• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

ভালো থাকবেন স্যার

প্রকাশ:  ১৯ মার্চ ২০২১, ০০:২২ | আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ০০:২৯
আল-রাজী মাহমুদ অনিক

কেবল শূন্যতাই পারে অপরিহার্যতাকে স্মরণ করিয়ে দিতে। সাফল্যের সাথে দুই মেয়াদে টানা আট বছর উপাচার্যের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান স্যার। সাড়ে সাত একরের ক্যাম্পাসের ভাইস চ্যান্সেলর হয়ে এসেছিলেন, যাওয়ার কালে রেখে গেলেন দুইশো সাত একরের ক্যাম্পাস! অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা ঘুচিয়ে দিয়ে গেলেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উদ্বোধন করে। কলেজের গন্ধ গাঁয়ে থেকে ঝেড়ে ফেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এই মানুষটা।

সে যাকগে, ভিসি মীজানুর রহমানের সাফল্য ব্যর্থতার বিশ্লেষণ যাদের ইচ্ছে সময় নিয়ে করুক। আমি বরং একজন মানুষ একজন ক্যারিশমাটিক লিডার ড. মীজানুর রহমানের কথাই বলি।

আজন্ম বিক্ষুব্ধ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আট বছর চালানোর যোগ্যতা এর আগে কারো হয়নি। ভবিষ্যত বলে দিবে কোনদিন আদৌ হবে কিনা। তাঁর ঘোর বিরোধীদেরও তাঁর ব্যক্তিত্বের কাছে ম্লান হয়ে যেতে দেখেছি বারবার। যেকোন ধাক্কা সামলে নিয়েছেন তার উপস্তিত বুদ্ধি আর কনভিন্সিং এবিলিটি দিয়ে। সারাদেশের উপাচার্যদের জড়ো করেছেন ছোট্ট এই ক্যাম্পাসে। নেতৃত্ব দেওয়া যেন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ বৈশিষ্ট্য।

বক্তৃতা শোনা মাত্রই যেকোন লোক তাঁর গুনমুগ্ধ শ্রোতা হয়ে যায়। আমি তাঁর বক্তৃতার ভক্ত হয়েছিলাম আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম অনুষ্ঠান, আমাদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে৷ স্যার ছিলেন চিফ গেস্ট। আমাদের ক্লাস শুরু হয়েছিল ২০১৩ এর ফেব্রুয়ারিতে, স্যার ভিসি হয়ে আসলেন ২০ মার্চ। ফার্স্ট ইয়ারেই ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় স্যারের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়েছিল প্রথম থেকেই। সেই সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে গভীর হয়েছে। তাঁর পিতৃস্নেহ আমাকে আবিষ্ট করে রেখেছে ক্যাম্পাস জীবনের পুরোটা সময়। সেই ভালোবাসার ঋণ শোধ করার মত নয়, আমি চাইও না সে ঋণমুক্তি, ভালোবাসার ঋণে চিরঋণী হয়ে থাকাতেই আমার আনন্দ।

যারা দূর থেকে স্যারকে দেখেছে, কেমন ভেবেছে আমি জানিনা। অনেকে প্ররোচিত হয়ে মন্দ কথাও বলেছে, স্বার্থসিদ্ধির পথে বাঁধা হওয়ায় বিরুদ্ধাচারণ করেছে, উষ্কে দিয়েছে শিক্ষক ছাত্রদের। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি, আর কোন ভাইস চ্যান্সেলরের দরজা ছাত্রদের জন্য এতটা উন্মুক্ত, অবারিত হবে না কখনোই। যেকোন শিক্ষার্থী যেকোন প্রয়োজনে সোজাসুজি ঢুকে যেতে পারত, নিজের সমস্যার সমাধান তাৎক্ষণিক নিয়ে আসতে পারত। মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ভরসার নাম ছিল ড. মীজানুর রহমান। কারো দ্বারা হ্যারেসমেন্টের শিকার হলে সরাসরি স্যারের কাছে চলে গেলেই হতো। স্যার নিজে দায়িত্ব নিয়ে ভিক্টিমের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবসময়।

জগন্নাথের মুকুটে অসংখ্য প্রথম অর্জনের পালক যোগ করে অবশেষে চলে গেলেন অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের জন্য এই বিশ্রাম তাঁর প্রয়োজন ছিল। সুযোগ সন্ধানী লোকের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়ে স্যারের সামনের দিনগুলো প্রশান্তিময় হোক।

ভবিষ্যতে আরো বড় কোন অঙ্গনে আলো ছড়াবেন সেই প্রত্যাশা করি। ভালো থাকবেন স্যার। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ ও দীর্ঘ আয়ু দান করুন।

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)


পিপি/জেআর

ভালো
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close