• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই রক্ষা করতে হবে

প্রকাশ:  ০৩ জুন ২০২০, ২২:৩৮
ফারজানা ইসলাম লিনু

একদিন ঘুম ভেঙে টের পাই নিজেদের অজান্তেই গজানো শিকড় এক জায়গায় স্থির হয়ে যাচ্ছে। করোনাজনিত বন্দীত্বের কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে গৃহবাসী বিজ্ঞজনদের ধারণা। অল্প গজানো শিকড়টা ছিন্ন না করলে আরো মজবুত হবে, শরীরে শেওলাও জমবে ধুমসে।

সুতরাং গৃহবন্দীত্বের লৌহ কপাট খুলে এক মেঘলা বিকেলে একঘেয়েমি জীবনে খানিক বৈচিত্রের খোঁজে বেরিয়ে পড়ি আমরা।

নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। বাঁচতে হলে ঘরে থাকতে হবে..... হোম কোয়ারেন্টিনের বিভীষিকাময় দিনে আমরা অন্তত এইটুকু শিক্ষা অর্জন করেছি ভালোভাবেই।দরজার বাইরে পা দিয়ে ছানা পোনারা ব্যাকুল হয়ে আকাশ বাতাস দেখে। আড়াই মাস যেন কত দীর্ঘ দিবস, কত দীর্ঘ রজনী। দুনিয়ার সৌন্দর্যে বিমোহিত আমরা আবেগ সংবরণ করতে পারিনা। প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে শ্বাস আটকে যায় যায় অবস্থা। ক'মাস আগেও কি কারো কল্পনায় অমন এক পৃথিবীর চিত্র ছিলো? পিচঢালা পথটায় হাত ছুঁয়ে পুত্র নিশ্চিত হতে চায় এই কি আমাদের চির চেনা পথ!!

অন্ধকার থেকে আলোতে এসে সবার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা প্রায়।

সামাজিক দুরত্বের নিষেধাজ্ঞায় চেনা পথের অচেনা জগতে যাবার জায়গা বিরল আজ। জঙ্গলের পথে হাটা দিতেও ভয় হয়। পথ চিনে করোনা যদি পিছু নেয় আমাদের? সর্ব সম্মতিক্রমে এমসি কলেজই গন্তব্য।

এমসি কলেজের জনাকীর্ণ ক্যাম্পাসের গল্প যেন এই মুহুর্তে ইতিহাস। সবুজের আচ্ছাদনের মাঝে ভুতুড়ে এক নির্জনতা সবখানে। মানব সন্তানদের নোংরামির যন্ত্রণায় বিশাল পুকুরের শ্বেত পদ্মদের জীবন অতিষ্ঠ ছিলো এতোকাল। খাবারের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন, বাদামের খোসা, সিগারেটের টুকরা আরো কত কি পানিতে ভাসতো অবলীলায়।

লকডাউনে স্বস্তি এসেছে প্রকৃতিতে। সরোবরের হৃত সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। সবুজ পদ্মপাতার ভীড়ে শ্বেত পদ্মরা গরবে মাথা তুলে দাড়িয়েছে এবার।

চোখ ধাঁধানো অভাবনীয় এক দৃশ্য।

সরোবরের পারে মৌন ক্ষণ কাটাতে গিয়ে বারবার মনে হচ্ছে কতকাল আকাশ দেখিনা, কতদিন গায়ে বাতাস মাখিনা। দূষণের শহরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশুদ্ধ বাতাসে যেন কিসের হাহাকার।

জনাকয়েক সৌখিন মৎস্যশিকারীর নিরব আনাগোনায় নিরবতা এখানে কিঞ্চিৎ বিপন্ন প্রায়। অসীম ধৈর্য্য নিয়ে বড়শি হাতে সবার দৃষ্টি চখাইটের উপর স্থির। পিনপিনে বৃষ্টিতেও নির্বিকার সবাই। মাছেরাও চালাক ভীষণ। অতি সন্তর্পনে টোপ গিলে বড়শি উগলে দৌড় দেয় পুটি মাছের দল। দুর্ভাগা দুএকজন লটকে যায় মাঝে মাঝে। শিকারিদের মাঝে উল্লাস পড়ে তখন।

অনেক অনুনয় করে ক্ষুদে এক শিকারীর হাত থেকে বড়শি নিয়ে দুটো পুটি মাছ ধরে দেই আমি। মাছেদের ত্যাদড়ামিতে অতিষ্ঠ হয়ে ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে আমার।বড়শি ফেরত দিয়ে বলি, ধুর যা আর মাছই ধরতাম না।

ঘরে ফেরার তাড়া আমাদের। আবার বসে থাকার আকুলতাও আছে। তবুও বৃষ্টির ঝাপটায় মাখামাখি করে ফিরতে হয় বন্দী জীবনে।

ফারজানা ইসলাম লিনু

লেখক: শিক্ষক ও কথাশিল্পী

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

করোনাভাইরাস,ফারজানা ইসলাম লিনু,শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close