাইদুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের বাজারে মেসার্স কাকুলী ট্রেডার্স, মেসার্স আলম ট্রেডার্স ও কাচারীবাজারের মেসার্স হেলাল ট্রেডার্স, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে মেসার্স নিতুন ট্রেডার্স, দর্শনা রেলবাজারের মেসার্স আব্দুস সাত্তার, দামুড়হুদা উপজেলা শহরের দশমীপাড়ার মেসার্স জব্বার এন্টারপ্রাইজ ও জুড়ানপুর গ্রামের মেসার্স মোখলেছুর রহমান এন্টারপ্রাইজ।

আসছে রোজার মাসে ন্যায্য দামে ছোলা, মশুরডাল, চিনি, খেজুর ও সয়াবিন তেল বিক্রির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গত ২৩ এপ্রিল থেকে দেশের অন্যান্য স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হলেও চুয়াডাঙ্গায় এখনও শুরু হয়নি।

এদিকে টিসিবি পণ্য না তুলে রোজার মাসে বাজার অস্থিতিশীল করা এবং সরকারকে অসহযোগীতা করে জনগণকে বঞ্চিত করার অভিযোগে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জেলার ৮টি টিসিবি ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের জন্য ঢাকা কারওয়ানবাজারের ঠিকানায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দেন। ওই চিঠি বিষয়ে সাড়া না মেলায় আবারও জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর পূণরায় আরেকটি চিঠি দেন ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের জন্য। কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় টিসিবির নতুন ডিলার না হওয়ায় এটা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন খুলনা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশর (টিসিবি) আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-উর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী রবিউল মোর্শেদ।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা শহরের বাজারের টিসিবির ডিলার সাগর কুমার বিশ্বাস বলেন, বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে টিসিবি পণ্যের তারতম্য হওয়ায় লোকসান হবে ভেবে আমি টিসিবি পণ্য তুলছি না। তবে বাজার ছাড়া টিসিবি পণ্যের যদি দাম কম থাকে তাহলে সবাই আলোচনা করে পণ্য তুলবেন বলে তিনি জানান।

দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বাজারের ডিলার আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি ডিলারশীপ বাতিলের জন্য অনেক আগেই আবেদন করেছেন। সে কারণে তিনি পণ্য তোলার ব্যাপারে ভাবছেন না।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ডিলার মেসার্স কাকুলী ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধীকারী সিরাজুল ইসলাম ও মেসার্স হেলাল ট্রেডার্সের স্বত্তাধীকারী ফজলুল হক বলেন, আমরা বরাবরই যৌথভাবে খুলনা থেকে ট্রাক ভাড়া করে টিসিবি পণ্য তুলে নিয়ে এসে আলমডাঙ্গায় বিক্রি করি। এবারও সেভাবে আমরা পণ্য তুলবো।

চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের মেসার্স আহসান স্টোরের সত্ত্বাধীকারী কামাল উদ্দীন জানান, তিনি চিনি ৫৪ টাকা, মশুর ডাল ৫৪ টাকা থেকে প্রকার ভেদে ১০০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা কেজি ও সয়াবিন তেল ৯২ টাকা লিটার দরে বিক্রি করছেন।

খুলনা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশর (টিসিবি) আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-উর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী রবিউল মোর্শেদ জানান, আমরা চিনি ৪৭ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, মশুর ডাল ৪৪ টাকা কেজি দরে ও সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি করছি। যে ডিলার ট্রাকে করে টিসিবি পণ্য বিক্রি করবে তাকে ১৩৫ টাকা কেজি দরে খেজুর সরবরাহ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গার ডিলাররা টিসিবি পণ্য তুলছেনা। এতে ক্রেতা সাধারণ সরকারের ন্যায্য দামে পণ্য কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

টিসিবি ডিলারদের অসহযোগীতা করার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, খুব শিঘ্রই ডিলারদের নিয়ে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পিপিবিডি/আরএইচ

চুয়াডাঙ্গা
apps

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত