• বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭
  • ||

এই সময়ে এসে কেন নারী ধুমপানের জন্য হেনস্থা হবে?

প্রকাশ:  ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:১৯ | আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:৪৫
ফারিসা মাহমুদ

রাজশাহীতে মেয়েটা সিগারেট খাওয়া নিয়ে যে ভিডিওটা দেখেছেন সেটা? ভিডিও দেখে কি মনে হয়েছে যে সিগারেট ইস্যু? ভিডিওতে ক্যামেরা কি মেয়েটার হাতে ধরা সিগারেটের দিকে ছিলো?

ভিডিওটা যদি দেখেন তাহলে প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলান। আমি দেখেছি। সিগারেট ইস্যু করেছে কিন্তু সেটা আসলে মুমিন ভাই সাহেবের চ্যাতার কারণ না। যিনি ভিডিও করেছেন খেয়াল করবেন তিনি ক্যামেরা ধরে ছিলেন মেয়েটার বুকের দিকে।

বিষয়টা একটু গভীরভাবে ভেবে দেখেন। আমাকে যারা ব্যাক্তিগতভাবে চেনেন তারা তো জানেনই আমি নিয়মিত বিড়িখোর। আমার পরিবারের কাছেও তা গোপন করি না। বন্ধু, ভাই, বোন, বর সবার সঙ্গেই আমি বিড়ি খাই এবং আমাদের পরম্পরার সুত্র ধরে বড় ভাইয়া, শাশুড়ি এবং স্যারদের সামনে আমি বিড়ি ফুকি না। এছাড়া ধুমপান নিষেধ এলাকা যেমন হাসপাতাল, এয়ারপোর্ট, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি মেনে চলি। যেমন সবাই মানে আর কি।

শুধু যে বন্ধু বা সঙ্গে কেউ থাকলে বিড়ি ধরাই তা নয়। একা থাকলেও আপন মনে কোনা খুঁজে নিয়ে বিড়ি ধরিয়ে ফেলি। একবার রংপুর যাচ্ছিলাম একা। মাঝপথে যাত্রা বিরতি হয় না? সেখানেও বাস থামার পরে খেয়ে নিয়ে একটু পাশে এসে বিড়ি খেয়ে এসে আবার বাসে উঠেছি। আরেকবার রাঙামাটি থেকে ফিরছিলাম রাতের বাসে। রাত দুইটা, তিনটার দিকে এমন যাত্রা বিরতিতে বাস থামার পরে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে, বিড়ি খেয়ে আমি আবার বাসে ফিরেছি। সেবার ও একাই ছিলাম। প্রায়ই আমি একা ভ্রমণ করি। হয়তো দুই, চারজন কেউ একটু আবাক হয়েছে বা বিরক্তি নিয়ে তাকিয়েছে তা আমি খেয়াল করি নাই। আমি কখনো কে তাকালো বা কে কিছু বল্লো, না কি করলো তা দেখিও না পাত্তাও দেই না। দিলে জিন্স টিশার্ট পরে বা ওর্না ফুর্না না পরে শিরদাঁড়া সোজা করে হাঁটতে পারতাম না। আমি যে পরিবারে জন্ম এবং বড় হয়েছি সেখানে আমাকে কেবল মেরুদণ্ড সোজা রেখে মাথা উঁচু করে সামনে হেঁটে যেতে শিখিয়েছে। এইটা আমার সহজাত স্বভাব, এর বাইরে আমি যেতে পারি না, যেতে চাইও না।

বিশ্বাস করেন, আমি কখনোই কোন মুমিন ভাইয়ের আক্রমনের সামনে পড়ি নাই। রাঙামাটি থেকে যেবার একা ফিরছিলাম সেইবার আমার সঙ্গে বাসে অনেক হুজুর ধরনের সহযাত্রী ছিলো আর জানেনই তো এরা আসে পাশে থাকেই। তবে কেন আমাকে এরা কিছু বলে না কিন্তু ওই মেয়েটাকে ধরলো? না, আমি মেয়েটার দোষ সেটা বলছি না বা তা প্রমানের ও চেষ্টা করছি না। খেয়াল করেন, মেয়েটার সঙ্গী ছিলো একটা ছেলে। মূল বিষয় এইটাই।

আপনারা প্রায়ই দেখবেন, পার্কে ছেলে মেয়ে একসঙ্গে বসে গল্প করতে পারবে না, খোদ ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার এসে বাধা দেবে, হোটেলে থাকতে গেলে এনএইডি কার্ড দেখিয়ে রুম নিতে হবে, এমনও শুনেছি বিয়ের সার্টিফিকেট ও দেখাতে হয়, সোজা কথা সঙ্গে পুরুষ মানে বিয়ে করা প্রভু বা স্বামী হতে হবে। নইলে কি হবে? নইলে আপনি গনিমতের মাল হবেন। যেহেতু ভোগ করা যাবে না, আপনাকে টেনেহিঁছড়ে নগ্ন করতে হবে। এতে আবার বেশ কিছু মহিলাও যোগ দেবে। কেন? "আমি পারি না আর তুই এতো মজার জীবন কাটাবি!" পুরুষমস্তিষ্ক নারীদের মূল সাইকোলজি এইটাই। আপনি আর যাই বলেন।

আমি বোটানিক্যাল এ ঘোরাঘুরি করি। সেখানে জায়গায় জায়গায় সাইনবোর্ড দেয়া, অশ্লীলভাবে বসবেন না, অশালীন আচরন করবেন না, ইত্যাদি আরো কি কি জানি মনেও নাই। মূল কথা প্রেম করা যাবে না। আবার শুনেছি কাপলরা এলে কোন অজুহাতে ওদের আটকে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়, টাকা পয়সা নিয়ে যায়। কতৃপক্ষের উচিত পরের ঘটনাগুলোকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং ব্যাবস্থা নেয়া। তা না হয়ে প্রেম করা বন্ধের ব্যাবস্থা করেছে।

দেখেন, প্রকৃতির সকল প্রাণী প্রেম করে, মানুষ এর বাইরে না। সকল জায়গায় প্রেম নিষেধ হলে অবদমিত মানুষ কি করবে? হিসেব করে আপনি যা বের করবেন তাই ঘটছে এখন আমাদের এখানে। ধর্ষন, নিপিড়ন, নির্যাতন এবং ছুতানাতায় নারীর উপরে সকল ক্রোধ প্রকাশ করছে। এইটা কেবল পুরুষ করছে তাও নয়। নারীও আছে। কেন? কারণ নারীও অবদমিত।

নারী বহুযুগ আগে থেকেই ধুমপান করে। দরিদ্র থেকে উচ্চবিত্ত সকল শ্রেণির নারীই অদিকাল থেকে ধুমপান করে এসেছে। এইটা পুরুষের কাছে নতুন কিছু না। তবে এই সময়ে এসে কেন নারী ধুমপানের জন্যে হেনস্থা হবে? কারণ সিগারেট একটা উছিলা, অবদমিত পুরুষের ক্রোধ প্রকাশের উছিলা।

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)

ফেসবুক,মেয়ে
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close