Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
  • ||

কুমিল্লায় ফিল্মি স্টাইলে তরুণীকে গণধর্ষণ, ইউপি সদস্য আটক

প্রকাশ:  ১১ মে ২০১৯, ১০:৩০ | আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ১০:৫৬
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক তরুণীকে (২০) ফিল্মি স্টাইলে পালাক্রমে গণধর্ষণের অভিযোগে এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। ওই ইউপি সদস্য হলেন, উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নবীরুল ইসলাম নবী (৩০)। তিনি সূর্যপুর গ্রামের মৃত মো. সামসুল হকের ছেলে।

শুক্রবার (১০ মে) দুপুরে দেবিদ্বার থানায় ওই তরুণী একটি লিখিত গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিকাল সাড়ে ৩টায় ওই ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

তরুণী লিখিত অভিযোগে জানান, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দুপুরে তিনি তার স্বামীকে নিয়ে ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুরের রাস্তা দিয়ে স্বামীর বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার প্রান্তি গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলামের নেতৃত্বে শামিম, আকাশ, পাখিসহ অজ্ঞাত আরও ৮/৯ জন তাদের গতিরোধ করে। তারা তরুণীর স্বামীর পরিচয় জানতে চায়।

তারা দুজন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলে ইউপি সদস্য নবীরুল তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান। পরে ওই তরুণীর স্বামী বিয়ের কাগজপত্র দেখালে ওই ইউপি সদস্য ওই কাগজপত্র দেখে ভুয়া বলে আখ্যায়িত করে এবং বলে ওই কাগজপত্রে হবে না। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে নবীরুলের সঙ্গে থাকা আকাশ নামে এক যুবক ওই তরুণী ও তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা দিলে তা সমাধান করে দেবে বলে প্রস্তাব করে। পরে ওই তরুণীর স্বামী টাকার ব্যবস্থা করার জন্য স্ত্রীকে ইউপি সদস্য নবীরুলের হেফাজতে রেখে চলে যান।

ওইদিন সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে আসেন তরুণীর স্বামী। ২০ হাজার টাকা নেওয়ার পর স্ত্রীকে রেখে স্বামীকে নিজের বাড়ি প্রান্তি গ্রামে চলে যেতে বলেন ওই ইউপি সদস্য। তার হেফাজতে রেখে ওই তরুণীর বাড়ি কুমিল্লার ছোটরায় এলাকায় পৌঁছে দিবে বলেও জানায় ওই ইউপি সদস্য। পরে স্বামী প্রাণভয়ে তার নিজের বাড়ি চলে গেলে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম শামিম, পাখি, আকাশসহ আরও কিছু অজ্ঞাত যুবকের হাতে ওই তরুণীকে তুলে দেয়। তারা তরুণীকে ওই রাতেই বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ভানী ইউনিয়নের ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়।

পরে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আকাশ। ফোনে তরুণীসহ তাদের অবস্থানের জায়গার নাম জানানো হয় ইউপি সদস্য নবীরুলকে। পরে ইউপি সদস্য নবীরুল জঙ্গলে এসে ওই তরুণীকে দুইবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ইউপি সদস্য নবীরুল ভুক্তভোগী তরুণীকে পাখি, আকাশ ও শামীমদের হাতে তুলে দিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরে ৭/৮ জন যুবক ওই তরুণীকে পুনরায় পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। পরে ওই তরুণীকে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী মেম্বারসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণেরর অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের মুখে একে অপরকে ডাকার সময় ২-৩ জনের নাম জানতে পেরেছি। বাকিদের নাম বলতে পারবো না।

ওই তরুণী আরও বলেন, আমি চিৎকার করার চেষ্টা করলেও করতে পারেনি। তারা আমার হাত-মুখ চেপে ধরে রাখে। এর আগে আমার স্বামীর অনুপস্থিতেতে আমার হাতে কনডম দিয়ে আমাকে খারাপ মেয়ে বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মোবাইলে ভিডিও করা হয়।

এ ব্যাপারে ভানী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান মুকুল বলেন, ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর জানতে পারলাম। নিশ্চয়ই এখানে কোন চক্রান্ত লুকিয়ে আছে। ওই তরুণী এতদিন কেন কালক্ষেপণ করলেন? সত্যিকারে যদি এ ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, ইউপি সদস্য নবীরুলকে আটক করা হয়েছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল রিপোর্টের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিপিবিডি/পিএস/এআর

কুমিল্লা,গণধর্ষণ,তরুণী
apps

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত