• বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮
  • ||
শিরোনাম

শেষ ওভারে রাব্বির ৪ ছক্কার পরও হারলো প্রাইম দোলেশ্বর

প্রকাশ:  ১০ জুন ২০২১, ১৮:২৫
স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের প্রয়োজন ছিল ৩১ রান আর হাতে উইকেট ছিল মাত্র একটি। তাতে প্রাইম দোলেশ্বরের হার তখন প্রায় অনেকটাই নিশ্চিত। তবে হঠাৎই কামরুল ইসলাম রাব্বির আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে বদলে যেতে থাকে সমীকরণ। রুবেলে হোসেনের করা ২০তম ওভারের প্রথম বলেই ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কা মারেন রাব্বি। পরের বলে লং অনে ঠেলে দিয়ে ২ রান নেন তিনি। তাতে পরের ৪ বলে প্রাইম দোলেশ্বরের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে লং অন, মিড উইকেট ও লং অফ দিয়ে টানা তিন বলে তিন ছক্কা মারেন রাব্বি। তাতে হারতে থাকা ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন তৈরি হয়ে প্রাইম দোলেশ্বরের।

প্রথম ৫ বলে ২৬ রান তুললে ম্যাচ জিততে শেষ বলে প্রয়োজন হয় মাত্র ৫ রান আর ড্র করতে হলে মারতে হতো একটি বাউন্ডারি। তবে শেষ বলে ১ রানের বেশি নিতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ফলে রুববেলকে এক ওভারে ৪ ছক্কা মারার সঙ্গে ১২ বলে অপরাজিত ৩৮ রানের ইনিংস খেলেও প্রাইম দোলেশ্বরকে জেতাতে পারেননি। এদিকে ৩ রানের জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠে গেলো প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। জয়ের জন্য ১৫২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে প্রাইম দোলেশ্বর। প্রথম পাঁচ রাউন্ডে দারুণ ব্যাটিং করা ইমরান উজ জামান এদিন ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে কোন রান না করেই সাজঘরে ফেরেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। থিতু হতে পারেননি আরেক ওপেনার সাইফ হাসান। ১১ বলে ১৩ রান করে রুবেলের বলে ফিরেছেন সাইফ। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মার্শাল আইয়ুব ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি। তবে তাঁদের ধীরগতির রান তোলা দলকে আরও বিপদে ফেলেছে।

মার্শাল ২২ আর রাব্বি ২১ রান করে ফিরলে পাঁচে নেমে ১৭ বলে ১৯ রান করেছেন শরিফুল্লাহ। এরপর আর সেভাবে কেউ দাঁড়াতে পারেননি। শেষ দিকে রাব্বি ১২ বলে অপরাজিত ৩৮ রানের ইনিংস খেললেও দলকে জেতাতে পারেননি। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান আর দুটি করে উইকেট নিয়েছেন রুবেল ও শরিফুল ইসলাম।

এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি প্রাইম ব্যাংকের। গেল ম্যাচে ৪৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেললেও এদিন ৩ বলে কোন রান না করেই সাজঘরে ফেরেন রনি তালুকদার। এদিন সু্বিধা করতে পারেননি আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। এক চারের সাহায্যে ১২ বলে ৮ রান করে শামীম পাটোয়ারির বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ এই ওপেনার। যদিও চারে নামা মিঠুনের সঙ্গে দলের হাল ধরেন এনামুল হক বিজয়। বাজে সময় কাটিয়ে গেল ম্যাচে রানে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন।

পঞ্চম রাউন্ডে ৩২ বলে ৩৫ রান করে ফেরার পর এদিনও ব্যাট হাতে রান তোলার আভাস দিচ্ছিলেন। দ্রুতগতিতে রান তুললেও ইনিংস বড় করতে পারেননি বিজয়। তাইবুর রহমানের বলে ফেরার আগে দুই ছক্কা ও এক চারে ১৮ বলে খেলেছেন ২৯ রানের ইনিংস।

এরপর আরাফাত সানি জুনিয়র থিতু হতে না পারলেও মিঠুনকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন নাহিদুল ইসলাম। ১৮ বলে ২০ রান করে নাহিদুল ফিরলে ভাঙে মিঠুনের সঙ্গে তাঁর ৩৮ রানের জুটি। নাহিদুলের বিদায়ের পর অলক কাপালি এসে দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন। এর মাঝে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিঠুন। তবে হাফ সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৫০ বলে ৫৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন মিঠুন।

সেই সঙ্গে শেষ দিকে ১৪ বলে অপরাজিত ২৬ রানের দারুণ এক ক্যামিও ইনিংস খেলেন কাপালি। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫১ রান তোলে প্রাইম ব্যাংক। প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন এনামুল হক জুনিয়র, শামীম, তাইবুর, রাব্বি, রেজাউর রহমান।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আর

প্রাইম দোলেশ্বর,প্রাইম ব্যাংক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close