• মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৭
  • ||

আহারে, রুম্পা কেবল হৃদয় ভাঙ্গার শব্দ শুনেছে!

প্রকাশ:  ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০৮ | আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১৪
পীর হাবিবুর রহমান

রুম্পা আমার আপনার মেয়ে হতে পারতো ! রুম্পা সত্যিই গভীর আবেগ নিয়েই ভালোবেসেছিলো সৈকতকে।সৈকত ভালোবাসেনি,উপভোগ করেছে প্রতারক চরিত্রে। বিশ্বাসঘাতকতা করে সরে যেতে চেয়েছে! যে ভালোই বাসতে পারেনি,আবেগই যার ছিলো না রুম্পা তার সাথে বিচ্ছেদ চায়নি! অন্ধ প্রেম তার চিন্তার ও বিচারের ক্ষমতা কেড়ে নেয়।সে কেবল তার হৃদয়ভাঙ্গার শব্দই শুনেছে ! পাগলের মতোন আকঁড়ে ধরতে চেয়েছে!

একারনেই কি রুম্পাকে জীবন দিতে হয়েছে প্রতারক সৈকত ও তার সহযোগীদের হাতে? রিমান্ড শেষে হয়তো সত্য বের হয়ে আসবে। তবে রুম্পা বুঝেনি যে সৈকত ভালোবাসেনি, সরে যেতে চেয়েছে, তাকে চলে যেতেই দেয়া উচিত ছিলো। কারন এর সাথে সংসার হতো নরকের মতোন।প্রতারকরা কখনো প্রেমিক হয়না।রুম্পা কেনো ছাড়তে চায়নি সেটিও ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে।

ভারতে চিকিৎসককে ধর্ষণের আসামীদের এনকাউন্টারে শেষ করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে অনেকে খুশি,অনেকে বিতর্কে।বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে এমন ধর্ষক, খুনিদের আবার কিসের বিচার? আইনের ফাঁকে বেরিয়ে যাবার সূযোগ? ধর্ষকদের উৎসাহিত করা ?

আমাদের দেশে নুসরাতের ভয়াবহ হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারে খুনিদের ফাঁসি হলো। পুলিশ ও কারাদন্ড পেয়েছে। শিক্ষিত অশক্ষিত সব শ্রেণি পেশায় নারী শিশু যৌননীপিড়ন, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।এখন সমাজ অগ্রসর গণমাধ্যমে চলে আসে। আইনের আশ্রয়ে যায় মানুষ।

এসিড সন্ত্রাস ভয়াবহ আকার নিয়েছিলো,জনগণ দ্রোহে জাগরণ ঘটানোর জন্য অনেক কমেছে।

যৌন নীপিড়ন ধর্ষণ মাদ্রাসায় পর্যন্ত ভয়াবহ, শিক্ষাঙ্গনে প্রকট।ধর্মশালা থেকে বিদ্যাপীঠ- সর্বত্র দৃশ্যমান হচ্ছে।কর্মস্থল থেকে যাত্রাপথ, শিক্ষকের রুম থেকে চিকিৎসকের চেম্বার, তরুণীই নয়, মধ্যবয়সী নারীরাও যৌননীপিড়নের শিকার হয়। প্রতিবাদ না করার ঘটনাই বেশি ঘটে।এতে অসভ্যের স্পর্ধাকে বাড়িয়ে দেয়া হয়।

অনেকে নারীর পোষাক আচরণ চলাফেরাকে দায়ী করেন।তারা ধর্ষক নীপিড়কের পক্ষেই সাফাই গান।ধর্ষণ মন নারীকে স্পর্শ করার অজুহাত খুঁজে।চোখে ধর্ষণ করে বিকৃত পুরুষ।স্পর্শের সূখ না পেলে রগরগে যৌনবিকৃত আলোচনা তুলে নারীর সামনে। যাদের মর্যাদা ব্যক্তিত্বের সংকট তারাও সূযোগ দেয়, মতলব বুঝে, না বুঝে।

নীপিড়ক ধর্ষক কখনো আত্নীয়, বন্ধু বিশ্বস্থ স্বজন বা অচেনা পুরুষ হয়।যেই হোক সে বর্বর অপরাধী।প্রতিবাদে মুখোশ খুলে দেয়াই মানুষের সৎ সাহস। মেনে নেয়া, ঘেন্না প্রতিবাদ না করার মানেই তার বিকৃতির দম্ভকে বাড়িয়ে নিজেকে ছোট করা। যে নিজের নীপিড়নের প্রতিবাদটা করতে জানেনা, তার মুখে অন্যের নীপিড়নের প্রতিবাদ মানায় না। যে অন্যের বোন, সন্তানের জন্য প্রতিবাদ জানাতে জানেনা, সে নিজের কন্যা ও বোনের নীপিড়নে মানুষের প্রতিবাদ আশা করতে পারেনা।

এখন নষ্ট সমাজে প্রেমিক- প্রেমিকা দেখিনা। প্রতারক বিশ্বাসঘাতক নীপিড়ক ধর্ষক খুনি ও যৌনবিকৃতদের নির্লজ্জ আস্ফালন দেখি। নারী দ্রোহে প্রতিবাদে জাগো মানুষের মর্যাদায়। পুরুষ তুমিও মানুষ হলে প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াও। জনে জনে জনতা অসভ্যতার বিরুদ্ধে গড়ে তুলো একতা।

(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

পীর হাবিবুর রহমান,নির্বাহী সম্পাদক,বাংলাদেশ প্রতিদিন,ফেসবুক স্ট্যাটাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত