• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

প্লাজমা দিতে চান শাওন

প্রকাশ:  ২৫ জুন ২০২০, ২১:৫২
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় তিন মাস ধরে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছিলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছাতকের জাউয়াবাজার ইউনিয়নের দেবেরগাওয়ের তরুণ জহিরুল ইসলাম শাওন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবকের টিম লিডার হিসেবে ত্রাণ বিতরণ, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত, নমুনা সংগ্রহ ও একজনের দাফন কাজে অংশ নেন তিনি। এরই মাঝে গত ৯ জুন শাওন করোনা আক্রান্ত হন। দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি করোনা রোগীর চিকিৎসায় প্লাজমা দিতে আগ্রহী।

জহিরুল ইসলাম শাওনের স্ট্যাটাসটি পূর্বপশ্চিমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

“আপনারা জানেন, গত প্রায় দু সপ্তাহ ধরে আমি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে অসুস্থহ ছিলাম। তাই বেশ কিছুদিন পর আজ আপনাদের সামনে আবারও ফিরে এলাম। আজ প্রথমেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের দরবারে লাখো-কোটি শুকরিয়া আদায় করছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ২০ জুন থেকে ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ অনুভব করছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে করোনার হাত থেকে ‘পুরোপুরি আরোগ্য’ লাভ করেছি। বর্তমানে আমার শরীরে করোনার কোন উপসর্গ নেই। এতদসত্ত্বে আমি এখনও সতর্কতামূলক পন্থা অবলম্বনের ঊদ্দেশ্যে যথাযথভাবে ‘আইসোলেশন’ অবস্থায় আছি। আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় নমুনার ফলাফল আসার কথা।

বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে আমাদের জন্যে দুর্ভাগ্যজনক হল, আজও করোনা রোগের কোন প্রতিষেধক বা কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এত হতাশার মধ্যেও একটা সুখবর হল, করোনা থেকে আরোগ্য লাভকারী রোগীর প্লাজমা নিয়ে অনেকে সুস্থ হচ্ছেন। আমি যখন আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ হয়ে উঠেছি, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমিও যথাসময়ে প্লাজমা দেব, ইনশাআল্লাহ। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা একজন মানুষ মাসে কমপক্ষে দুবার প্লাজমা দিতে পারে।

আমরা অনেকেই আজ এই ভয়াবহ মহামারিতে আক্রান্ত হয়েও আল্লাহতায়ালার করুণায় আরোগ্য লাভ করেছি, এই সুন্দর দুনিয়ায় আপনজনদের মাঝে ফিরে এসেছি। বাস্তবতা হল, এই রোগে মৃত্যুহারের চেয়ে সুস্থতার হার বহুগুণে বেশী। এ বিষয়টাও আমরা স্মরণ করতে পারি। তাই আসুন আমরা মহান রবের শুকরিয়া আদায় করার জন্যে, আমাদের নিজেদের রক্তের প্লাজমা আমাদের চারপাশের অসুস্থ ভাইবোনদের জীবন রক্ষার কাজে ব্যবহার করি।

আমার এই কঠিন সময়ে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই যথাসাধ্য সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তাদের মধ্যে দু-চারজন আছেন যাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তাদের নাম ঊল্লেখ না করলে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। বিশেষ করে মনে পড়ছে, আমার বড় বোন, যে নিজে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির, যিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া ডা. মোজাহারুল ইসলাম, ডা. মো. শহিদুল ইসলাম,চৌধুরী রাজিব, মোস্তফা মুরাদ, হোসাইন মাহমুদ, আলী এবং আমার সহকর্মী সেচ্ছাসেবক মোস্তাক আহমদ পির, স্বপন দাশ, সৈয়দ রুহুল আমিনসহ আমার পরিবারের সদস্যদের কথা।

জানিনা, তাদের ঋণ এই ক্ষুদ্র জীবনে কিভাবে শোধ করবো। আল্লাহর দরবারে শুধু এই দোয়া করি, ‘আল্লাহ দুনিয়া-আখিরাতে তাদের সুখ-সমৃদ্ধি এবং সর্বোপরি সুস্থ-সবল জীবন দান করো।’ এই কঠিন সময়ের মুখামুখি না হলে ঊপলব্ধি করতে পারতাম না, দুনিয়ায় এত মানুষ আমাকে ভালবাসে। তাদের এই ভালবাসা ও মায়ার প্রতিদান আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়।

এখন করুণাময়ের দরবারে শুধু একটা জিনিসই প্রার্থনা করব: ‘হে আল্লাহ! এই যাত্রায় যখন তোমার এই পাপী বান্দাকে সুস্থ করে দিয়েছো, বাকী জীবন, যতদিন তুমি বাঁচিয়ে রাখো, মানুষের কল্যাণে যেন কাজ করে যেতে পারি।’ তাঁর দরবারে আজ আমার এই একটাই ফরিয়াদ।

আল্লাহ পাক সবাইকে হেফাজত করুন, আক্রান্ত সবাইকে সুস্থতা দান করুন। আসুন আমরা সবাই জরুরী প্রয়োজন ব্যতিরেকে, নিজেরা ঘরে থাকি, সুস্থ থাকি এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখি।এবং আসুন সবাই একে অন্যের বিপদে ও প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াই। ‘সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যকে আমরা পরের তরে’ মানবতাবাদী বাঙালি কবির এই মহান বাণী প্রমাণের জন্যে এটাই ঊপযুক্ত সময়। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। করোনার এই ভয়াবহ ঝড়ের কবল থেকে তিনি মানবজাতিকে উদ্ধার করুন।

আবারও সবার প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও আন্তরিক ধন্যবাদ প্রকাশ করছি।”

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস,সুনামগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close