Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬
  • ||

রুট-বাটলারের সেঞ্চুরিতেও হারল ইংল্যান্ড

প্রকাশ:  ০৩ জুন ২০১৯, ২৩:৪৮ | আপডেট : ০৪ জুন ২০১৯, ০০:২৫
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট icon

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই পরাজয়ের স্বাদ নিতে হলো স্বাগতিকদের। জো রুট আর জস বাটলারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিও ইংল্যান্ডের হার বাঁচাতে পারেনি। পাকিস্তানের ৩৪৮ রান তাড়া করে ৯ উইকেটে ৩৩৩ রানেই থামে ইংল্যান্ড। পাকিস্তান জয় পায় ১৪ রানে।

দুই দলের চরিত্রটাই ভিন্ন ভিন্ন হলো এবার। প্রথম ম্যাচে উড়ন্ত সূচনা ছিল ইংল্যান্ডের। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে ১০৪ রানের ব্যবধানে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল ১০৫ রানে। হেরেছিল ৭ উইকেটের ব্যবধানে।

এর আগে সোমবার (০৩ জুন) বিকেল ৩টায় নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৩টায়। সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি, মাছরাঙা এবং বিটিভি।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বিস্ফোরক উদ্বোধনী জুটিতে পাকিস্তানকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন ফখর জামান ও ইমাম-উল-হক। দুজন প্রথম ১০ ওভারেই তোলেন ৬৯ রান। ফখর ৪০ বলে ৩৬ করে স্টাম্পড হয়ে ফিরলে ভাঙে এ জুটি। এরপর ইমামও দ্রতই ফেরেন ৪৪ রান করে। দু’জনই অফ স্পিনার মঈন আলীর শিকার।

সহজ ক্যাচ দিয়ে জেসন রয়ের কল্যাণে বেঁচে যাওয়া বাবর আজম হাত খুলতে শুরু করেন। মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে তার দুর্দান্ত জুটি গড়ে ওঠে। ৮৮ রানের দুর্দান্ত জুটি ভাঙে বাবর আজমের বিদায়ে। ৬৬ বলে ৬৩ রান করা পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মঈন আলীর বলে ক্রিস ওকসের তালুবন্দি হন।

এরপরেও তরতর করে এগিয়ে যেতে থাকে পাকিস্তানের ইনিংস। হাফিজের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক সরফরাজ। ৪০ ওভারেই আড়াইশ ছাড়িয়ে যায় দলীয় স্কোর। দারুণ ব্যাটিংয়ে তিন অংকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন হাফিজ। কিন্তু দূর্ভাগ্য তার। ৬২ বলে ৮ চার ২ ছক্কায় ৮৪ রানে মার্ক উডের বলে সেই ওকসের তালুবন্দি হন তিনি।

সরফরাজ ৪৪ বলে ৫৫ করে ওকসের শিকার হন। শেষের দিকে ছোট ছোট অবদানে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৪৮ রান।

১০ ওভারে ৫০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার মঈন। উড ১০ ওভারে ৫৩ রানে নেন ২ উইকেট। ৮ ওভারে ৭১ রানে ৩ উইকেট নেন ক্রিস ওকস।

পাকিস্তানের পর্বতপ্রমাণ রান তাড়া করতে নেমে বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। দলীয় ১২ রানে মাথায় জেসন রয়কে (৮) এলবিডব্লউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান শাদাব খান। আরেক ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ও জো রুট অবশ্য ৪৮ রানের জুটি গড়ে খাদ থেকে ইংলিশদের টেনে তুলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু বেয়ারস্টোকে সরফরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন ওয়াহাব রিয়াজ।

এরপর জো রুটকে সঙ্গ দিতে মাঠে আসেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। কিন্তু তিনিও দলকে হতাশ করে ফিরে গেছেন। পাকিস্তানি বোলার হাফিজের বলে বোল্ড আউট হন মরগান। আউট হবার আগে করেন ১৮ বলে ৯ রান।

দলীয় ৮৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ইংল্যান্ডকে টেনে তুলতে চেষ্টা করেন জো রুট ও অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। স্টোকসকে নিয়ে বড় জুটির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রুট। কিন্তু দলীয় ১১৮ রানের মাথায় শোয়েব মালিকের বলে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে বন্দী হোন স্টোকস (১৩)।

ম্যাচের এই মুহূর্তে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জো রুট এবং জস বাটলার। মাত্র ৭৯ বলে দু’জনের জুটি ১শ’ ছাড়িয়ে যায়। এরপরেই নিজের ১৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন জো রুট। ৯৭ বলে ৯ চার ১ ছক্কায় অংক স্পর্শ করেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটাই প্রথম সেঞ্চুরি।

রুটকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে তিন অংকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বাটলার। তবে এই সুখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১০৪ বলে ১০৭ রান করা রুটকে শাদাব খান ফিরিয়ে দিলে ভাঙে ১৩০ রানের জুটি। রুটের হতাশ মুখ যেন বলছিল, সুযোগটা হাতছাড়া! উইকেটে আসেন মঈন আলী।

৭৫ বলে ৯ চার ২ ছক্কায় দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন জস বাটলার। তবে ১০৩ রানেই তাকে ওয়াহাব রিয়াজের তালুবন্দি করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠন মোহাম্মদ আমির।

ক্রিস ওকস আর মঈন আলী এগিয়ে নিচ্ছিলেন ইংল্যান্ডকে। ৪৮তম ওভারের পঞ্চম বলে ওয়াহাব রিয়াজ তুলে নেন মঈনকে (১৯)। শেষ বলে তুলে নেন ক্রিস ওকসকে (১৪)। ৮ উইকেট হারিয়ে যেন আশা শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের।

পরের ওভারে এসে জোফরা আর্চারকে তুলে নেন আমির। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। ইংল্যান্ডের শেষ উইকেট জুটি এই হিসাব মেলাতে পারেনি।

পাকিস্তানের ওয়াহাব তিনটি, সাদাব ও আমির দুইটি এবং হাফিজ ও শোয়েব মালিক একটি করে উইকেটে নেন।

পিপিবিডি/অ-ভি

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত