• বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

করোনায় মৃত বাবার কপালে সন্তানের শেষ আদর, চিকিৎসকের স্ট্যাটাস ভাইরাল

প্রকাশ:  ২২ মে ২০২০, ১৬:২৯ | আপডেট : ২২ মে ২০২০, ১৬:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারি করোনা ক্ষণে ক্ষণে জন্ম দিচ্ছে নানা হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। মা থেকে যেমন আলাদা করে দিচ্ছে সন্তান ও তার পরিবারকে, তেমনই করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দেখা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে মৃতের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের। নিরাপত্তার কারণে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন করা হয় সরকারি ব্যবস্থাপনায়।

তেমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য ধরা পড়লো চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে। করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া বাবাকে অনেকটা লুকিয়েই শেষ বিদায় দিতে এসেছিল তার সাত বছরের একমাত্র সন্তান। প্রাণহীন বাবার কপালে আর দু’গালে শেষবারের মতো আদরের পরশ বুলিয়ে দিয়ে যায় সে।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে বেদনাবিধুর বাস্তবতা নিয়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন চিকিৎসক বিদ্যুৎ বড়ুয়া। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি।

ভিডিওটির নিচে ক্যাপশনে চিকিৎসক বিদ্যুৎ বড়ুয়া লিখেন,

চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে বেদনাবিধুর বাস্তবতা:

সন্তানের শেষ আদর বাবাকে-

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, গত ২০ মে ৪০ বছরের রোগী জীবনের শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা নিতে এসেছিল আমাদের চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে। রোগীকে প্রথম দেখায় বুঝতে পেরেছিলাম জীবনের সময় বেশি নেই। তবু চেষ্টা করেছিলাম আমাদের সামর্থ্য নিয়ে রোগীকে বাঁচাতে।রোগীর অভিভাবকও বুঝতে পেরেছিল রোগীর পরিণতি। করোনা টেস্ট হয়নি কিন্তু সকল লক্ষণ করোনা ভাইরাস জনিত। অবশেষে মারাও গেলেন ১৩.৩০ ঘণ্টা পর। রোগীর অভিভাবক হিসেবে সাথে ছিলেন তার স্ত্রী। স্ত্রী কে জিজ্ঞেস করতেই বললো তাদের ৭ বছরের সন্তান আছে। সাধারণত করোনা জনিত লক্ষণে মারা গেলে সিভিল সার্জন অফিসে জানাতে হয়। পরে সিভিল সার্জন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দ্রুত দাফন করা হয়।

কিন্তু আত্মীয় স্বজন কেউ মৃত ব্যক্তিকে দেখার সুযোগ হয় না। আমি মৃত রোগীর অভিভাবক স্ত্রীকে বললাম আপনাদের সন্তানকে তার বাবাকে দেখবে না? উত্তরে বললো বাসায় কেউ নাই আর কিভাবে আসবে। পরে সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেলে সন্তান বাবাকে দেখতে পারবে না। আমি বললাম আপনি বাসায় গিয়ে আপনাদের সন্তানকে নিয়ে আসেন আমাদের হাসপাতালের গাড়ি নিয়ে। তাই হলো মা সন্তানকে আমাদের গাড়িতে করে নিয়ে আসলো। সন্তান বাবা কে তার শেষ স্পর্শ আদর দেওয়ার মুহূর্ত - (তাদের সন্তান এর সাথে আলাপে তার বাবা সন্তানের অনেক কিছু জানা হলো - কষ্ট হলো অনেক ৭ বছরের সন্তান তার বাবা কে হারালো)

পরিচালক বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, এমন ঘটনা এই হাসপাতালে প্রথম। রোগীকে বাঁচানোর জন্য যা করা দরকার আমরা করেছি। বিষয়টি আসলে আমাকেও নাড়া দিয়েছে। শিশুটির সাথে আমি কথা বলেছি। তাকে নিয়ে তার বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরেও বলেন, এটি হয়তো একটি শিশুর গল্প। কিন্তু আরও অনেক গল্প আমাদের আশে পাশে প্রতিনিয়ত ঘটছে আমরা তার কোন খবরও রাখছি না।এই বাস্তবতা মেনেই আমাদের চলতে হচ্ছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

করোনাভাইরাস,মৃত বাবা,সন্তানের শেষ আদর,ভিডিও ভাইরাল,চট্রগ্রাম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close