• সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯
  • ||

বার্সার ইউরোপা লিগ স্বপ্ন ভেঙে দিলো ফ্রাঙ্কফুর্ট

প্রকাশ:  ১৫ এপ্রিল ২০২২, ০৯:৫৭
স্পোর্টস ডেস্ক

ন্যু ক্যাম্প, বার্সেলোনার ঘরের মাঠ। নিজ দর্শকদের সমর্থন নিয়ে এই মাঠেই কত ইতিহাস গড়েছে, কত দৈত্যবধ করেছে বার্সা! আজ সেই মাঠেই কি-না অচেনা এক পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়েছিল দলটি। জার্মানি থেকে ৩০ হাজার দর্শক এসে হাজির হয়েছিলেন ন্যু ক্যাম্পের গ্যালারিতে।

শুরু থেকে তাদের দুয়োয় নিশ্চয়ই নিজভূমে পরবাসী হওয়ার অনুভূতি হচ্ছিল সার্জিও বুসকেটসদের। চেনা মাঠে সেই অচেনা অনুভূতি গা সওয়া হয়ে আসতে না আসতেই গোল উপহার দিয়ে বসে বার্সা। সেই যে পেছাল ম্যাচে, আর ফেরা হয়নি ম্যাচে। ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ইউরোপা লিগ থেকে।

আইনট্র‍্যাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের মাঠে প্রথম লেগে ১-১ ড্রয়ের পর কোচ জাভি হার্নান্দেজ বলেছিলেন, পরের ম্যাচটাতে ন্যু ক্যাম্পে প্রতিপক্ষকে দিতে হবে নরকের অনুভূতি। সেটা যে নিজ দর্শকদের উদ্দেশ্যেই বলেছিলেন, তা আর বলে না দিলেও হয়।

তবে জাভির কথা শুনতে বয়েই গেছে বার্সার পুরো মৌসুমের টিকিটধারীদের। নিজেরা তো ম্যাচে আসেনইনি, উলটো নিজেদের টিকিট পানির দামে ছেড়ে দেন প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কাছে, জানাচ্ছে স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম। তাতে সফরকারীদের জন্য ৫০০০ টিকিট বরাদ্দ থাকলেও শেষমেশ তা গিয়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজারেই।

ফলে শুরু থেকেই 'বার্সা! বার্সা!!' রবের বদলে গ্যালারি থেকে ভেসে আসতে থাকে দুয়োর জোয়ার। তাতেই বোধ হয় ভড়কে গিয়েছিল বার্সা। নাহয় ২ মিনিটে নিজেদের বিপদসীমায় অহেতুক ইয়াসপার লিন্ডস্টর্মকে কেন ফেলে দেবেন এরিক গার্সিয়া? ফলে পেনাল্টি পায় সফরকারীরা, সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন ফিলিপ কস্টিচ।

কোচ জাভিও এদিন বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন একাদশে, রাইটব্যাকে এনেছিলেন অস্কার মিনগেসাকে, যার ওপর এতদিন তেমন ভরসাই করেননি তিনি। এরপর মাঝমাঠে আগের ম্যাচেই ব্যর্থ হওয়া পেদ্রি গনজালেস ও পাবলো পায়েজ গাভির জুটির ওপর রেখেছিলেন ভরসা, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে বেঞ্চে রেখে। তাতে যা হয়েছে, বার্সার মাঝমাঠে সাঁড়াশি আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে জার্মান দলটি, পেদ্রি-গাভিরাও ডি ইয়ংয়ের মতো প্রেস নিরোধক হয়ে উঠতে পারেননি। মাঝমাঠের দখলটা হারায় বার্সা। আক্রমণও তাই গড়ে ওঠেনি তেমন।

তার সুযোগ নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রতি আক্রমণে উঠেছে বেশ কয়েকবার। ৩৬ মিনিটে তার একটা থেকেই এলো সফলতা। বক্সের বাইরে কস্টিচ পাস বাড়ান রাফায়েল বোরেকে, তার আগুনে এক গোলে ব্যবধান বাড়ায় ফ্রাঙ্কফুর্ট। বিরতির আগে জবাব দিতে পারেনি বার্সা, পারেনি পরের ৪৫ মিনিটেও। মাঝে কস্টিচ পেয়ে গেছেন ব্যক্তিগত দ্বিতীয় আর দলের তৃতীয় গোলটা।

দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা সুযোগ পেয়েছে বেশ কয়েকটা, সবচেয়ে বড় সুযোগটা নষ্ট করেন পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াং। ফাঁকা জালে বল জড়াতে পারেননি তিনি৷ বার্সাও পায়নি গোলের দেখা। ৮৪ মিনিটে সার্জিও বুসকেটসের কল্যাণে যাও পেলো, অফসাইডের কাটায় হারাল সেটাও।

নয় মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সেই বুসকেটসই পেলেন গোলটা। এরপর অন্তিম সময়ে পেনাল্টি থেকে পেলেন বদলি হিসেবে আসা মেম্ফিস ডিপাইও। তবে ততক্ষণে বেশ দেরিই হয়ে গেছে। সমর্থকদের সেই টিকিট বেচে দেওয়ার 'অপরাধ', নিজেদের অন্তত দুটো অমার্জনীয় ভুলে সর্বনাশ যা হওয়ার, তা যে হয়ে গিয়েছিল আগেই!

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল আগেই। ৩-২ গোলে হেরে এবার ইউরোপা লিগ থেকে বিদায়ের লজ্জাটাও হজম করতে হয় বার্সাকে।

লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ১২ পয়েন্টে পিছিয়ে দলটি, বড় অঘটন না ঘটলে মাদ্রিদের ঘরেই উঠবে লিগ শিরোপাটা। কোপা দেল রে থেকে বিদায় আগেই নিয়েছিল বার্সা, এবার ইউরোপা থেকে বিদায়ের ফলে এক মৌসুম বাদে আরও একটা শিরোপাহীনতা চোখ রাঙাচ্ছে কাতালানদের।

পূর্ব পশ্চিম/জেআর

বার্সেলোনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close