• শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জেনে রাখুক কারা এনেছে লাল সবুজের পতাকা

প্রকাশ:  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪১
মোহি জামান

আব্দুল আজীজ মসনুদ। আমার মামাতো ভাই। আরপিন নগর তালুকদার বাড়ী জন্ম। মিটিমিটি হাসি মাখা চেহারার মানুষ। সুনামগঞ্জ শহরে বড় হওয়া। সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে বিএ পাশ করে চলে যান আমেরিকা। প্রায় ৪৫ কিংবা ৪৬ সাল আগের কথা। তরুণ বয়সের এক কবি। যৌবনের এক সাহসী যোদ্ধা। নীরব নিভৃতচারী একজন দেশ প্রেমি। বাড়ি পালিয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা এক বীর। একজন নির্লোভী। চাওয়া পাওয়ার উর্দ্ধে থাকা মানুষ। কারো ভালো মন্দে নেই। নিজের মাঝে নিজেকে প্রকাশ করার কোন উগ্র প্রয়াস নেই। নীরবে চলে গেলেন। নিউইয়র্কের মাটিতে শায়িত হলেন। ৭১ সালে একবার স্বইচ্ছায় মরতে গেলেন। মরেন নি। ভাগ্য থাকে মরতে দেয়নি। নিয়তি যাকে ৬৯ বছর বাচিয়ে রাখতে চেয়েছে। ১৯ বছরে কি তিনি মরতে পারেন?

ছোট কালে তাকে দেখেছি। যৌবনে দেখেছি। তারপর আর কিছু জানি না। বয়সের পার্থক্য। বড় ভাই সুলভ দূরত্ব। এক শহরে থাকলেও আমাদের কে পৃথক করে রাখে। ভয় এবং শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে গিয়ে তার সম্মন্বে কিছুই জানা হলোনা। জেনে উঠার আগেই তিনি পরবাসী হলেন। পরবাসী হবার পর থেকে দেশে খুব কম যেতেন। ভাগ্যক্রমে একদিন আমিও বিদেশ বাসী হলাম। একের সাথে অপরের দেখা সাক্ষাৎ সীমিত হয়ে গেলো। দুরত্বের সাথেসাথে সম্পর্কের দুরত্ব বেড়ে গেলো। তার ৪৫ বছর। আমার ৩৫ বছর বিদেশ বাস। জীবন জীবিকা আমাদেরকে এ ভাবে দু'প্রান্তের দুই বাসিন্দা বানিয়ে দিলো।

হ্যাঁ। আমি যার কথা বলছি। তিনি শুধু তার নামে পরিচিত ছিলেন না। তিনি শুবু আমার মামাতো ভাই ছিলেন না। তিনি শুধু কারো সন্তান ছিলেন না তিনি কারো ভাই ছিলেন না। কিংবা কারো স্বামী অথবা পিতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ট সন্তান। তিনি ছিলেন বাঙ্গালীর গর্ব। বাংলাদেশ নামক দেশের সূর্য সন্তান। লাল সবুজ পতাকা আর একখন্ড মানিচিত্রের জন্মদাতা মুক্তিযোদ্ধাদের গর্বিত একজন। নানান জঠিল রোগে ভোগে সেই সূর্য সন্তান ৯ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সব দুঃখ অভিমান। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ভুলে তিনি আজ পর পারে।

সময়ের সাথে দেশে আজ অনেক মুক্তিযোদ্ধা। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধারা আজ বড় অসহায়। আমি নিজেও জানতে পারিনি তিনি মুক্তিযোদ্ধা। তাকে মুক্তিযোদ্ধা বললে অনেকে সন্দেহের তীর বিদ্ধ চাহনি মেলে থাকায়। সন্দেহটা জন্মেছে এমনি এমনি নয়। এর পিছনে যুক্তিযুক্ত কারন আছে। আসল নকলে আজ আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি। 'মসনুদ ভাই' জীবত কালে ভুলেও প্রকাশ করেননি দেশের জন্য যুদ্ধে গেছেন। বাড়ীর সবাইকে ফাঁকি দিয়ে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে গেছেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে অস্ত্র হাতে জীবন বাজি রেখেছেন। কোন স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধা নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ফায়দা আদায়ের ধান্দা তার ছিলো না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কখনো বলতেন না। তিনি বলতেন না বীর। এখন নিজেকে অনেকে নিজেই তা বলে। তিনি বলেননি বলে কি আমরা তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দেব না? মানুষের সন্দেহের তীর থেকে আমরা কি তাকে মুক্তি দিতে দিতে পারি না? হ্যাঁ পারি। আর তাই তার মৃত্যুর পর আমরা খোঁজে বের করছি তার সন্ধান। সরকারের তৈরি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার স্বীকৃতি আছে কি না জানি না। তবে এটা জানি এবং অনুসন্ধান করে জেনেছি তিনি একজন সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা। ভারতীয় ট্রেনিং সেন্টারের তালিকায় যার নাম ছিলো। যার নাম্বার ছিলো ২৪৫৩৯। আজকে সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে সে তালিকা থেকে নাম্বারটা পেয়েছি। কোন প্রাপ্তি যোগের প্রত্যাশায় নয় শুধু প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জেনে রাখুক কারা এনে দিয়েছে তাদেরকে লাল সবুজের পতাকা আর এক খন্ড মানচিত্র। কারা রক্ত দিয়েছে। কারা হারিয়েছে সম্ভ্রম।--ইমানুজ্জামান মহী। ইংল্যান্ড ১৪/৯/২০২০ ইং

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

মুক্তিযুদ্ধ,ফেসবুক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close