• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ডিআইজি হাবিবুর রহমানের মানবিকতা, কেঁদেই ফেললেন করোনা আক্রান্ত পুলিশ

প্রকাশ:  ১৫ মে ২০২০, ১৬:৫৪
প্রিয়াংকা সাহা

আমি নারী কং/১২০২ প্রিয়াংকা সাহা। বর্তমানে আমি নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সোনারগাঁ থানায় কর্মরত আছি। করোনাভাইরাসের সময় ও অন্যান্য দিনের মত ডিউটি পালন করতে থাকি আমি। হঠাৎ কর্তব্যরত থাকাকালীন সময়ে আমার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে আমি বিষয়টি আমার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মনির স্যারকে অবহিত করি। তিনি বিষয়টি আমাদের শ্রদ্ধেয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, “খ”-সার্কেল স্যার এবং মাননীয় পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয়কে কে জানায়। পরবর্তীতে স্যারেরা দ্রুত আমাকে নাঃগঞ্জ পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

গত ১৪-০৪-২০২০ ইং তারিখ আমার নমুনা সংগ্রহ করেন এবং ১৫-০৪-২০২০ ইং তারিখে আমার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯-০৪-২০২০ ইং তারিখে স্যারেরা আমাকে দ্রুত রাজারবাগ সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করেন। গত ২০-০৪-২০২০ ইং তারিখ আমার ফোনে লাস্ট-১৬ নাম্বার থেকে একটা ফোন আসে আমি নমস্কার বলার সাথে সাথে বলতেছে, প্রিয়াংকা আমি ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ হাবিবুর রহমান তোমার এখন কি অবস্থা বল….

তখন আমি পুরোপুরিভাবে হতবাক হয়ে পড়ি স্যরের পরিচয় আর গলার আওয়াজ শুনে। আবেগে আপ্লুতো হয়ে যাই এবং দেখি আমার চোখ দিয়ে অঝরে পানি চলে আসছে। আমি বুঝতে পারলাম এটা আমার আনন্দের কান্না। আমার মত একজন কনস্টেবল কে স্যার ফোন দিছে, তাও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি স্যার তিনি।

স্যারকে যখন বললাম স্যার আমার অবস্থা তেমন ভাল না আমার কিছু হয়ে গেলে আমার পরিবারকে দেখে রাইখেন। স্যার আমাকে বলতে লাগলো তোমার কিছু হবেনা তুমি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। স্যার তাৎক্ষনিক ঐ দিন আমাকে আই সি ইউ তে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেয়। এরই মধ্যে জানতে পারি ডিআইজি স্যার আমার পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন, টাকা-পয়সা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বাজার আমার বাসায় পৌছে দিচ্ছেন। পরবর্তীতে গত ০২-০৫-২০২০ এবং ০৪-০৫-২০২০ ইং তারিখ পরপর দুইবার আমাকে টেস্ট করালে দুইবারই আমার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে হাসপাতাল থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেয়। ঈশ্বরের কৃপায়, মানুষের আশীর্বাদে, স্যারদের আন্তরিকতা, সাহসে আমি এখন পুরাপুরি সুস্থ। মনোবল হারাইনি।

শ্রদ্ধাঞ্জাপন করছি আমাদের শ্রদ্ধেয় অভিভাবক, বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, জনাব হাবিবুর রহমান বিপিএম(বার), পিপিএম (বার) মহোদয়, অতিঃ ডিআইজি জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম (বার) মহোদয়, আমার নাঃগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম (বার), বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমাদের “খ”-সার্কেল মহোদয় জনাব মোঃ খোরশেদ আলম স্যারের প্রতি।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, জনাব হাবিবুর রহমান বিপিএম(বার), পিপিএম(বার) মহোদয়, ইতিমধ্যে আমাকে আমার পরিবারকে সর্বোচ্চ হেল্প করেছেন আর্থিক সহায়তা করেছেন সবসময় আমাকে সাহস দিয়ে উৎসাহিত করেছেন সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিয়েছেন।

আমি অত্যন্ত খুশি আর আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমি আমার পরিবারের পাশে থাকতে না পারলে ও আমি মনে করি বাংলাদেশ পুলিশের দুই লক্ষ সদস্য আমার পরিবারের পাশে আছে সবসময়।

আমি যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তখন আমার ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বাজার-সদাই যা যা দরকার, খাবার দাবার সবকিছু পৌছিয়ে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ এটাই বলতে চাই…স্যার আপনার মতো একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পেয়ে ধন্য আমি, ধন্য বাংলাদেশ পুলিশ। ধন্যবাদ স্যার আপনাকে। জয় হোক মানবতার, জয় হউক বাংলাদেশ পুলিশের।

আমি গুছিয়ে লিখতে পারিনা, বলতে পারছিনা আমার প্রতি স্যারদের আন্তরিকতা আর অশেষ কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ কিভাবে করবো। ডিআইজি স্যার, অতিঃ ডিআইজি স্যার, এসপি স্যার, খ সার্কেল সহ অন্যান্য সবাইকে আমার পাশে, আমার পরিবারের পাশে যেভাবে পেয়েছি আমি সারাজীবন মনে রাখবো আমি এই ঋণ কোনদিন পরিশোধ করতে পারবো না। সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন।

লেখক: পুলিশ সদস্য


পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

পুলিশ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close