• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

মাশরাফি ফেলনা না, বুঝিয়ে দিল ঢাকা

প্রকাশ:  ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:৫৪ | আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:১৬
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফাইল ছবি: ট্রফি হাতে মাশরাফির এই রুপটা এখন দেখার অপেক্ষা।

এতটা পচে গেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা! রোববার (১৭ নভেম্বর) বিপিএল প্লেয়ার ড্রাফটের নমুনা দেখে শুরুতে বোধ হয় তেমন কিছুই ভাবতে শুরু করেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। না হলে একের পর এক খেলোয়াড় দলে ভেড়াচ্ছে দলগুলো। একজন-মাশরাফির কোনো খবর নেই। এভাবে কয়েকটা রাউন্ড পেরিয়েও যায়। ক্রিকেটপাড়ায় গুঞ্জন উঠে, তবে কী সময় ফুরিয়ে গেল মাশরাফির?

কোন দল তার প্রয়োজন মনে করল না। শেষমেশ বিকেল গড়িয়ে সন্ধা, বিপিএল এক দুই করে সপ্তম ডাক পেরিয়েছে তবুও নেই ম্যাশের কোনো নামগন্ধ। অষ্টম ডাকে গিয়ে মাশরাফির নামটা উড়ে এলো ঢাকা প্লাটুনের টেবিল থেকে। সেটা নিয়েও হচ্ছে দুই কথা, নিয়ম ভাঙার বির্তক। যাক তবু বুঝি স্বস্তির নি:শ্বাসটা ফেলা। ঠিক এই কথাগুলোই হয়তো মাশরাফিভক্তদের মনে ঘোরপাক খায় রোববার ৬.৩০ থেকে ৯.৪৫ পযর্ন্ত। অবশ্য দেরিতে হলেও ঢাকা মানিক চিনতে ভুল করেনি।

মাঠে নেই অনেকদিন হলো। এর পেছনে অবশ্য কারণও আছে। টেস্ট আর টি২০ থেকে নিজের নামটা কেটেছেন, বাকি রইল ক্রিকেটের এক ফরম্যাট ওয়ানডে। যে ফরম্যাটে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ গিয়েছিল শ্রীলংকায়। মাশরাফির অবর্তমানে তামিম ইকবালকে অধিনায়ক করে লংকা-অপারেশনে যায় টাইগাররা। কিন্তু ওই অপারেশন যে অকৃতকারর্ হয়েছে, সেটা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়বে না।

অথচ বিশ্বকাপেও এই মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের যাত্রাটা হয়েছিল দুর্দান্ত। এ তো কয়েক দিন আগের কথা বললাম। আরেকটু পেছনে তাকালে বাংলাদেশ যে ক্রিকেটের সোনালি যুগে প্রবেশ করল, তার কারিগর কিন্তু এই মাশরাফি। তার অধিনায়কত্বে বিশ্বের বাঘা বাঘা দলকেও নাকানি-চুবানি খাইয়েছে বাংলাদেশ।

কেবল ৫০ ওভার নয়, চার ছক্কার ক্রিকেটেও তার অবদান কিভাবে অস্বীকার করবে আজকের বাংলাদেশ। অদ্যাবধি মাশরাফির অধিনায়কত্বে ৮৫ ওয়ানডেতে অংশ নিয়ে রেকর্ড ৪৭ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর টি২০’তে ২৮ ম্যাচ থেকে জয় ১০টি। যেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফলতা।

এবার আসি বিপিএলে, এই অঙনও মাশরাফির ছোঁয়ায় হয়েছে আলোকিত। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সফল দলনেতা তিনি। ক’বছর আগেও এই মাশরাফিকে দলে নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগত সবাই। তার কাঁধে অধিনায়কত্বের ভার তুলে দিতে মুখিয়ে থাকতো দলগুলো। এটা হওয়া স্বাভাবিক। কেননা বিপিএলে তার হাত ধরে এসেছে অনেক প্রাপ্তি।

আগের ছয় আসরের চারটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এই মাশরাফির নেতৃত্বাধীন দল। ২০১২ ও ২০১৩ আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ২০১৫ আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং ২০১৭ আসরে রংপুর রাইডার্সকে শিরোপা উপহার দেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে কাপ্তান।

এখানেই শেষ নয়, বিপিএলের সফলতম পেসারও মাশরাফি। ৭৪ ম্যাচে ২৪.৪২ গড়ে বিপিএলে তার উইকেটসংখ্যা ৭৩টি। টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল সাকিব আল হাসানের, ১০৬টি। সেই মাশরাফিই কি-না দল পেল অন্তিম মুহূর্তে।

তবে কথায় আছে, শেষ ভালো যার সব ভালো তার। মাশরাফির বেলায় এমনটা ফলিলে এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ট্রফিটাও হয়তো দিন শেষে মাশরাফিকে খুঁজে নেবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

মাশরাফি ফেলনা না,বুঝিয়ে দিল ঢাকা,মাশরাফি,টাইগার,বাংলাদেশ অধিনায়ক,বিপিএল,শেষমেশ মাশরাফি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত