Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
  • ||

ফেনীতে বোরো ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকের মাথায় হাত

প্রকাশ:  ১৪ মে ২০১৯, ০১:০৮
ফেনী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

ফেনীতে বরাবরের মতো এবারও ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকের মাথায় হাত। উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করেছে। কেজি প্রতি ২৬ টাকা অর্থ্যাৎ প্রতিমণ ধান এক হাজার ৪০ টাকা দরে দাম পাবে কৃষক। কিন্তু সরকারিভাবে এখনও শুরু হয়নি ধান কেনা কার্যক্রম। তাই বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক দামে উৎপাদন খরচের থেকেও কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে হাঁড় ভাঙা পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এমন অবস্থা চলতে থাকলে ধান চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষক।

জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এবার ফেনী জেলার ছয় উপজেলায় ২৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষাবাদ হয় ৩০ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। আর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৬ মেট্রিক টন।

চলতি বোরো মৌসুমে সব ধরনের কৃষি পন্যের দাম বাড়ার কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। বর্তমান বাজারে বোরো ধান ব্রি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০, ব্রি -২৯ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ ও ব্রি-৫৮ ও বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে। ধানের এমন দাম পেয়ে বিপাকে পড়েছেন এ জেলার ধান চাষিরা।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের ধান চাষি আবুল হোসেন জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। এবার প্রতি বিঘা বোরো চাষে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তার দেয়া হিসাব মতে, এক বিঘা জমিতে বীজ ও বীজতলা তৈরি বাবদ ১১শ টাকা, হালচাষ ১২শ টাকা, সেচ খরচ বাবদ ১ হাজার ২০০ টাকা, সার বাবদ এক হাজার টাকা, কীটনাশক বাবদ এক হাজার টাকা, পরিচর্যা বাবদ দুই হাজার টাকা ও ধান কাটা বাবদ চার হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভালো ফলন হলে ১ বিঘা জমিতে সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ মন ধান হয়ে থাকে। সে হিসেবে ৫০০ টাকা মন হলে ১৮ মন ধানের বিক্রি দাম হয় ৯ হাজার টাকা। তাই প্রতি বিঘায় প্রায় ৩ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

তবে সবচেয়ে বেশি লোকসানে পড়েছে এ জেলার বর্গা চাষিরা। উৎপাদিত ফসলের ভাগ জমির মালিককে দেয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

একই এলাকার কৃষক এয়াকুব মিয়া বলেন, এবার ফসল ভালো হয়েছে। শ্রমিক সংকটে দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দিয়ে ধান কাটানো হচ্ছে। ধান কাটা বাবদ বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। তাই আমাদের এবার অনেক লোকসান হচ্ছে। কিন্তু খরচ তোলা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার জানান, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে। সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন। জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন জানান, বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমে এবার জেলায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। যা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও মনে করেন তিনি। আগামী সপ্তাহ থেকে জেলার ছয় উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য দামে ধান কেনা শুরু হবে।

এদিকে ধান চাষে কৃষকদের আস্থা ও উৎসাহ যোগাতে দ্রুত ধানের ন্যয্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি দেয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছেন এ জেলার কৃষকরা।

পিপিবিডি/জিএম

ফেনী,ফসলের ন্যায্য দাম,কৃষকের মাথায় হাত
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত