• বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

নিজের অজান্তেই ছড়িয়ে যাচ্ছেন করোনা অন্য কাউকে

প্রকাশ:  ২৬ মার্চ ২০২০, ১৮:৩৮ | আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২০, ২০:৫৩
ফারহানা নীলা
ফারহানা নীলা। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের সুপ্তাবস্থা তিন থেকে চৌদ্দ দিন। তার মানে অনেকেই হয়তো এই সময়ে আছেন। কারো রোগ হয়েছে অথবা হয়নি। কিন্তু আপনি নিজের অজান্তেই ছড়িয়ে যাচ্ছেন করোনা অন্য কাউকে।

করোনাভাইরাস সুযোগমত কারো না কারো শরীরে বাসা বাঁধছে। সেই জন্য ব্যক্তিগত অন্তরীন হবার সময় এখন। ঘরে একা থাকুন যদি আপনার কোনো কারণে নিজেকে সন্দেহ হয়। ঘরে থাকুন যদি আপনার হাঁচি-কাশি থাকে।

এই সময়ে বাজারে যদি যেতেই হয়, খুব প্রয়োজনে যান। বিস্কুট চানাচুর কিনতে বাজারে যাবার দরকার নেই। জীবন বাঁচাতে যেসব খাদ্য প্রয়োজন শুধু মাত্র সেসবের জন্য বাজারে যান।

ভীড় এড়িয়ে বাজার করুন। ভীড় থাকবে না এমন সময়ে বাজারে যান। অন্ততপক্ষে আপনার হাত মেপে দুই হাত দূরে দাঁড়ান অন্য কারো থেকে। ওষুধ একবারে কিনে রাখুন।

টেষ্ট, টেস্ট, টেস্ট....

আমাদের দেশে হয়তো সম্ভব না। কিন্তু সাবধানতা সম্ভব। কারো জ্বর আসা মানেই করোনা নয় কিন্তু তিনি সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন। তাই জ্বর এলে সামাজিক দূরত্বে থাকুন। পরিবারের সবাইকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নিজে অন্তরীন থাকুন।

বাসায় বয়স্ক আর শিশুদের বিশেষ যত্ন নিন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করুন। কি করবেন? প্রতিদিন হাল্কা ব্যায়াম করুন। প্রোটিন জাতীয় খাবার খান। মাছ, মাংস, ডিম... এগুলো যদি না পারেন কিনতে, চালে ডালে খিচুড়ি খান। ডাল খান। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খান।

নিজের আর পরিবারের সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার নিয়ম মানতে উৎসাহিত করুন। বাহিরের পোশাক ধুয়ে দেন। বাজার করে ফেলে রাখুন একদিন। তারপর বাজার গুছিয়ে রাখুন। যে স্যান্ডেল বা জুতা পরে বাহিরে গেছেন, ব্লিচিং পাউডার পানিতে গুলিয়ে পরিষ্কার করুন। যে জায়গায় স্যান্ডেল বা জুতা রেখেছেন, ব্লিচিং পানি ছিটিয়ে দেন।

বাথরুমের কলের নব, দরজার হাতল ইত্যাদি পরিষ্কার করুন ব্লিচিং পানি ছিটিয়ে।

বাঁ হাতের ব্যবহার করুন। কারণ সচরাচর মুখে বাঁ হাত দেওয়া হয় না। নাক, চোখ, মুখ... হাত থেকে দূরে রাখুন। বারবার সাবান দিয়ে বিশ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নিন।

কেউ সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়... কথাটি মনে গেঁথে নিন। সচেতনতা আর সাবধানতা..... এখন রোগমুক্তির বা সংক্রমণ মুক্তির মূলমন্ত্র।

বিশ্বাস করুন... এটা একটা যুদ্ধ। আর যুদ্ধের সময় নিজেকে বাঁচাতে জানতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা জয়ী হবো। ইনশাআল্লাহ আলো আসবেই। এমন সুদিনের অপেক্ষায় আছি সবাই। আবার সব স্বাভাবিক হবে।

ততদিনে আমাদের যুদ্ধটা জারী থাকুক। সবাই সুরক্ষিত থাকুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল।

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম

করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close