Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

কেমন কোচ পেলো সাকিব-মুশফিকরা

প্রকাশ:  ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১৮:১৪ | আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩৯
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট icon

বিশ্বকাপে আশানুরুপ সাফল্য না পাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ স্টিভ রোডসকে বিদায় বলে দেয় বিসিবি। সমঝোতার ভিত্তিতে মেয়াদ পুরোনোর আগেই এই ইংলিশ কোচকে ছেড়ে দেয় বিসিবি। এরপর থেকেই টাইগারদের কোচ কে হবে সে বিষয়ে চলে বিস্তর আলোচনা। হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পরে কোচ পাওয়া নিয়ে বিসিবি যেই বিপদে পড়েছিলো তার সম্ভাবনা এবার দেখা না গেলেও ভালো কোচ পাওয়া নিয়ে ছিলো সংশয়। এর মধ্যেই বিসিবি কোচ নিয়োগের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানায়। তাতে যথেষ্ট সাড়াও পায় বিসিবি।

আবেদনকারীদের মধ্যে অনেক বড় বড় নাম ছিলো। কিউই কোচ মাইক হেসন, ফিল সিমন্স, মিকি আর্থার, সাবেক টাইগার কোচ হাথুরুসিংহে সহ ছিলো আরো অনেক নাম। তাদের মধ্যেই ছিলেন রাসেল ডোমিঙ্গো। এত এত নামের ভীড়ে সাকিব, মুশফিকদের কোচ হিসেবে রাসেল ডোমিঙ্গোকে বেছে নিয়েছে বিসিবি। এর আগে তাঁর সাক্ষাৎকারে খুশি হয়েছিলেন বিসিবির কর্তারা। কেমন কোচ ডমিঙ্গো, তার অভিজ্ঞতা কতটুকু কাজে লাগবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে তা এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের কোচ হওয়াটা মোটেও সহজ নয়। এখানে কোচের ওপরে চলে বিসিবির খবরদারি। কোচের হাতে নেই পূর্ণ স্বাধীনতা তা হোক দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিংবা দলে জায়গা দেয়ার সিদ্ধান্তে। আরো অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হবে কোচকে। এইসব চ্যালেঞ্জগুলো কিভাবে এড়াবেন নতুন কোচ তাও দেখতে হবে।

সবকিছুর পরে নতুন নিয়োগ পাওয়া কোচ কেমন হলো, তার পূর্ব অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো এবং তার পূর্ব সাফল্য গুলো কী কী ছিলো তা জেনে নেয়া যাক।

রাসেল ক্রেইগ ডোমিঙ্গো—বড় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে, তবে আছে কোচিংয়ের বিশাল অভিজ্ঞতা। যে বয়সে একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার শুরু হয়, ঠিক সে বয়সেই খেলা ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন খেলা শেখানোর পেশা। খেলোয়াড়ি জীবনে তেমন একটা ভালো ব্যাটসম্যান ছিলেন না। খেলেছেন দ্বিতীয় সারির লিগে, তখনই উপলব্ধি করেন খেলে সফল হতে পারবেন না, তবে থাকতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটের সঙ্গেই। খেলা ছেড়ে অর্জন করলেন স্পোর্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মার্কেটিংয়ের ওপর ডিগ্রি। এরপর মাত্র ২৫ বছর বয়সেই দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন প্রভিন্স যুব দলের কোচের দায়িত্ব পেয়ে গেলেন।

পরের ১২ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৯ , বি দল ও এ দলের দায়িত্ব পালন করেন ডোমিঙ্গো। ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দল ওয়ারিয়র্সের দায়িত্ব ছেড়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন মিকি আর্থার। এতে ওয়ারিয়র্স কোচের দায়িত্ব পান ডোমিঙ্গো। সে সময় ওয়ারিয়র্সের প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা সুবিধা করতে পারছিলেন না, তখন ডোমিঙ্গো সিদ্ধান্ত নিলেন দলের ব্যাটসম্যানদের বিশেষজ্ঞ কারও কাছ থেকে শিখতে হবে। এ সমস্যার সমাধানে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান গ্যারি কারস্টেনকে নিয়ে ৩৫ দিনের ক্যাম্প করলেন।

এরপর কারস্টেন ভারতের কোচ হয়ে জিতলেন বিশ্বকাপ। ভারতকে নিয়ে গেলেন টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। অন্যদিকে রাসেল ডোমিঙ্গো ওয়ারিয়র্সকে জেতালেন দুটি ট্রফি, তাঁর দলের ৬ জন সুযোগ পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলে। দল হিসেবে খুব বেশি ট্রফি জিততে না পারলেও ধারাবাহিক ভাবে সফল হতে থাকে ওয়ারিয়র্স।

২০১১ বিশ্বকাপ জিতিয়ে ভারত থেকে বিদায় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হন গ্যারি কারস্টেন। কোচ হয়েই নিজের সহকারী হিসেবে বেছে নিলেন ডোমিঙ্গোকে। এক বছরের মাথায় সহকারী কোচ থেকে টি-টোয়েন্টি দলের হেড কোচে উন্নীত হলেন ডোমিঙ্গো। ২০১৩ সালে গ্যারি কারস্টেনের বিদায়ের পর তিন সংস্করণেই প্রধান কোচের দায়িত্ব পান ডোমিঙ্গো। তাঁর অধীনে ১৩ টেস্ট সিরিজের ৮টিতে জয়ী হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান থেকে সাতে নেমে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিনি টেনে তোলেন দুইয়ে।

ডোমিঙ্গোর সময়ে ২২ ওয়ানডে সিরিজের ১৪টিতে জয়ী হয়ে ওয়ানডেতে শীর্ষ দল হিসেবে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র জয়টি আসে তাঁর সময়েই। টি-টোয়েন্টিতে ৪২ ম্যাচের মধ্যে ২৩ জয় এসেছে এ সময়। তাঁর অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৭ সালে ওটিস গিবসনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ছাড়েন ডোমিঙ্গো।

উপমহাদেশের কোনো দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই ডোমিঙ্গোর। দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরেও কোনো দলের সঙ্গে কাজ করেননি তিনি। তাঁর কোচিংয়ে বিশেষ ব্যাপার হলো, ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যান, কিন্তু ক্রিকেটাররা যেন তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন, সেদিকেও থাকেন সর্বদা সচেষ্ট।

এদিকে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পাওয়াকে বড় সম্মান হিসেবে দেখছেন ডোমিঙ্গো, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত। বাংলাদেশ দলের উন্নতির ধারা খুব আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করে আসছি। তাই তাদের সহায়তা করতে খুবই রোমাঞ্চিত আমি, যেন তারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।’

এদিকে বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় ডোমিঙ্গোকে শুভ কামনা জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের ক্রিকেট ডিরেক্টর ভ্যান জিল শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘ক্যারিয়ারে নতুন চ্যালেঞ্জে রাসেলকে শুভ কামনা।’

স্টিভ রোডসের উত্তরসূরী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ডোমিঙ্গো। তার নতুন অ্যাসাইনমেন্ট হবে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠেয় আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট। তার সঙ্গে বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান ল্যাঙ্গেভেল্ট ও ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি। ডোমিঙ্গো যখন দক্ষিণ আফ্রিকার হেড কোচ ছিলেন (২০১৩ থেকে ২০১৭) তখনও প্রোটিয়াদের কোচিং স্টাফদের সদস্য ছিলেন এই দুজন।

পূূর্বপশ্চিমবিডি/এসএ

ডোমিঙ্গো,বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত