• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

আমার করোনা টিপস

প্রকাশ:  ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১৪:০২
জেসমিন চৌধুরী

আমি আমার পরিবারের প্রতিরক্ষার জন্য যত ধরনের সতর্কতা সম্ভব অবলম্বন করছি। মাঝে মধ্যে বাজার করতে বা ওষুধ কিনতে ফার্মেসিতে যেতেই হয়। ফিরে এসে ব্যাগগুলো আমি বাগানে ফেলে রাখি কমপক্ষে একদিন। আমি বিশেষজ্ঞ ন‌ই, তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়মিত পড়ছি। করোনা ভায়রাস কার্ডবোর্ড, প্লাস্টিক এবং ধাতব সারফেইসে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারে। কোনো কোনো আর্টিকেলে বলছে কয়েক ঘণ্টা, কোনোটায় বলছে কয়েকদিন।

কাজেই প্রতিদিন দরজার হাতল, মেঝেসহ ঘরের সমস্ত সারফেইস, মোবাইল, টিভির রিমোট, গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল ও দরজার হাতল এবং সুইচবোর্ডগুলো পরিষ্কার করছি। এলকোহোল যুক্ত ক্লিনিং স্প্রে আমার নেই, বাজারে পাওয়াও যাচ্ছে না। তাই Dettol all purpose spray ব্যবহার করছি। এটা ৯৯.৯৯% ব্যাকটেরিয়া এবং ভায়রাস ধ্বংস করতে পারে বলে গায়ে লেখা আছে। গাড়িতেও একটা স্প্রে রেখে দিয়েছি, ঘরে ঢোকার আগে দরজার হাতল পরিষ্কার করে নিই।

ব্যাখ্যাটা সঠিক মনে নেই তবে একজন বিশেষজ্ঞকে বলতে শুনেছি করোনা একটা fatty envelope এর মধ্যে থাকে যা এইসব ক্লিনার দিয়ে ভেঙ্গে দেয়া যায়। ফলে all-purpose ক্লিনার কিছুটা হলেও কাজ করে। ফ্লোর এবং বাথরুম ব্লিচ মেশানো পানি দিয়ে পরিষ্কার করছি। ব্লিচের কন্টেন্ট বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া এবং N1H1 flu virus কে ধ্বংস করতে পারে বলে বোতলের গায়ে লেখা আছে।

এতো কিছু করেও কতটুকু লাভ হবে জানি না।

দিনে দিনে করোনায় মৃতদের বয়স কমে আসছে। নিউইয়র্কে আমার এক বন্ধু হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে।‌ আমার বয়সী আরো দুজন বাঙালির মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি।‌ আজ যে দুজন বৃটিশ নার্স মারা গেছেন দুজনের বয়স‌ই আমার চেয়ে অনেক কম।

করোনায় মৃত্যুর সবচেয়ে করুণ বিষয়টা হলো শেষ মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাওয়া যায় না। ঠিকমতো বিদায় নেয়া যায় না। এর চেয়ে ভয়াবহ মৃত্যুর কথা আমি ভাবতেই পারি না।

সবাই ঘরে থাকুন, বাইরে যেতে বাধ্য হলে সতর্ক থাকুন, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখুন। ঘরে ফিরে কিছু স্পর্শ করার আগে হাত পরিষ্কার করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাতে লোশন লাগাতে ভুলবেন না, নয়তো চামড়ার অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

জেসমিন চৌধুরী,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close