• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

মৃত্যুর মিছিল দেখেও আমাদের অহংকারের অবসান হলোনা!

প্রকাশ:  ০২ এপ্রিল ২০২০, ১০:১১
খায়রুল ইসলাম জুয়েল
খায়রুল ইসলাম জুয়েল

কি হচ্ছে গোটা পৃথিবীতে এটা আমরা এখনো কেউ কিছুই জানিনা বা বুঝতেছিনা। তবে কিছু জানি বা না বুঝি - প্রকৃতি যে তার ভারসাম্যতা হড়িয়ে আমাদের উপর বিরুপ হয়ে কিছু একটা বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এটা বুঝতে মনেহয় কারোরই কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমরা ক্ষণজন্মা মানুষেরা কেউ জানিনা এই বিরুপ পরিবর্তনে আমাদের উপর কি প্রভাব পড়বে। আমরা কত সময় বেঁচে থাকবো..? অথবা আদো বেঁচে থাকবো কিনা...? আমাদের নিয়তি কি হবে..? অথবা এর শেষ কোথায়..? আমরা আসলে এর কিছুই জানিনা।

একটি বেগবান বিশ্ব একটি অদৃশ্য ভাইরাসে শক্তির কাছে মূহূর্তেই থমকে গেলো! মানব সৃষ্ট পাপের দরুণ এ যেন মহাবিশ্বের গালে জোড়ে সোরে এক চপেটাঘাত!

মহা শক্তিধর রাষ্ট্র আজ নির্বাক ! বিজ্ঞান আজ নিষ্কৃয়...! চারিদিকে এক অজানা আতংক ! মনেহয় যেন রোজ হাশরের মাঠ ! সবাই নিজের ইয়ানফসি ইয়ানফসি তে ব্যাস্ত!

এর মাঝেও অবাক করা বিষয় হলো: এতো আতংক আর মৃত্যুর মিছিল দেখেও আমাদের ক্ষমতার অহংকার-অনৈতিক কর্মের কোন অবসান হলোনা ! এখনো মিছে মরীচিকার ভাবনায় ডুবে ঘুষ-দুর্নীতি আর চুরি-চামারির অসুস্থ্য প্রতিযোগিতায় মেতে আছে মানুষ রুপি অমানুষগুলো। অথচ নির্দয় মৃত্যু প্রতিনিয়ত আমাদের তাড়া করে বেরাচ্ছে, ক্ষণটুকুই যেন শুধু বাকি।

মৃত্যু ঘোষণা হবার সাথে সাথে সকল ক্ষমতা-অহংকার আর অনৈতিকতার ফসল পড়ে থাকবে নি:প্রাণ দুনিয়াতে...

গণ মানুষের শতস্ফুর্ত জানাজা হবে কিনা অথবা নিথর দেহখানি কবরে যাবে কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। শুধু অজানা আতংক আর অনিশ্চয়তা। তবুও আমাদের অসুস্থ্য ধারার অসম প্রতিযোগিতা যেন কিছুতেই থামছে না। কিন্তু যেভাবেই হোক এই অসম প্রতিযোগিতা আজ আমাদের থামতেই হবে। মহান আল্লাহর কাছে নিজেদের কৃত কর্মের জন্য বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করতেই হবে। মহান আল্লাহ্ যদি সত্যিই আমাদের জীবন রাখেন এবং যতদিনই বাঁচিয়ে রাখেন,

এই সময়ের মধ্যেই আমাদেরকে পরকালের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে নৈতিক মুল্যবোধ জাগ্রত এবং প্রখর করতে হবে। পৃথিবী জুড়ে আমাদের কৃত পাপের পাল্লা অনেক বেশি ভারী হয়ে গেছে।আমরা নিজেদেরকে কল্যাণের পথ থেকে এতদূরে নিয়ে এসেছি যার ফলে সমগ্র পৃথিবীটাই ভারসাম্যহীন হয়ে গেছে।

এখান থেকে ফিরতে হলে মহান রাব্বুল আল আমিনের অশেষ রহমত ছাড়া কিছুতেই সম্ভব হবেনা। মহান রাব্বুল আল আমিনকে ভয় করে এই মূহুর্তে বেশি বেশি ক্ষমা চাইতে হবে, তওবা করতে হবে, বেশি বেশি ইবাদত করতে হবে এবং নিজেদের নৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে এই মূহুর্ত থেকেই অঙ্গীকার করতে হবে:

হে আল্লাহ্ আমরা আর পাপ কাজ করবোনা, সবসময় ঈমান নিয়ে পথ চলবো, ঘুষ খাবো না, দুর্নীতি করবো না, সুদ খাবোনা, হিংসা বিদ্বেষ হানাহানী থেকে বিরত থাকবো, মানুষ ঠাকাবোনা, কারো আমানতের খেয়ানত করবোনা, কারো হক নষ্ট করবোনা, কারো সাথে অমানবিক আচরণ করবোনা, জুলুম করবোনা,

অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকবো, ওজনে কম দিবনা, খাদ্যে ভেজাল/ বিষ দিবনা, নিজেকে অহংকারী অমানুষে পরিণত করবোনা, গীবত করবোনা,

রাজনীতি বা চাকরিতে নিজর প্রতি অর্পিত দায়িত্বকে পবিত্র আমানত মনেকরে পালন করবো, নিজের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে রাজনীতি কে কলুষিত করবোনা, কমিটি বানিজ্য করে খারাপ লোকদের নেতৃত্বে এনে সমাজের অবক্ষয় ঘটাবো না, ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে শালীনতা বজায় রেখে পথ চলবো

একজন সৎ, পরিশ্রমী এবং বিবেকবান মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবো। ইনশাআল্লাহ্

(ফেসবুক থেকে)


পূর্বপশ্চিমবিডি/ইমি

খায়রুল ইসলাম জুয়েল,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close