• শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮
  • ||

সাথে দুইশো টাকার একটা মশারিও দেন

প্রকাশ:  ০১ আগস্ট ২০২১, ২১:১৫
ডা. গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল
ডা. গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

এলার্মিং

জানি না সামনে কি সময় আসছে। গত দু’দিন ধরে বেশ কিছু রোগী রেফার্ড হচ্ছে আমার কাছে। এরা হাসপাতালে ভর্তি রোগী। কোভিড পজিটিভ। কেউ কেউ সাসপেক্টেড কোভিড। কেউ কেউ আইসিইউতে আছেন। এদের প্লেটলেট অনেক কম। পঞ্চাশ হাজারের আশেপাশে। সেকারণেই আমার কাছে রেফার করছে মতামতের জন্য। আমি জ্বরের ইতিহাস অনুযায়ী এন্টিজেন এবং এন্টিবডি পরীক্ষা করে পেলাম এদের ডেঙ্গু হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

    হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এরা এর মধ্যেই দুই চারদিন রেমডিসিভির ইঞ্জেকশন, চামড়ার নিচে ব্লাড থিনার ইঞ্জেকশনসহ নানারকম ফর্দ করা ইঞ্জেকশন ও ওষুধ নিয়ে ফেলেছে। একজনের এই ফাঁকে রক্তক্ষরণও শুরু হয়েছে। একটু চিন্তিত বৈকি। জাহিদুর রহমান ভাই এবং মালিহাকে ফোন দিলাম কোনভাবে কি ডেঙ্গু পেশেন্টের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস থাকবার কারণে করোনা পরীক্ষা ফলস পজিটিভ আসতে পারে? দু’জনই মত দিলেন 'না, পারে না'। (ফলস পজিটিভ এমনিতেই নানা কারণে আসতে পারে। সে প্রসঙ্গ আলাদা।) তার মানে এই রোগীদের দু’টোই হয়েছে। কোভিড ১৯ এবং ডেঙ্গু। আসলে না হবার তো কারণ নেই। বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা ডেঙ্গুর এন্ডেমিক জোন। এটা দূর হবে না, থেকে যাবে। ইতিহাস তো এটাই বলে। যেখানে ডেঙ্গু ঢুকেছে আর বের হয়নি। ফিরে ফিরে এসেছে। হয়ত দুই এক বছর প্রকোপ কম ছিলো। গতবছর মশক নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থবির জনজীবনের কারণে ডেঙ্গুবাহী মশা বংশ বিস্তারের মওকা (সুযোগ) পেয়েছে। মানুষ বাড়িতে থাকে। দিনের বেলায় কাজ নেই, শুয়ে, বসে, ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে। হাসপাতাল রোগীতে ভর্তি। এক রোগী থেকে আরেক রোগীতে ছড়ানোও বেশ সহজ। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার বিস্তর কারণ বিদ্যমান।

    সমস্যা আরো। দেখা গেল রোগী এসেছে জ্বর নিয়ে। সবার নজর কোভিডে। কোভিড পরীক্ষা হলো। পরীক্ষায় দেখা গেল পজিটিভ। ব্যাস, রোগ তো পেয়ে গেলাম। দশ-বারোটি ওষুধ ছাড়া গুলির মত চালু হয়ে গেল। চামড়ার নিচে ব্লাড থিনার। এদিকে কোন ফাঁকে প্লেটলেট কমে, উপরি হিসেবে ব্লাড থিনার পেয়ে শুরু হলো রক্তক্ষরণ। পরশু একটা রোগীকে এভাবে হারালাম। আমাকে যখন ডাকা হলো তখন আর কিছুই করার রইলোনা।

    অর্থাৎ কোভিডের সাথে যে ডেঙ্গু কো-ইনফেকশন হিসেবে আসছে, আসতে পারে এবং আসতেই পারে এটাই মাথায় রাখতে হচ্ছে এখন। হাসপাতালে করোনা রোগীরা আছে। হাজার হাজার টাকার এন্টিভাইরাল দিচ্ছেন। লাখ টাকার টসিলিজুম্যাব। সাথে দুইশো টাকার একটা মশারিও দেন। বাড়িতেও মশারি খাটান। এটুকুই বলার ছিলো।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

    পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close