• রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
  • ||

লোহা এখন গরম, আঘাতের এটিই প্রকৃষ্ট সময়

প্রকাশ:  ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:০১ | আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:০৩
মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান

বাংলাদেশে ৪ হাজার ৫৫৪ ইউনিয়ন আছে, যার প্রতিটিতেই বিএনপির সংগঠন আছে। প্রতি ইউনিয়নে যদি গড়ে ১০০ নেতাকর্মী থাকে তা হলে শুধু ইউনিয়ন পর্যায়েই ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ নেতাকর্মী আছে। তাদের যদি ১০ জন সমর্থনকারী বা সহযোগী থাকে তা হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি সক্রিয় লোকের সংখ্যা ৪৫ লাখের ঊর্ধ্বে। তার ওপরে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও মহানগর রয়েছে; সেখানেও বিএনপির নেতাকর্মী লক্ষাধিক এবং সমমনা হবে ৩০ লাখের বেশি।

সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতা আছেন কয়েকশ এবং সমর্থনকারী পেশাজীবী আছেন আরও কয়েক হাজার। সব মিলিয়ে বিএনপির সক্রিয় কর্মী ও সমর্থনকারী মিলিয়ে প্রায় কোটির কাছাকাছি হবে। বিদেশে আছে বিএনপির অগণিত নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী।

বিএনপি ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সরকারের বা পুলিশের তথাকথিত অনুমতি ছাড়াই বিএনপি এখন থেকে সংবিধানের আলোকে মিছিল, সভা সমাবেশ বা গণজমায়েত করবে। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতারা সংবাদমাধ্যমে বিবৃতির মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছে যে, যদি ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ সালের মধ্যে খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয় তা হলে বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলনে মাঠে নামবে!

তবে মুক্তি দিলে সরকার পতনের আন্দোলন থেকে বিএনপি সরে আসবে কিনা সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে বক্তব্যটি অনেকটা হটকারী হয়ে গেছে। ফলে দেশমাতার মুক্তি ঝুলে যাচ্ছে। কারণ সরকার সঙ্গত কারণেই অপেক্ষা করে দেখবে কতদিনে বিএনপি সরকারকে পতন করাতে পারে!

যাই হোক বিএনপির এখন দুটি বক্তব্য স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে ঘোষিত হয়েছে, তা হলো–

১. বিএনপি সরকার বা পুলিশের অনুমতি ছাড়াই মিছিল, সভা, সমাবেশ বা গণজমায়েত করবে।

২. ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ সালের মধ্যে দেশমাতার মুক্তি না দিলে বিএনপি সরকার পতন আন্দোলনে নামবে।

বিএনপির রাজনীতিতে দুটিই ইতিবাচক এবং যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। বিএনপি যদি এই দুটি ইস্যুকে বাস্তবায়িত করতে পারে তা হলে দেশমাতারও মুক্তি হবে এবং সরকারেরও পতন হবে, যা দেশের জনগণের কাছে এ মুহূর্তে অতিব কাম্য।

তাই জনগণ মনে করে যেখানে বিএনপির প্রায় কোটির মতো সক্রিয় সদস্য আছে, সেখানে বৃহৎ জনগণের জন্য অপেক্ষা না করে শুধু বিএনপির লোকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ একটি বড় সমাবেশ করা সম্ভব এবং সরকার যদি বিএনপির দাবি না মানে তা হলে সমাবেশ থেকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি চলে যেতে পারে। এর জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনার যেমন প্রয়োজন নেই তেমনি অর্থেরও দরকার পড়বে না। একইভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আলাদা কোনো সাংগঠনিক কাঠামোও তৈরি করতে হবে না।

বিএনপির সব নেতাকর্মীর এখন সবচেয়ে বড় জ্বালাময়ী বক্তব্য হলো– দেশমাতার মুক্তির জন্য একটি ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করা। লোহা এখন গরম। আঘাতের এটিই প্রকৃষ্ট সময়। তাই আমাদের দাবি একটিই এবং তা হলো– দেশমাতার মুক্তি। মুক্তি, মুক্তি চাই– দেশমাতার মুক্তি চাই।

৫ ডিসেম্বর ২০১৯ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ডাকার জন্য কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই এবং এর জন্য কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে না। দলের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনাই যথেষ্ট। বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সবার এক বাক্যের বক্তব্য হলো– দেশমাতার মুক্তির জন্য কর্মসূচি চায়।

এখন দেশের ভেতর থেকে হয় মহাসচিব অথবা দেশের বাইরে নিরাপদ অবস্থানে বসবাসরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্দেশ দিলেই বিএনপির সব নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও তৎপরবর্তী প্রয়োজনে লাগাতার অবস্থান বাস্তবায়নে সবাই একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এখন দয়া ও সাহস করে নেতারা নির্দেশ দিলেই হয়।

পরিচিতি: বিএনপির সাবেক এমপি

লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান,বিএনপি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত