• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

কঠিন সময়ে কঠোর হোন: পীর মিসবাহ এমপি

প্রকাশ:  ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৪৮ | আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:০৬
পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ

আমরা খুব বেশী নিয়ম মানছি না।ঘরে ঘরে অস্থির। সচেতন মানুষেরা।গতকাল প্রচুর গাড়ী বের হয়েছে ঢাকা শহরে।মাত্র কয়েকদিনে বাইরে যাবার খুব প্রয়োজনের কথা নয়।আসলে ভাল লাগছে না ঘরে।আড্ডা প্রিয় মানুষেরা ঘরে থাকতে চাইছেন না।আরেকদিকে আমার হাওরের মানুষেরা অধিকাংশই করোনা সম্পর্কে তেমন জানেন না।জানতে বা গুরুত্ব দিতে ইচ্ছেও নেই তাদের।আর্মি -পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট যায়। তাই কিছুটা সমীহ করেন।

আমি আশ্চর্য সচেতন মানুষদের নিয়ে।তারা কেন এমন করছেন।সুন্দর সুন্দর গাড়ী নিয়ে ঢাকা শহরের অনেক রাস্তায় জ্যাম করে ফেলেছেন।এরা এমন করছেন কেন?

না কি বিভিন্ন প্রচারণায় অযথাই সাহসী হয়েছেন।

কারণ ফেসবুকে এখন করোনা বিশেষজ্ঞ! বেশী। কেউ বলছেন তাপমাত্রার কারণে কিছু হবেনা। কেউ বলছেন আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী।কিছু হবেনা।যেমন ইচ্ছে বক্তব্য পাচ্ছি। এসবের জন্য কি শিক্ষিত লোকজনের গাড়ীতে সড়কে জ্যাম? অথচ এসব কথা দায়িত্বশীল কোন সংস্থা থেকে এখনও স্বীকৃত না।কেউ এটাকে স্বীকৃতি দেয়নি।যদি এসব স্বীকৃতি পায় তাহলে সবার জন্য আনন্দের।যতক্ষণ স্বীকৃতি নেই প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।ঘরে থাকতে হবে। সামাজিক দুরত্ব মানতেই হবে।এখানে খামখেয়ালির কিছু নেই। বাহাদুরির কিছু নেই। জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। নিজে এবং আশপাশের সবাইকে বাঁচানোর জন্য নিয়ম মানতে হবেই।

প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। বেঁচে থাকার অধিকার প্রথম মানবাধিকার।ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রোদ্রিগো কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।সেখানে লকডাউন না মানলে গুলির নির্দেশ।কঠোর আদেশ হলেও মানুষের জীবন বাঁচানোর স্বার্থে এ আদেশ ।দিল্লীতে তাবলীগ জামায়াতে অংশ নেয়া অনেকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।অনেকে অসুস্থ।সৌদিতে কার্ফু জারি করা হয়েছে। সব কিছুই করা হচ্ছে মানুষের মঙ্গলের জন্য। আমাদের দেশে অনেকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না।অনেক শিক্ষিতজনরাও।

এমন করেছিল ইতালী, আমেরিকাও। আমাদের দেশ প্রথম আক্রান্ত হয়েছিল ৮ মার্চ। আক্রান্তের প্রায় ২৫ দিন যাচ্ছে।ব্যাপক মৃত্যু দেখেনি এই সময়ে।সেকারণে গুরুত্ব কম। ভুল হচ্ছে সেখানেই ।আমেরিকাতে আক্রান্তের ২৩ তম দিনে মাত্র ১১জনের মৃত্যু হয়েছিল। এখন ঠাঁই নাই রোগীদের। মৃতের সংখ্য ৫ হাজার অতিক্রম করেছে। সেখানে ৫০জনের বেশী বাংলাদেশী মৃত্যুবরণ করেছেন।ভয়াবহ প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সেদেশের বিশেষজ্ঞরা। কাজেই আমরা নিজেরা বিশেষজ্ঞ হওয়া থেকে বিরত থাকি।প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলি। আইনপ্রয়োগকারীরা কঠোর হোন। জীবনের প্রয়োজনে।

সুনামগঞ্জে আঞ্চলিক শব্দ আছে "খুছকর"।দু’একজনকে দেখছি খুছকরি খাইসলতে পাইছে।এই দু’একজন খুছকরি বাদ দেন।গন্ডারের স্বভাব বাদ দেন।আমাদেরকে বাঁচতে দেন।কঠিন সময়ে আছি।সঠিক পথে চলেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।পরম দয়ালু আল্লাহর কাছে মুক্তি চান নিরাপদে থেকে।

সুদিন যখন আসবে সবাই আনন্দ করব।পথে -প্রান্তরে ঘুরে বেড়াব।হাওরের জলে খেলা করব।বাউল গানের আসরে হাসনরাজা , শাহ আব্দুল করিম, রাধারমণ, দুর্বিনশাহ আসবেন।আমরা তাদের ভেতর ডুবে ডুবে সব কষ্ট ভুলে যাব।বজরায় করে হাওরের জলে যাব।বিশাল হাওরের জলে ডুবিয়ে দেব সব কষ্ট-বেদনা । কালনী নদী দিয়ে শাহ আব্দুল করিমের ধলের বাড়ীতে গিয়ে আসরে বসব। মন উজাড় করে গাইব, "বন্ধুর বাড়ীর ফুলের গন্ধ আমার বাড়ী আসে,সইগো বসন্ত বাতাসে"। ভাল থাকুন সে পর্যন্ত।

(ফেসবুক স্ট্যাটাস )

লেখক: জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য।

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ,বিরোধী দলীয় হুইপ,সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close