• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

সব সুড়ঙ্গের শেষেই আলো পাওয়া যায়

প্রকাশ:  ২৬ মার্চ ২০২০, ০৪:১১
হিমাদ্রী রয় সঞ্জীব

একটা সময় ছিলো এক নির্মল হাসি দেখে কিংবা নিজের হাসিতে সকাল হত। প্রযুক্তি আমাদের এত গতি দিয়েছে, তার সাথে কর্পোরেট বিশ্ব আমাদের মস্তিস্ক কে এতটাই কাবু করেছিল যে দিন গড়িয়ে যেত আমরা হাসতেই ভূলে যেতাম। মনোবিচ্ছিন হয়েছি আমাদের নিজের অজান্তেই। আর আজ অদৃশ্য জীবাণু দানবের ভয়ে আমরা জনবিচ্ছিন্ন আমরা ঘরবন্দি। এই পাবন্দি কে গভীর ভাবে নিতে ভিক্ষা চাইছেন আমাদের ডাক্তার, নার্স যারা সেবা মুলক কাজ করে যাচ্ছেন। বার বার করে বলছেন এটা কোন শিশু, কোন প্রাপ্ত বয়স্ক অথবা বৃদ্ধ মানুষের জন্য এককভাবে ভীতিকর নয়, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা অনুযায়ী আমরা যে কেই সংক্রামিত হতে পারি। যত বেশি ব্যাপারটি গভীরভাবে নিয়ে আমরা বাসায় অবস্থান করবো ততই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে, এবং কেইস যত কমে আসবে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া আয়ত্তের মধ্য থাকবে। কথা গুলো বলছিলেন নর্থ ইয়র্ক হাসপাতালের এক ডাক্তার।

মন খারাপের এই সময়ে, দিনের পর দিন ঘরে বসে থাকার এই স্বাধীনতা আমাদের অস্থির করে তুলবে অনিশ্চয়তার কথা ভেবে কবে এর থেকে মুক্ত হচ্ছি? এখনো পর্যন্ত কেউ এর উপায় বলছে না। এর জন্যে এক্সপার্ট' রা যেটা বলছে ধৈর্য ধরতে। কবির নাম মনে পড়ছে না এই মুহুর্তে তবে পঙক্তি গুলো খুব প্রাসঙ্গিক জীবনের সফরে।

দিন দু তরিকে হুতে হেই এক আচ্ছা ওউর এক বুড়া “আচ্ছে দিন কি গুরুর মত করনা ওউর বুড়া দিন মে সবুর করনা মাত ভুলনা” বন্ধুরা সবুর কিংবা ধৈর্য্যের প্রসেসটাকে জিইয়ে রাখতে হবে। বীজ বপন থেকে গাছ এর ভিতরে নিরানি দেয়া, পানি ঢালা এই সময়টাই প্রসেস। শীতের রুক্ষতা একটু করে সরছে কেবল। বাহিরের গাছগুলো এখনো শুকনো কাঠির কঙ্কাল, ঋতুর পরিবর্তনের সাথে আমরা অনভ্যস্ত নই আমরা জানি সামনেই প্রকৃতির বৈরাগ্য উধাও হবে গজাবে সবুজ পাতা, মরমর করবে বাতাসে। এই সময়টুকু পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। যদিও জীবনের রোজনামচায় পরিবর্তন গ্রহণ করতে আমাদের অনেক সময় লাগে।

এই অস্থির সময়ে টাইম ম্যেনেজমেন্ট না করতে পারলে অনেক সময় দেখা দিবে চরম হতাশা,উদ্বিগ্ন, অবশাদ এগুলো থেকে ভূল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভয় থাকে বিশেষ করে আমাদের বয়জেষ্ঠদের জন্য খুব বেশি।

আমাদের ঘরবন্দির রুটিন সাজাতে পারি নতুন করে। কাজে যেতে হবে না তাতে কি, বিছানার পোষাক ছেড়ে বাহিরে বেড়োনর মত ড্রেস আপ করুন দেখুন নিজেকে অনেকটা সতেজ লাগবে। এক্সপার্ট বলছেন টেলিভিশনে একবার বা দুইবার নিউজ আপডেট নিন। বার বার চারিদিকের মৃত্যুর বিভৎসতা স্ট্রেস বাড়ায় আর স্ট্রেস আমার আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে। সারাদিন একই পজিশনে বসে থেকে ঘরের ভিতরে ও স্থান পরিবর্তন করা যায় কখনো টিভির সামনে তো কখনো কম্পিউটার টেবিলে, ছোট মুভমেন্ট অনেক কাজে আসবে এই সময়ে। এই বিচ্ছেদের সময়ে মনোবিচ্ছিন্নতা সারানো যায়, বন্ধু-স্বজনদের সাথে কথা বলে, বুঝতে দিয়ে বয়োজেষ্ঠদের যে তাদের আমরা কেয়ার করি।

দিনে অন্তত একটি পজেটিভ স্টোরি পড়ি ও শেয়ার করি, ইতিবাচক সংবাদটা আগে আসুক না। আজকের দিনে এই পর্যন্ত এক লক্ষ তেরো হাজার একশত একুশ জন করোনা আক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় শিক্ষনীয় এবং পসেটিভ খবর আগে আসুক। ইনফোডেমিক বা ইনফরমেশন একাডেমিক নামে একটা কথা জেনেছি, ভূল খবর বা মিথ্যা মেশানো তথ্য। তা জেনে অথবা না জেনে ছড়ানো থেকে বিরত থাকি। সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় আলোর দেখা না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের চলতে হবে। করোনা ভয় দেখিয়েছে তবে জাত চিনিয়েছে আমাদের। দিনের শেষে আমরা এক সাগরের ঢেউ। পূর্ব-পশ্চিম উত্তর-দক্ষিণ সব নাগরিকের অসহায়ত্বের ইতিহাস পাথরে ঢেকে দিয়েছে দম্ভের ইতিহাস কে। যে গোলার্ধেই থাকি না কেন, এখন একসাথে সবাই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখছি এই দানবীয় আগ্রাসনে।

রাতের আকাশের নক্ষত্রের মত ঝরে পড়ছে মৃত্যু, তেলের কূপের মত আমরা যারা আলো হয়ে আছি এখনো, পজেটিভিটির রসদে কূপের সলতে কে ডুবিয়ে রাখতে হবে তবেই আমরা আলো হয়ে থাকবো। ছুঁয়ে যায় যদি নুয়ে যাবো তবু ভয় মেশানো সাহস নিয়ে এগোতে হবে। এর ভিতরে কেউ আমরা করোনা কে হারিয়ে দেবো অথবা করোনা আমাদের কাউকে হারিয়ে দেবে। পরবর্তী পৃথিবী আবার নতুন করে সাজবে। নওশের আলীর কন্যা, অরুণা হায়দার কিংবা শর্মিলাদির মত হাজারো স্বাস্থ্যকর্মী যারা স্বাস্থ্যপরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা ও নতুন রোদের গন্ধমেখে ঘরে ফিরবে, কোন পড়ন্ত বিকেলে তাদের প্রিয়জন, খোলা চুলে আদুরে আঙুলে এলিয়ে দেবে ঢেউ। আবার হবে যত সহচর আর সহচরী হাতে হাতে ধরি-ধরির উৎসব, আবার আমরা প্রেমে পড়বো ঠোঁটে -ঠোঁট ডুবিয়ে ভালবাসবো।

এই দুঃসময় আরো অনেক দূর্যোগের মতই সাময়িক। এ আমার আপনার পাপে প্রকৃতিতে লেগেছে তাপ তাই প্রকৃতি আজ শুদ্ধতা দাবী করছে। আরো কিছু দিন ঘরে বসে সেই দাবিকে শ্রদ্ধা করাই শ্রেয়। রবির মত, বিপন্ন মাঝির হয়ে ডেকে বলি ওরে ভাই অসময়ে তুফান, দিও না ফাঁকি, এই সংক্রামণ কে করিও না হেলা, ঘরে বসে বাঁচাতে পারো জীবন এই বেলা, করিও না খেলা ক্রুদ্ধ প্রকৃতির সাথে।

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

হিমাদ্রী রয় সঞ্জীব,করোনা ভাইসাস,ফেসবুক স্ট্যাটাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close