• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

নিষিদ্ধ শাহাদাতের নরম সুর

‘ভাই ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়েই সংসার চলত, এখন যে কী করমু’

প্রকাশ:  ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:৪৫ | আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০৯
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফাইল ছবি

সময় গেলে সাধন হয় না-ফকির লালন সাঁইকে বোধ হয় বড় বেশি মনে পড়বে শাহাদাত হোসেন রাজীবের। কারাগার ঘুরেও যার শিক্ষা হলো না, তার জন্য এ জাতির নুন্যতম মায়া থাকবে কি-না কে জানে?

ক্রিকেট যার রুজি-রুটির একমাত্র মাধ্যম, ওই ক্রিকেট ট্যাগটা অন্তরে মেরে মাঠে মারামারি করবেন একজন ক্রিকেটার, এটা কারোই কাম্য না। যেটা শাহাদাত করে দেখালেন। তাতে শাস্তি যে নিশ্চিত ছিল এটা হয়তো তিনি নিজেও টের পেয়েছেন। তাইতো মারধরের কাজটা সেরে চেয়েছেন ক্ষমাও।

সতীর্থ আরাফাত সানি জুনিয়রকে মারার আগে যদি একবারও ভাববেন শাস্তির কথা, তাহলে হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেটে আরেকটা দাগ কমই পড়ত! এখন আবার বলছেন কিভাবে চলবেন, কী করে খাবেন, কিভাবে সংসার চালাবেন। শাহাদাতের কন্ঠে, ‘ভাই জাতীয় দলে নেই, বিপিএলেও দল পাইনি। ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়েই সংসার চালাই। কিন্তু এখন যে কী করমু। আমি ভুল করে ফেলেছি ভাই।’

সব কান্নায় যে লাভ নেই। ৫ বছর শাহাদাতকে নিষেধাজ্ঞার দেয়ালে বন্ধী থাকতে হবে। অবশ্য অপরাধের মাত্রা এবং অপরাধীর অপরাধ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে দুই বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিসিবি। সেক্ষেত্রে আগামী তিন বছর বিসিবির অধীনে কোনো ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না শাহাদাত। পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এই পেসারকে। তবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগটা রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

ঘটনাটি জাতীয় ক্রিকেট লিগের ফাইনাল রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনের। যার সূত্রপাত বল ঘষা নিয়ে। বোলার শহীদের হাতে বল দেয়ার আগে রাজীব আরাফাত সানিকে বলেন, বল ঘষে দিতে। কিন্তু, সানি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন কথা কাটাকাটি হয় দু'জনের। এক পর্যায়ে আরাফাত সানির গায়ে হাত তোলেন শাহাদাত। ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ তার রিপোর্টে এভাবেই ঘটনাক্রম উল্লেখ করেন। শাহাদাতের বিরুদ্ধে আচরণবিধির লেভেল ৪ ভাঙার অভিযোগ আনেন রেফারি। যা অত্যন্ত গুরুতর। শেষমেশ বড় শাস্তিই পেলেন তিনি।

শাহাদাতকে ঘিরে এমন বিতর্কিত ঘটনা নতুন নয়। গত বছর মিরপুর রোডে এক সিএনজি ড্রাইভারের সঙ্গে মারামারি করেও খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন শাহাদাত। এরপর তিনি সেই সিএনজি ড্রাইভারের সঙ্গে দেখা করে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। এর ফলে নিশ্চিত থানা-পুলিশ থেকে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু এবার আর রক্ষা হলো না।

২০১৫ সালে গৃহকর্মীকে মারধরের অপরাধে কারাভোগের সাজা হলে তাকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয় বিসিবি। এরপর থেকে তিনি আর দলে ফেরার সুযোগ পাননি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ৩৮টি টেস্ট, ৫১টি একদিনের আন্তর্জাতিক এবং ৬ টি২০ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন শাহাদাত।


পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

শাহাদাত হোসেন রাজীব,নিষিদ্ধ,‘ভাই ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়েই সংসার চলত,এখন যে কী করমু’,নিষিদ্ধ শাহাদাতের মুখে নরম সুর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত