• শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮
  • ||

যেকোনো সংকটে এখনো আশরাফ ভাইকে খুঁজে ফিরি

প্রকাশ:  ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৪২ | আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৪৬
মাহবুবউল আলম হানিফ

ওয়ান ইলেভেনের কঠিন দু:সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তখন আর্দশের পরীক্ষায় হাবুডুবু খাচ্ছেন। ভয় এবং লোভের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছেন অনেকে। যখন প্রিয় নেত্রীর গ্রেপ্তারে হতবিহ্বল কর্মীরা। হতাশা, বিভক্তি আর অজানা আশঙ্কায় বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ। এসময় সৈয়দ আশরাফ শেখ হাসিনার পক্ষে এক অনবদ্য অবস্থান নেন। দলকে টেনে তোলেন খাদের কিনারা থেকে।

সৈয়দ আশরাফ দলের বাইরেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়। এমন স্বল্পভাষী, মিষ্টভাষী, পরিমিতিবোধসম্পন্ন প্রজ্ঞাবান মানুষ রাজনীতিতে বিরল। দেশ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার প্রতি সৈয়দ আশরাফের কমিটমেন্ট ছিল সব কিছুর উর্ধ্বে। কর্মীদেরকে উনার মত করে ধারণ করতে খুব কম নেতাই পেরেছেন।

দলের ভেতরে বাইরে কাউকেই তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা আঘাত করে কথা বলেননি। আদর্শিক রাজনীতিতে পূর্বসূরিদের উত্তরাধিকারিত্ব বহন করে পথ হাঁটা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঈর্ষণীয় ইমেজের পর অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। কত নেতার কত রকম দৌড়-ঝাঁপ! নানা রকম কায়দা-কৌশলে বিভিন্ন মিডিয়ায় সৈয়দ আশরাফকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অযোগ্য প্রমাণিত করার জন্য প্রচারণা চালানো হলো। কিন্তু যাঁকে সরানোর জন্য এত কিছু, সেই মানুষটি নির্বিকার। বরাবরের মতোই নির্বিকার। কাউকে কিছু বলেননি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিল অধিবেশনে বক্তৃতার জন্য যখন তাঁর নাম ঘোষিত হলো, মিতভাষী এই জ্ঞানতাপস, মুক্তিযোদ্ধা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতির ঋষিপুরুষ ধীরস্থির পায়ে মাইকের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর পক্ষে-বিপক্ষের লাখো জনতা পিনপতন নীরবতায় অপেক্ষমাণ। সবার চোখেমুখে একটাই প্রশ্ন-তিনি কী বলবেন? তিনি অত্যন্ত আবেগ জড়ানো কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম’।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০ তম কাউন্সিলে আশরাফ ভাই বলেছিলেন, আমি আওয়ামী লীগের সন্তান। আওয়ামী লীগের ঘরেই আমার জন্ম। আওয়ামী লীগ যখন ব্যথা পায়, আমার তখন ব্যথা লাগে। একজন আওয়ামী লীগ কর্মী ব্যথা পেলে আমি ব্যথা পাই। আমার রক্ত আর আপনার রক্ত একই। রক্তে কোনো বিভেদ নাই’। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাই শুধু যেকোনো একটি দল নয়, আওয়ামী লীগ কোন সনাতনী দলও নয়, আওয়ামী লীগ একটি ত্যাগের নাম, আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম যে অনুভূতি ত্যাগের এবং আত্মত্যাগের।’

যেকোনো সংকট বা প্রোপাগান্ডার জবাবে কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে আশরাফ ভাই দ্রুত উনার বক্তব্য বা মতামত জানিয়ে দিতেন। তাঁর ঐ পদক্ষেপ গুলো ছিল কুটচালের বিরূদ্ধে দাঁতভাঙ্গা জবাব। উনার মতন এমন বিচক্ষণ হৃদয়বান নেতা বিরল।

ক্ষমতার রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফ অনন্য এক ক্লাস। উনার চলে যাওয়ার তিন বছর হয়ে গেলো। যেকোনো সংকটে এখনো আমাদের আপার পাশে সৈয়দ আশরাফ ভাইকেই খুঁজে ফিরি।

পরলোকে ভালো থাকবেন শ্রদ্ধেয় নেতা।

(ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত)

লেখক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

আওয়ামী লীগ,সৈয়দ আশরাফ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,মাহবুবউল আলম হানিফ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close