• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি চীনকে যে অসহায়ত্বের কথা বললেন!

প্রকাশ:  ১০ এপ্রিল ২০২০, ০০:৩৭ | আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ০০:৪৪
লাকমিনা জেসমিন সোমা

বাংলাদেশকে সাহায্য করতে খুব শিগগির চীন থেকে ১৫ সদস্যদের একটি মেডিকেল টিম বাংলাদেশে আসছে। ভালো খবর। কিন্তু, সেই সাথে একটা খুব খারাপ খবরও আছে। বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগের। বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে চীনের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ, হুয়াশান হাসপাতালের সংক্রমণ বিভাগের পরিচালক ডাঃ চাং উন হোং এর কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিচ্ছিলেন ঢাকার ডাক্তাররা। সেখানে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি ডাঃ আবুল কালাম আজাদও।

যেহেতু ডাক্তারের কাছে রোগ লুকিয়ে লাভ নেই, হয়ত সে কারণেই ওই চীনা বিশেষজ্ঞের কাছে অকপটে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এবং নিজেদের নানা রকম সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন ডিজি মহাদয়। যদিও মিডিয়ার সামনে তিনি কিংবা স্বাস্থ্যমন্ত্রী কখনোই নিজেদের এই অসহায়ত্বগুলো স্বীকার করেননি, এখনও করছেন না। তো চীনা বিশেষজ্ঞের কাছে ডিজি মহাদয় অকপটে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যে সরল স্বীকারোক্তি দিলেন তা নিচে তুলে ধরলাম----

প্রথমত, ‘‘আমাদের অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে গ্রামাঞ্চলে চলে গেছে। আমরা অবশ্য বিমানবন্দরে তাদের সবার স্ক্রিনিং (পরীক্ষা) করেছি। কিন্তু সেটি শুধু জ্বর বা অন্য কিছু উপসর্গের টেস্ট মাত্র। তখন অনেকেই কভিড-১৯ এর উপসর্গ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। সে কারনে আমাদের দেশের একটি ধারণা- গ্রামাঞ্চলে অনেক করোনা আক্রান্ত থাকতে পারে। তার বাইরেও থাকতে পারে যেটি আমরা এখন আর সনাক্ত করতে পারছি না।’’

দ্বিতীয়ত, ‘‘যেহেতু বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অনেকটা বেশি, সুতরাং আমি মনে করি আমাদের দেশে যথেষ্ট পরিমাণ সনাক্ত/পরীক্ষা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ আমাদেরকে জানাচ্ছেও না। ফলে তারা মারা যাচ্ছে। এবং আমরা ওই মৃত দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখছি তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সুতরাং ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হলেও আমরা জানিনা এর আরো আগেই বাংলাদেশ করোনা আক্রান্ত হয়েছে কি না। মৃত্যহার বেশি হওয়ার এটিও একটা কারণ হতে পারে।’’

তৃতীয়ত, ‘‘আমরা শুরুতে আমাদের দেশের জেনারেল হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ইউনিট করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা অবশ্য এরইমধ্যে করোনা চিকিৎসার জন্য আলাদা হাসপাতাল করেছি। কিন্তু এই হাসপাতালগুলোতে করোনা সনাক্তকরনে তুমি (চীনা বিশেষজ্ঞ) যে সিটিস্কান বা রেডিওলজি ব্যবহারের কথা বলছো তা বসানো ভিষন কঠিন ব্যাপার (অসম্ভব)।’’

চতুর্থত, ‘‘আমরা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। করোনা সনাক্তকরনে আমরা এখনো পযর্ন্ত মাত্র ১৫ টি সেন্টারে আরটিপিসিআর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করছি। হয়ত আগামি এক সপ্তাহ বা ১০ দিনের মধ্যে ২৮ টি সেন্টারে পরীক্ষা করতে পারব। কিন্তু আমাদের দেশে কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহ করাও অনেক কঠিন। এখনও পযর্ন্ত সারা দেশ মিলিয়ে আমাদের মাত্র ৫০০’র মতো লোক আছে এগুলো সংগ্রহ করার।’’

পঞ্চমত, ‘‘এখানে আমরা একটা ব্যপার নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা যদি লোকজনকে সরাসরি সেন্টারে এসে পরীক্ষা করতে অনুমতি দিই তাহলে সেখানে ভীড় বাড়বে। এবং তাতে আবার সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকবে। সে কারণেই আমরা আমাদের স্টাফদের মানুষের বাড়ী গিয়ে নমুনা সংগহের কথা বলেছি। কিন্তু সত্যি বলতে এটি পুরো প্রক্রিয়ায় একটি সীমাবদ্ধতা/প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।’’

ডিজি মহাদয়ের শেষ কথা- ‘‘এমন পরিস্থিতিতে আমরা কী করব?’’

ওই ভিডিও কনফারেন্সে চীনা বিশেষজ্ঞ মোটাদাগে কয়েকটি পরামর্শ দেন। আর তা হলো, ইতালির মতো বিপদে পড়তে না চাইলে প্রথমত, ঘরে থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত ট্রেসিং এন্ড টেস্টিং, অর্থাৎ- পরীক্ষা এবং সনাক্তকরণ যথেষ্ট পরিমাণে হতে হবে। তৃতীয়ত, মুত্যুহার যাতে কমানো যায় সেজন্য পযার্প্ত আইসিইউ বা ভেন্টিলেশন সিস্টেম থাকতে হবে।

তার পরামর্শের পর আমাদের ডিজি মহাদয় এমন একটি বক্তব্য দেন। খোদ ডিজির মুখেই এসব কথা শুনে আঁচ করতে পারছি আমাদের প্রস্তুতি কেমন। আরো দুঃখের ব্যাপার হলো- তিনি সবই জানেন, সবই বোঝেন...কিন্তু গণমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি, আমাদের সবকিছু যথারীতি চলছে’।

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

স্বাস্থ্যবিভাগ,ডিজি,চীন,করোনা,ফেসবুক স্ট্যাটাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close