• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

আমরা মানুষ হিসাবে একেবারেই সচেতন নই

প্রকাশ:  ২৯ মে ২০২০, ১৪:৩৭ | আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ১৪:৫৮
হোসনে  আরা জেমী

টরোন্টোর সকাল মেঘলা আকাশ টুপটাপ বৃষ্টি কেমন যেন চারদিক থমথমে। যখন আমি বেজমেন্ট থেকে গাড়ি বের করে টরোন্টোর রাস্তায় নামছি তখন জনশূন্য রাস্তা, একটা দুটো গাড়ি হুস করে চলে যাচ্ছে, হঠাৎ একটি লালবাস দেখা গেল তাও বহুদূরে। বাস স্টপেজ গুলোতে যেখানে লোক ভর্তি থাকতো সেখানে একজন দুজন দেখা যাচ্ছে, তাদের পোশাক বলে দিচ্ছে কেউ স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, পারসোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার, কেউ হয়তোবা সমাজসেবী যাদেরকে বলা যায় এই কোরনা যুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধা। কেউ যাবে হাসপাতালে, লংট্রাম কেয়ারে, সিনিয়র হোমে, গ্রুপ হোমে, কিংবা মানসিক চ্যালেঞ্জিং মানুষদের কাছে। অসহায় মানুষগুলো অধীর আগ্রহে বসে আছে সেইসব সম্মুখ যোদ্ধাদের অপেক্ষায়। এই যোদ্ধারা কখন আসবে মুখে তুলে দেবে পছন্দের খাবার, ঔষধ আর শরীরে বুলাবে ভালোবাসার পরশ।

বিশ্ব আজ থমকে গেছে। থমকে গেছে মানব জীবন। অবরুদ্ধ আজ গোটা বিশ্ব একটি অনুজীবের কাছে। প্রিয় মানুষটিকেও পারছিনা পরম ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরতে। কি বলবো সব মিলিয়ে এক অস্বাভাবিক আবস্থা বিরাজ করছে গোটা বিশ্ব জুড়ে। ভুলে যাচ্ছি দিন, ক্ষন ও সময়। কবে আরার আসবে আমাদের যা ছিল আগে প্রাত্যহিক জীবন। সেই সাথে এই করোনা যুদ্ধে আমাদের চিনিয়ে দিচ্ছে আপন পর, বন্ধুজন, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন। আজ তাই মনে পড়ছে "বরিষ ধারা মাঝে শান্তির বারি" জানিনা কবে কবে আসবে সেই শান্তির বারি।

আজ এতোদিন পরে এসে, এইটুকু উপলব্ধি করতে পারছি যে, আমরা মানুষ হিসাবে একেবারেই সচেতন নই। সেই সাথে আমাদের বিবেক, বুদ্ধি ও বোধ শুন্যের খাতায় নেমে এসেছে। যেখানে ৭১ টিভিতে বললে ' ভয় নয় সচেতনতাই জয়"। আমরা কি আসলেই কিছু সচেতন হয়েছি? আমরা উৎসবের নাম করে লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে যাচ্ছি প্রিয়জন এর কাছে। সবার জীবিকার জন্য ফিরে আসছি শহরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার বলছে যে তিন ফিট দুরত্ব বজায় রাখতে। আমাদের মতো দেশে কোন ভাবেই সম্ভব নয় জানি। তবুও আমরা যদি সচেতন হই তাও সম্ভব হবে। জানিনা সামনের দিনগুলি কেমন হবে। যেখানে বিশ্ব বিভিন্ন দেশে আক্রান্তের হার কমছে, সেইসাথে খুলে দেওয়া হচ্ছে ধীরেধীরে সব কিছু । সেখানে আমার সোনার দেশে বেড়েই যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। আর তখনি ভেসে উঠছে আমার মা এর মুখ, বোন, বন্ধু ও প্রিয়জনদের মুখ। বারবার মনে এইসব প্রিয় মুখ গুলো দেখতে পাবো? অণুজীব গবেষণকরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে যাচ্ছেন এর গতিপথ। হয়তো খুব তাড়াতাড়ি প্রতিশেধক আমাদের হাতে এসে পৌছাবে কিন্ত এই সময়ের মধ্যে আমরা হারাবো কত কত প্রিয়জন। আসবে সামনে নতুন দিন, নতুন আশা, নতুন কিছু।

তারপরও আমরা একটু ফিরে দেখি এবং জানার চেষ্টা করি, এই ভাইরা মোকাবিলায় চীন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল ।এই প্যানডেমিকে উহানে ‘সম্পুর্ণ লকডাউন’ ঘোষনা করে । চীনের লকডাউন আর বাংলাদেশের লকডাউনের এক নয়। বাংলাদেশে ইচ্ছা করলেই বাহিরে বেরিয়ে যাচ্ছে ।

চীনে প্রকৃত অর্থেই সার্বিক লকডাউন করা হয়েছিল । সেখানে বাড়ি থেকে কেউ বেরোতে না আর বাইরে সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিলো। সরকার ঘোষণা করে , বিল যদি বাকী থাকে তবুও নাগরিকদের বিদ্যুৎ, জল, ইন্টারনেট, টেলিফোন সহ অন্যান্য জরুরি পরিসেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না ।সবকিছু বন্ধ থাকার কারনে সেখানকার মানুষ খাবার অর্ডার করেছে এবং তারা ঘরে বসেই খাবার পেয়েছে । যা আমাদের বাংলাদেশে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। চীন সমস্ত সরকারি কারখানায় সব কাজ বন্ধ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন করেছে ।রোগের কোনও লক্ষণ দেখা গেলেই সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। ভাইরাস ধরা পড়লে পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করাছে ভাইরাসের অস্তিত্ত্ব ।যারা কম-আক্রান্ত তাদের জন্য স্টেডিয়াম, স্কুল ইত্যাদি স্থানে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং মাঝারি ও ক্রিটিকাল রোগীদের পাঠানো হয়েছে হাসপাতাল। উহানে পৌচ্ছে গেছে ৪০ হাজার মেডিক্যাল কর্মী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৬ লক্ষ টেস্ট করা হয়েছে এবং ১০ দিনে ৬৪৫০০০ বর্গ ফুটের হাসপাতা বানানো হয়েছে। তথ্যগুলো দিয়েছেন হু-এর ব্রুস আইলওয়ার্ড থেকে পাওয়া।

তাই আমরাও পারি এইসব উদাহরণ থেকে শিখতে।

হোসনে আরা জেমী

টারন্টো/ মে ২৯,২০২০

কবি ও মানবাধিকার কর্মী

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

করোনাভাইরাস,হোসনে  আরা জেমী,ফেসবুক স্ট্যাটাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close