Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
  • ||

দুদক চেয়ারম্যানের বেয়াই পরিচয়ে হাতিয়ায় দুর্নীতি

প্রকাশ:  ১৩ মে ২০১৯, ১০:৫৪
হাতিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

হাতিয়া উপজেলায় দুদক চেয়ারম্যানের বেয়াই পরিচয়ে চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন অনুমোদন ছাড়াই ৩টি ফসলি জমিতে ইটভাটা করে সেখানে পোড়াচ্ছে সবুজ বনায়নের কাঠ। এ ছাড়াও ওই ব্যক্তি উপজেলার ডাক বাংলোর সামনে জেলা পরিষদের খাল দখল করে তিনতলা মার্কেটও নির্মাণ করেছেন। এতে খালের পানি চলাচলের গতিপথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ফারুক ও চরবগুলা গ্রামের বাসিন্দা বাবুল উদ্দিন জানান, বিএনপি নেতা মনির উদ্দিন দুদক চেয়ারম্যানের বেয়াই পরিচয়ে উপজেলার তমরদ্দি, চর কিং ও সোনাদিয়া ইউনিয়নে ফসলি জমির মধ্যে অনুমোদন ছাড়াই তিনটি ইটভাটা তৈরি করেন।

ভাটাগুলোর আশপাশে কোনো কয়লা না থাকায় তিনি বন বিভাগের সবুজ বনায়নের গাছ কেটে ইটভাটায় পোড়াচ্ছেন।

তারা আরো জানান, ওই ইটভাটাগুলোতে তমরদ্দি বলির পুল এলাকার সরকারি বেড়িবাঁধ কেটে মাটি নিয়ে ইট তৈরি করছে। এতে বেড়িবাঁধের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ শামীম জানান, বেড়িবাঁধের মাটি কেটে ইট নির্মাণের বিষয়ে আমরা ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। কোনো প্রতিকার পাইনি। দুদক চেয়ারম্যানের বেয়াই হওয়ার সুবাদে কেউ মনিরের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। উপজেলা সদরের বাসিন্দা হাবিব উল্যা, মহি উদ্দিন মহিম ও নজরুল ইসলাম বলেন, হাতিয়া উপজেলা পরিষদ ও হাতিয়া থানার সামনে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন খালে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে সেই খালের ওপর তিনতলা মার্কেট নির্মাণ করেছেন মনির উদ্দিন।

দুদক চেয়ারম্যানের আত্মীয় হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন মার্কেট নির্মাণে কোনো বাধা প্রদান করেনি। এ খাল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক হাজার কৃৃষক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বন্ধ হয়ে যাবে ফসল উৎপাদন এবং বর্ষায় খালের উপচে পড়া পানিতে তলিয়ে যাবে কয়েক হাজার একর জমির ফসল, সড়ক, প্রশাসনিক ভবন ও উপজেলা শহর।

এদিকে সরকারি জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ ও অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের প্রতিবাদে ঝড় উঠেছে। চর কিং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইন্সেস নিলেও বাংলা চিমনিতে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে ওই ইটভাটায়। কাঠ পোড়ানোর ফলে, পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

হাতিয়া পৌর মেয়র একেএম ইউসূফ আলী বলেন, খালের ওপর নির্মিত ভবনের পৌরসভার কোনো অনুমোদন নেই। খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করায় জনদুর্ভোগের আশঙ্কার কথাও বলেন তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তর নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তিনটি ইটভাটার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান। তবে, অভিযোগ পেলে ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ড. মাহে আলম বলেন, জেলা পরিষদের খালের ওপর নির্মিত ভবনটি নির্মাণে জেলা পরিষদের কোনো অনুমোদন নেই। তবে অন্য কোনো দপ্তর থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে কি না তা সঠিক জানেন না তিনি। হাতিয়া সরকারি দ্বীপ কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, আমাদের কলেজের ১৫ ফুট-১০০ ফুট সম্পত্তি মনির উদ্দিন জোরপূর্বক দখল করে আবাসিক হোটেল নির্মাণ করায় ইউএনও, হাতিয়া ও এসি ল্যান্ড এর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। পেশী শক্তি ও রাজনৈতিক ক্ষমতায় বলিয়ান হয়েই এই ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনির উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মোবাইলটি বন্ধ পাওয়ায় মন্তব্য নেয়া যায়নি।

পিপিবিডি/পিএস

হাতিয়া,দুদক,দুর্নীতি
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত