• রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮
  • ||

মিলুর করুণ মৃত্যুর দায় কার?

প্রকাশ:  ২৬ আগস্ট ২০২১, ০২:৪৮
ফিদা হাসান রিসলু

যার জন্ম আছে, তার ক্ষয়'ও আছে। কবি বলিয়াছে, জন্মিলে মরিতে হইবে, অমর কে কোথা কবে! তবে সেই ঘটিত মৃত্যুরও যেমন আছে স্বাভাবিকত্ব, তেমনি আছে দূর্ঘটিত মৃত্যুর অস্বাভাবিকত্ব। অসুস্হ্যতার পরিনতিতে কিছু কিছু মৃত্যু বলে কয়েই আসে, দূর্ঘটনার দূর্বিপাকে কিছু মৃত্যু আবার উৎ পেতেও থাকে। জীবনের নানাবাঁকে সেগুলিকে মেনে নিয়েই মানুষ আবারও হাসে, আবারো কাঁদে। কিন্তু এ কেমন মৃত্যু, যা কিনা স্বাভাবিক-অস্বাভাবিকের সীমানা ছেড়ে উদাসীন্যতার অক্টোপাশে কেবলই জাপটে ধরে! কন্টকের মত চেপে বসে হৃদয়কে ছিঁড়ে-খুঁড়ে হাহাকারে বিদীর্ণ করে!

এমনতো কোন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিল না- বগুড়া শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীঃ মশিউর রহমান মিলু। রড-সিমেন্ট-টিনের বড়মাপের এই ব্যবসায়ী একইসাথে গ্রামীনফোন কেন্দ্রিক ফ্লাক্সিলোড আর ইউনিলিভারের মত বর্ণাঢ়্য প্রতিষ্ঠানের এজেন্সী ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততার সূত্র ধরে সর্বপরিচিত ছিল বগুড়ার সর্বমহলে। চলনে সাদাসিধা, বলনে বিনয়ী এবং সার্বক্ষণিক ধার্মিক এই ছেলেটিকে-আমি বন্ধুর ছোটভাই হিসেবে জানি- ছোটবেলা থেকে। পারিবারিকভাবেই সততার সকাশে বেড়ে উঠা তার পঞ্চাশ বছরের প্রকাশে বিলাসিতা ব'লে কোনকিছু দেখিনি যেমন শেষের আগের তখনো; ব্যবসার বাইরে তেমন ধর্মীয়-কর্মকান্ড-ভিন্ন অন্যকিছু শুনিনি কখনো। আচার-আচরণে একেবারেই সাধারণ এই ছেলেটি যখন পারিবরিক ব্যবসার যাবতীয় নিয়ে প্রাজ্ঞতার পানে প্রসারমান, স্রেফ মুনাফাকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্হার দায়হীন উদাসীন্যতায় তখন হারিয়ে গেল সেই প্রাগ্রসর জীবনের সমুদয় খতিয়ান।

সম্পর্কিত খবর

    সামান্য এক পায়ুপথের ফোঁড়া অপারেশন করতে ভর্তি হয়েছিল-সে রেইনবো নামের কলোনি-বাজারস্হ এক ক্লিনিকে। সেখানে বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডাঃ জাফর সাদিকের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার শেষে পরবর্তির সম্ভাব্য জটিলতার নিরসনে কোন ব্যবস্হা না-রেখেই ডাক্তার চলে যান রোগীকে ফেলে রেখে। এদিকে ঘন্টা দুয়েক পরে অপরেশনের জটিলতা হৃৎপিন্ডে গিয়ে আঘাত হানলে কাউকেই পাওয়া যায় নি- তাকে সুরক্ষা দিতে। মোটা অংকের টাকা নিয়েও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অসক্ষমতার বলি হয়ে অবশেষে মিলু হারিয়ে গেল- পৃথিবী ছেড়ে। এদিকে ঘটনার কলরোলে মানুষের আনাগোনার মাঝে নিজেদের দায় এড়াতে ক্লিনিক মালিক কৌশল-করে তখনো বেঁচে থাকবার প্রলোভন দেখিয়ে মৃত মিলুকে মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দিয়ে সবাই যায়- পালিয়ে। বারবার ফোন করা সত্বেও সাড়া না-দিয়ে অপারেশনের ডাক্তারও থাকেন- লুকিয়ে।

    দায়হীন-বিবেকহীন এমোনি এক চিকিৎসা ব্যবস্হার কাছে প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যবসায়ীর এই মৃত্যুকে কেমন করে মেনে নেবে তার প্রিয়তমা পত্নীর পাশে দুইকণ্যার সাথে বগুড়ার সুপ্রতিষ্ঠিত এই ব্যবসায়ী পরিবার?

    এমন প্রশ্নের যেমন এখন-কোন উত্তর নেই, আগেও ঘটে যাওয়া এইসব অঘটনের তখনো-তেমন মেলেনি কোন খেই। মানবিক পেশার সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা সম্ভবতঃ তারা ভুলে গেছেন। ক্লিনিক মালিকেরা না-হয় অর্থের লালসায় একধরণের ফাঁদ পেতেছেন, কিন্তু চিকিৎসক নামের মেধাবীরা তো লেখাপড়া করে এসেছেন! তাদের কাছ থেকে কীভাবে আশাকরি ক্লেদাক্ত-এহেন! অথচ জ্ঞানবোধহীন সেইসব অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীর সাথে চিকিৎসক নামের এইসব বিবেকহীন পেশাজীবীদের একধরণের সখ্যতা থেকে গজিয়ে উঠা তথাকথিত চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত জনবল-যন্ত্রবলের অভাব সত্বেও কেমন-করে তারা দিনের পর দিন মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলতে নেমেছে, সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজাটাও আজ জরুরি হয়ে উঠেছে।

    (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close