• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

জন্মের পর দেশ এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েনি কখনো

প্রকাশ:  ২৫ মার্চ ২০২০, ০২:২৬
ফিদা হাসান রিশলু

মানুষের যাবতীয় আতঙ্ক-অস্থিরতা আর শংকিত নিরবতার নিরবচ্ছিন্ন ভাবনার সীমাহীন যাতনার মাঝে ধেঁয়ে আসা করোনা'র আগ্রাসী করালের কোঁপে আকাশের তারা'রাও যেন কখন-কোথায় হারিয়ে গেছে! সমুদয় তার স্বপ্ন-সাধনা আর যাপিত তার সকল-বাসনার বিম্বিত স্থাপনার মতন নক্ষত্ররাজির এমনি পলাতক ঠিকুজির খোঁজে কোথাও যখন পাচ্ছে-না কেউ আকাশের কাউকে খুঁজে; কোটি কোটি মানুষের চোখে-মুখের বিদীর্ণ বিংশতি নিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী কান্তে'ও তখন নিথর তাকিয়ে আছেন সে খোঁজের তীরন্দাজ দিকে। তবে কী তারা'ভেদী সে আলোও আজ মানুষের অর্বাচীনতায় অতিষ্ঠ বিধায়, গা-ঢাকা দিয়েছে দৃশ্যহীন আলেয়ায়?

যুগে যুগে মানুষ লড়াই করেছে দৃশ্যমান শত্রুর সাথে। ছোটখাটো যুদ্ধ শুধু নয়; পরাক্রমশালীদের দুই-দুইটি বিশ্বযুদ্ধের দানবিক উল্লাসের পরেও মেটেনি তাদের পাশবিক প্রণয়। সর্বদায় তাদের মজুদে ছিল যেমন-প্রতিপক্ষ নিধনের যাবতীয় অস্ত্র; হিসেবের সে খাতায় হুমকি-ধমকির সকল জিল্লতির জরায়ু চিঁড়ে বেড়িয়ে আসা করোনার এই এখনের গতি'ও তেমনকরে-রেখেছে তাদের নাবালকের মত নিরস্ত্র। সন্ত্রস্ত মানুষের সেই কাফেলায় আমাদের মতন উলু খাগড়াদের দ্বারে-তাই করোনা এসে যখন কড়া নাড়ে; তখনের সে দুয়ার খুলে দেখে নেয়া বাঙালির নানান বিভ্রান্তিতে ভয়ংকর সব প্রবনতা চলে আসে-ঘুরে ফিরে।

জন্মের পরের বাংলাদেশ এমন অদ্ভূততর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি কখনো। মানুষের সংযোগ এড়িয়ে কিংবা মানুষকে দূরে সরিয়ে এ রোগের মোকাবেলা করবার যে নবতর পদ্ধতি, তার সাথে একেবারেই পরিচিত নয় বাঙালিজাতি। সে জাতি যেহেতু নতুন কিছুকে সহজে মেনে নিতে পারে না, তাই বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনসমাজে উদ্ভাসিত এই নতুন উপসর্গ প্রতিহত করবার নতুন এবং ভিন্নপথও আমাদের কাছে সহজবোধ্য হয়ে উঠে না। তাছাড়া আমাদের সমাজ সংস্কৃতিতে কোন কিছুকে গ্রহন করবার চেতনা খুবই নিম্নমানের। রাষ্ট্র থেকে ব্যক্তি-সর্বত্রই পরিব্যাপ্ত সেই মানের কারনে বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের ব্যক্তি কিংবা সমাজ থেকে বিযুক্তির পদ্ধতি উদ্ভাবনে-নানান আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষণে-ক্ষণে। উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট কোভিড-১৯ কে সক্রামক ব্যাধির তালিকায় যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্হ্যসেবা বিভাগ গত ১৯ মার্চ এই গেজেট জারি করে, যা প্রকাশ করা হয় গত পরশুর ২৩ মার্চ (bd news 24)। এভাবে অনেকটাই প্রস্তুতিহীন আমলাতন্ত্র-তাই বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আনতে পারেনি বিধায় নিজ নিজ দপ্তরে বসে নানা মিডিয়াসেল খুলে নিজেদের চেহারা দেখাতে চেয়েছেন মাত্র। অন্যদিকে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়নের ছত্রছায়ায় ব্যবসাপূঁজির চারিত্রিক স্খলনে আতংকিত মানুষের জীবনে ভীতি এখন সবখানে-সর্বত্র।

ভীতির এই প্রসারিত ধূসরে তবুও আমরা আশাবাদি হয়ে উঠি; পেছনে ফিরে যখন দেখি-অনেক অনেক না-পাওয়ার মাঝেও আমাদের সংস্কৃতির কিছু কিছু উজ্জ্বল দ্যুতি! ঝলমলে সেখানে গেলে দেখা যায়, আত্মনিমগ্ন এই স্বার্থপররাই বড় কোন বিপদের দিনে তাদের ভাবনাটা বদলে ফেলে। ভয়টা ক্রমশই প্রসারিত হতে থাকলে কিংবা বিপদটা দীর্ঘায়িত হয়ে উঠলে মানুষের পরার্থপরতাও ক্রমশই পেখমিত মেলে। অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁরা নিজের জীবনকেও বিপন্ন করে তোলে। তাই করোনার কাঁমড়ের এই বিপন্ন প্রহরে একদল মানুষ যেমন মজুদের ব্যাগে করে নিজেদের নিয়ে মগ্ন থাকতে চাইছেন; অন্যদিকে আবার কেউ কেউ স্বপ্না ভৌমিকদের মত'রা চার লক্ষ পিপিই বানিয়ে কিংবা সামর্থের পরিমানে মাস্ক-সেনিটাইজারের জোগান দিয়ে মানুষের কাছে কাছেই থাকতে চাইছেন। তাই করোনার এই বিপদ যত বাড়তেই থাকবে, মানুষের পাশে মানুষের বাড়িয়ে দেয়া হাতের সাংস্কৃতিক রোশনাই ততটাই ছড়িয়ে পড়বে। শেষপর্যন্ত মানুষই মানুষের ভরসা হবে। ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তে অর্জিত-আবারো ফিরে আসা আমাদের স্বাধীনতা দিবস, সে কথায় বলে যাবে নিরলস।

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

করোনা ভাইরাস,ফেসবুক স্ট্যাটাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close