• সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮
  • ||

সামাজিক চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন করার সুযোগ আমাদের রয়েছে

প্রকাশ:  ০১ আগস্ট ২০২১, ০৩:৩৮
দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি
দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি

আমি সব সময় সুন্দর কাজ দেখলে আমার ওয়ালে শেয়ার করি সেটা আমার নিজের কাজ হোক বা অন্য কারো কাজ হোক। ভালো কাজ হলে যেমন প্রশংসা হবে, খারাপ কাজ হলে তেমন সমালোচনা হবে। এটাই স্বাভাবিক।

আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমারই ব্যাচমেট একজন ডক্টর বন্ধু, তার একটি মাত্র সন্তান এবং সেটি অটিস্টিক সন্তান। তার সন্তানকে নিয়ে সারাক্ষণই ব্যস্ত সময় কাটায় যেহেতু অটিস্টিক বাচ্চাদের স্পেশল কেয়ার দরকার হয়। ডক্টর বন্ধুটি তার পেশাগত জীবন ত্যাগ করেছে শুধুমাত্র এই বাচ্চাটির জন্য। বাচ্চাকে নিয়ে অনেক সময় সে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে পারে না। কিন্তু তার এ নিজের বন্ধুবান্ধবরা আড়ালে আবডালে অনেক সময় বাচ্চাকে নিয়ে অনেক ধরনের কথা বলে। এমনকি আমার বন্ধুটির সাথে এ ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলে এবং তাকে খোঁচা দিয়ে দেখা গেছে অনেক সময় অনেক ধরনের কথা বলে। বাচ্চাটার জন্য তাকে তার পেশাগত জীবন, সামাজিক জীবন, বন্ধু-বান্ধব অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়েছে এবং বাচ্চাটির জন্য তার পরিশ্রম, চিকিৎসা ও পড়াশোনার জন্য যে ধরনের আয়োজন করা দরকার তাতেই তার জীবন ব্যস্ত। নিজের জন্য তার আসলে আর কোন আয়োজন বা প্রস্তুতি নেই। এমনকি সে আরেকটি বাচ্চা নেওয়ার কথাও চিন্তা করতে পারে না এই ভেবে যে তাহলে তার এই সন্তানটিকে কে দেখবে।

সম্পর্কিত খবর

    আমার আরেক বন্ধু তার সন্তান হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছর সংসারে তার কোনো সন্তান হয়নি। তাকে নিয়েও আমার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা আছে। একটি সন্তান হয়তোবা তার সকল সমস্যার সমাধান হতে পারে আর। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সে তার বন্ধুবান্ধব সামাজিকতা সব কিছুকে বিসর্জন দিয়ে চলছে। একটি বাচ্চা যেন তার আশীর্বাদ হতে পারে।

    আরেকজন পরিচিত মানুষকে চিনি যার দু’টো বাচ্চা অটিস্টিক। তাদের দেখে রাখতে হয় বলে তার নিজস্ব পেশাগত জীবনের কোনো অগ্রগতি হয়নি। এবং বাচ্চাদের জন্য তিনি অটিস্টিক স্কুলে চাকরি করেন, যাতে তিনি তার বাচ্চাদের চোখের সামনে রাখতে পারেন। এভাবেই তার জীবন কাটাতে হচ্ছে।

    এবার আমার কথা বলি আমি যখন বিয়ে করি এবং ফ্যামিলি প্ল্যান করি- তখন কিন্তু আমার ক্যারিয়ার একদম পিক এ ছিলো। আমি পরপর দু’টো সন্তান নেই এবং তাদের আমার নিজের হাতেই লালন-পালন করি। পুরো পাঁচ-ছয় বছর আমি কোন ধরনের কাজ করতে পারিনি। আমার কোন হেল্পিং হ্যান্ডও ছিল না। আমার শাশুড়ি তার পরিবারের কেউই আমাকে হেল্প করেনি। পেশাগত জীবনের কথা বাদই দিলাম, আমার নিজেরই যত্ন হয়নি। অনেকেই আমাকে বলার চেষ্টা করেছে আমি পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়েছি। আমার সন্তানদের জন্য আমার অ্যাফোর্ড, সেক্রিফাইসকে অনেকেই এপ্রিশিয়েট করতে পারে না। অনেকের কাছে এগুলো আননেসেসারি ।

    এই ঘটনাগুলো বলার পেছনে একটাই কারণ প্রত্যেকটা বাবা-মায়ের কিন্তু নিজস্ব একটা জার্নি রয়েছে। কিন্তু স্পেশাল চাইল্ড এর জন্য জার্নিটাতো আরো অনেক কষ্টকর। এগুলো নিয়ে কারো মজা করা, বাজে কথা বলা বা সেভাবে উপস্থাপন করাটা কোনভাবেই উচিত নয়। এগুলো তাদেরকে কষ্ট দেয়। অবশ্য এসব ইস্যু নিয়ে কাজ হবে কিন্তু সেগুলো হতে পারে সচেতনতামূলক, হতে পারে অনেক কিছু সমাধানমূলক, অনেক ধরনের ইনফরমেশন আমরা দিতে পারি। শিল্পী হিসেবে, পরিচালক হিসেবে, লেখক হিসেবে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, তাদের প্রপার চিকিৎসা বা শিক্ষাব্যবস্থার সহজ পদ্ধতি জানানো এবং সামাজিক চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে। যারা নাটক বানাচ্ছেন বা লিখছেন তাদেরকে অনেক সচেতন হতে হবে। এমন কোন কিছুই করা ঠিক নয়, যেটা আমাদের সমাজকে একটা খারাপ প্রভাব দেবে বা আরো দুইটা খারাপ উদাহরণ তৈরি করবে। শিল্পী হিসেবে আমি পেশাগত কাজটা করব কিন্তু যে কাজটা করছি সেটা ঠিক করছি কিনা বা উল্টাপাল্টা মেসেজ দিচ্ছে কিনা- সেটার দিকে আমার খেয়াল রাখতে হবে।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

    পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

    দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close