• সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭
  • ||

মেয়ের গগনবিদারী কান্নাও তাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারছে না

প্রকাশ:  ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৫২ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৫৬
শহিদুল আজম

'বাবা তুমি যেওনা। ফিরে আসো বাবা।'

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েটি যখন চিৎকার করে কাঁদছিলো, তখন আশেপাশে কেউ চোখের পানি আটকে রাখতে পারেনি। তার বাবা তখন লাশবাহী গাড়িতে, হিম শীতল স্পর্শে। কাফনে ঢাকা শরীর। কাঁচ ঘেরা অংশে শুধু মুখটাই দেখা যায়। এ চেহারার সঙ্গে পরিচয় গত চল্লিশ বছর ধরে। কিন্তু এভাবে নয়।

মাথাটা তুলা দিয়ে মোড়া। তাকিয়ে আছে। কিছু কি বলতে চাইছে? স্কুল জীবনের বন্ধু হুমায়ুন কবির। তার মতো এমন সজ্জন মানুষ সচরাচর দেখি না। কোন দিন রাগ করতে দেখিনি। এমন একজনও পাইনি, যে তার সম্পর্কে একটা 'না' বোধক শব্দ উচ্চারণ করেছে। উচ্চৈ:স্বরে কথা বলতে শুনিনি কোনদিন। অসম্ভব মিশুক। নামাজি। আজান শুনলে আড্ডা ছেড়ে মসজিদে যাওয়া মানুষ।

কিন্তু তার মৃত্যুটা এভাবে হলো কেনো? সুস্থ শরীরে যে মানুষটি গেলো অফিসে, তারই মরদেহ ছিটকে এসে পড়লো বনানীর জনবহুল রাস্তায়। খবর বের হলো, বনানীর উঁচুতলা ভবন থেকে পড়ে একটি প্রতিষ্ঠানের আইটি হেড মারা গেছে। কেন? কিভাবে?? অনেক প্রশ্ন বন্ধুদের। কান্নায় সব চাপা পড়ে আছে। অস্বাভাবিক মৃত্যু। থানা পুলিশ জড়িয়েছে। কিন্তু তার পরিবার ময়না তদন্ত চায় না মুচলেকা দিয়েই মরদেহ বাসায় নিয়ে এসেছে। দাফনের প্রস্ত্ততি চলছে।

হুমায়ুন কবিরের আত্মাই হয়তো বলতে পারবে, কিসের তাড়ায় হঠাৎ তার এভাবে দ্রুত চলে যাওয়া। তবে মেয়ের গগনবিদারী কান্নাও তাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারছে না।

ভালো থেকো বন্ধু, অনেক ভালো।

দু'হাত তুলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, হুমায়ুন কবিরের বিদেহী আত্মা শান্তি পাক।

লেখক: হেড অফ ইনপুট, এটিএন নিউজ


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

শহিদুল আজম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত