• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ম্যাকানিক্যাল পুশ - অনেকটাই ভ্যান্টিলেশনের মতই কাজ করেছে!

প্রকাশ:  ২১ মার্চ ২০২০, ১১:৪০
ফজলুল বারি

মেকানিক্যাল পুশ এর সাহায্যে গত বৃহস্পতিবার ডিএসই এক্স সূচক ৩৭১ পয়েন্ট উপরে তোলা হয়েছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক বাড়ানো হয়েছে ৭০ পয়েন্ট। মাত্র আধ ঘন্টায় ডিএসইতে ৪৯ কোটি টাকর লেনদেন ঘটিয়ে এই কারসাজির মূল্য বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে। সিএসই-তে লেনদেন হয়েছে মাত্র ১৬ মিনিট। লেনদেন অংক মাত্র দেড় কোটি টাকা।

কারসাজি আশ্রয়ী ম্যাকানিক্যাল পুশে বিনিয়োগকারীগন তুষ্ট হলেও দেশের পুঁজিবাজারে আরও একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করা হল। সেদিকে ক্ষানিক পরে দৃষ্টি দেয়া যাবে। এ পর্যায়ে সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক ভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে কী দাঁড়ায় দেখার চেষ্টা করি।

ধরে নিলাম পরিস্থিতির কারণে দেশের মুমূর্ষ পুঁজিবাজারকে ভ্যান্টিলেশনে নেয়া হয়েছিল। ভ্যান্টিলেশনে থাকা অবস্থায় পুঁজিবাজারের উপর ম্যাকানিক্যাল পুশ প্রয়োগ করা হয়। তাতে রোগী ইতিবাচক সাড়া দেয়। এতে ডাক্তার নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। রোগীর আত্মীয় স্বজন (বিনিয়োগকারীসহ স্টেক হোল্ডারগন) খুশী হন।

এখন প্রশ্ন হল, রোগীর ফলোআপ চিকিৎসা কী হবে? সেটা যথাযথ না হলে তো রোগী বাঁচবে না। রোগীকে বাঁচাতে হলে প্রথমেই যেটা করতে হবে রোগীর মনোবল চাঙ্গা করে তাঁকে আস্থাশীল করে তুলতে হবে। এর পর যথাযথ অষুধ ও সেবা দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভ্যান্টিলেশন পরবর্তী আশু পদক্ষেপ হতে হবে বিএসইসি ও ডিএসই’র বাজার ব্যাবস্থাপনাকে বিনিয়োগকারী ও স্টেক হোল্ডারদের কাছে আস্থাশীল করে তোলা। সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এ বাজার ব্যাবস্থাপনার প্রতিটি স্তরে যোগ্য দূরদর্শী, সৎ পেশাজীবিদের অবস্থান নিশ্চিত করা।

দেশের মেক্রো ও মাইক্রো ইকোনমীতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনে দেশের অর্থখাতকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর জন্য সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করা। কোম্পানি ফান্ডামেন্টাল যাতে যথাযথ ভাবে শক্তিশালী হয় তার ব্যাবস্থা করা।

অর্থ ও পুঁজিবাজারে তারল্য বৃদ্ধির জন্য টাকার অবাধ প্রবাহ সৃষ্টির কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। একই লক্ষ্যে উভয় বাজারের দুষ্টু ও ক্ষতিকর ব্যাক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা। যোগ্য ও ভালোদের পুরস্কৃত করা। এক্ষুণি আরও একটি ব্যাবস্থায় বিশেষ জরুরিভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। দেশী বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক জনিত বিক্রি বন্ধের জন্য কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহন ও বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কেন শেয়ার বিক্রি করে চলে যেতে চাইছে তার কারণ খুঁজে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা। সিন্ডিকেট ও কারসাজির লেনদেন বন্ধ করে বাজারকে প্রতিযোগিতা মূলক করার ব্যবস্থাও করতে হবে।

ম্যাকানিক্যাল পুশ করে গত বৃহস্পতিবার ১০ শতাংশ হারে প্রায় প্রতিটি স্ক্রিপ্টের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টির যে কোন মৌল ভিত্তি নির্ভর নয় এটা প্রায় সবাই জানে। কারণ ম্যাকানিক্যাল পুশে কোন শেয়ারেই এক পয়সা ইপিএস বাড়েনি। বাড়েনি সম্পদ মূল্য। বাজার ব্যাবস্থাপনা উন্নত ও আস্থাশীল হয়নি। একযোগে প্রাইস সেন্সেটিভ ঘোষণাও আসেনি। দেশীয় অর্থনীতিতে বিশাল কোন ইতিবাচক ঘটনাও ঘটেনি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নয়। বরং সারাদেশ ও বিশ্ব এখন কারানো ভাইরাস আতংকে রয়েছে। যা কিনা বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রায় স্থবির অবস্থায় নিয়ে গ্যাছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে এমন দাবী সরকার পক্ষ থেকে করা হলেও সরকারের অন্দর মহলের অনেকেই এনিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের মধ্যেই রয়েছে।

সরকারের বাইরে যাঁরা আছেন তাঁরা দেশের অর্থখাতের শক্ত অবস্থান দেখতেই পাচ্ছেন না। বরং টালমাটাল পরিস্থিতিই অবলোকন করছেন। তবে এটিও ঠিক দেশের অর্থনীতি যে ঘোর অমনিশা নেমে এসেছে - এমন দাবীও যথাযথ নয়। কোথাও না কোথাও আশার আলো তো রয়েছেই। এ বিশ্বাস তো আছে। মানে থাকতেই হবে। যেমন, বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম নিম্নমূখী। এটি একটি আশার আলো হতেই পারে। এরকম আরো সম্ভাবনার যায়গাতো রয়েছেই। প্রতিবন্ধকতাগুলো যথাযথ ভাবে দূর করা গেলে, অর্থ ও পুঁজিবাজারেও আশার আলো রয়েছে। সেই আলার পথের যাত্রী হতে হবে সব্বাইকেই। এ ক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থাপকদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশী।

বাজার ব্যবস্থাপকদের অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের দেয়া বাজার বান্ধব সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ ভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আন্তরিক হতে হবে। বাজারকে স্বচ্ছ ও কারসাজি মুক্ত করতে হবে। তারা সেটা না করে যদি নিজেরাই কারসাজির জঞ্জাল ও আর্বজনাতে ডুবে থাকে - তা হলে সর্বনাশের অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না। এর সর্বশেষ উধাহরণ হিসাবে গত শেয়ার বাজারের সর্বনিম্ম মূল্য বেঁধে দেয়ার বিষয়টিও গভীর পর্যবেক্ষণের দাবী রাখে। এর মধ্যে গোঁজামিল রয়েছে। দক্ষতার ছাপেরও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

স্টেকহোল্ডারদের সাথে যোগযোগ করে যা জানা গেছে; ধরনের ক্যালকুলেশন সাধারণ নিয়মে এ্যাভারেজ, ওয়েটেড এ্যাভারেজ বা মিডিয়ান পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে কোনটারই হুবহু পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি। এ ক্যালকুলেশন সম্ভবত মিডিয়ান পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - তাও আবার নিজেদের মতো করে। এতে করে বিপদে পড়েছেন স্টেক হোল্ডরগন। হিসাব মিলাতে পারছেন না কোনভাবেই। গড়মিল থেকেই যাচ্ছে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

ডিএসই,শেয়ার বাজার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close