• রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯
  • ||

কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু কথা

প্রকাশ:  ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১৬:১২ | আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১৬:১৮
মনজুর রশীদ

জ্ঞান হওয়ার পর থেকে যতগুলো বিশ্বকাপ দেখেছি, তারমধ্যে সবচেয়ে ছোট একটা আয়োজক দেশ হিসেবে কাতার ইতিহাস গড়তে চলেছে। গত রোববার (২০ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া ইভেন্টের আয়োজক এই দেশের বিরুদ্ধে মুসলিম ও রক্ষণশীল দেশ ছাড়াও পশ্চিমা দেশগুলো একটানা কাতারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও কুরুচিপূর্ণ প্রচার চালিয়ে গেছে। তার জের ধরেই সম্প্রতি কাতারের জাতীয় ফুটবল দলকে ব্যঙ্গ করে প্যারিসে ইসলামবিদ্বেষী কার্টুন আঁকা হয়েছে, অনেক তথাকথিত উন্নত দেশের ফুটবলপ্রেমীরা কাতার বিশ্বকাপ বয়কটের ক্যাম্পেইন করেছে। এতকাল ধরে দেখে আসা বিশ্বকাপের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে থাকা নর-নারীর অবাধ যৌন আচরণ, সমকামিতা এবং অ্যালকোহলের নিষিদ্ধতার কঠোর বিধিবিধান প্রয়োগের কঠোরতা থাকায় সবকিছু ছাপিয়ে সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে শুধুই ফুটবল খেলা- যা বিশ্বকাপের মত আসরে বিরল ঘটনা।

কাতার বিশ্বকাপ তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে যেভাবে উপস্থাপন করেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা বিতর্ক থাকলেও এ বিষয়ে সকলেই একমত হবেন যে; এমন আরব্য উপাখ্যান দেখার সুযোগ বিশ্ব এই প্রথমবারের মতই পেয়েছে- যা সকল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে ছিল ব্যতিক্রম ও প্রশংসা পাওয়ার মতো।

কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হওয়ার পর যতটা অবমাননার শিকার হয়েছে, এর আগে অন্য কোনও দেশ ততটা হয়েছে কিনা অন্তত আমার জানা নেই। কিন্তু কোনকিছুকে তোয়াক্কা না করে বিশ্বকাপের ২২তম আসরের আয়োজক দেশ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দোহা বিশ্বের সামনে উপস্থাপনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে। এরজন্য তারা হাইড্রোকার্বন শিল্প থেকে উপার্জিত আয়কে দেশের নানা ধরনের অবকাঠামো, বিশেষ করে রাস্তাঘাট, পরিবহন এবং প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের জন্য ব্যবহার করেছে। কাতারিরা দ্রুত নিজেদের তথ্যপ্রযুক্তির আগ্রহী ব্যবহারকারীতে রূপান্তরিত করেছে।

বিশ্বকাপের আয়োজক শহর হিসাবে কাতার দোহাকে অনেকটা পুরানো আরব্য গ্রাম থেকে একটা আধুনিক ঝকমকে শহরে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। অল্প জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশটা বিভিন্ন প্রবাসী সম্প্রদায়ের বাসযোগ্য জনপদে পরিণত করতে দ্রুতগতিতে আধুনিকীকরণে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। এটা এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এমন এক শহর- যা কাতারিদের আরও বেশি ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করেছে, আরও বেশি কানেকটিভিটি দিয়েছে, ই-গভর্ন্যান্স এবং ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও অনেক বেশি দক্ষ করে তুলেছে। এ ছাড়া বিশ্বের তাবৎ কূটনীতিকরা ইতোমধ্যেই কাতারকে ‘সফট পাওয়ার’ এবং ‘স্মার্ট পাওয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে।

যারা অনেক সংকোচ ও ক্ষুব্ধটা নিয়ে এদেশে বিশ্বকাপ দেখতে ভিড় জমিয়েছেন, বিশ্ব গণমাধ্যমসমূহে প্রতিনিয়তই দেখছি তারাই কাতারের আতিথেয়তা ও আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বের এ যাবতকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফুটবলের বৃহত্তম এই কার্নিভ্যাল আয়োজনে কাতার যে অভিনব কৃতিত্ব ও জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখিয়ে যাচ্ছে, তা থেকে বলা যেতেই পারে কাতার সম্পর্কে পশ্চিমা তথা বিশ্ববাসীর কাছে যে ধরনের সনাতনী ও নেতিবাচক ধারণা ছিল, সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে তারা সে সব ধারণা বেশ ভালোভাবেই বদলে দিতে পারবে বলে আশা করা যেতেই পারে!

কাতার বিশ্বকাপ,ফুটবল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close