• রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
  • ||

‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’

প্রকাশ:  ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:০৪
শওগত আলী সাগর
শওগত আলী সাগর। ছবি: সংগৃহীত

১. ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’। কানাডা আর আমেরিকার মানুষদের আজকের শুক্রবারটা ‘কালো শুক্রবার’- ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পুরো কানাডায় এ নিয়ে এক ধরনের ’উন্মাদনা’ চলছে। কোম্পানিগুলো রঙ বেরঙের ফ্লায়ার ছাপিয়ে মানুষের বাড়ী বাড়ী পৌঁছে দিচ্ছে, রেডিও টেলিভিশন- পত্রিকায় চলছে বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। ঘরে ঘরে সবাই ব্যস্ত ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’র শপিং লিষ্ট তৈরিতে। এ যেনো কেনাকাটার এক মহা উৎসব। ’ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ মানেই যখন কেনাকাটার উৎসব- তা হলে এর নাম ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ কেন?

২. ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ আসলে আমেরিকান ইভেন্ট। নভেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার আমেরিকানরা ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ উদযাপন করে। আমেরিকান থ্যাংকস গিভিং ডে’র পরের দিনটিই এটি। প্রতিবেশি দেশ কানাডায়ও ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ উন্মাদনা বেশ ভালোই ঝেঁকে বসেছে। দোকানে দোকানে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য কানাডীয়ানরাও কোমড়ে ‘কাছা’ বেঁধে বসে আছে। ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ এখন কানাডা আমেরিকার বড় একটি ‘সেলস ইভেন্ট’।

৩. ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ বাৎসরিক কেনাকাটার উৎসব হলেও এই নামের ইতিহাসের সঙ্গে বেদনার কিছু কাহিনীও জড়িয়ে আছে। জিম ফিস্ক এবং জে গোল্ড নামের ওয়ালস্ট্রীটের দুই বড় বিনিয়োগকারী বড় ধরনের মুনাফার আশায় বিপুল পরিমান স্বর্ণ কিনে রেখেছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সোনার বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। মার্কিন অর্থবাজারের ইতিহাসে এই বিপর্যয়টা এখনো বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেই দিনটা ছিলো ২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার । দুজই নিজেদের দেউলিয়া ঘোষনা করে ওয়াল স্ট্রিট ছেড়ে যান। ১৮৬৯ সালের এই দিনটাই আসলে মার্কিন ইতিহাসে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

৪. তা হলে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ উৎসব হয়ে গেলো কিভাবে? হ্যাঁ, তারো অনেক বছর পর ১৯৫০/৫১ এর দিকে থ্যাংকস গিভিং এর পরের দিনের কেনাকাটার উৎসবের সঙ্গে ব্ল্যাক ফ্রাইডের নামটি যুক্ত হয়ে যায়। থ্যাংকস গিভিং ঠিক পরের দিনটায় শ্রমিক- কর্মজীবীরা কেনাকাটার জন্য দোকানে দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়তো। শ্রমিকদের অনেকেই ‘সিক কল’ করে কাজে ফাঁকি দিয়ে কেনাকাটায় সময় কাটাতো।

এতো বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মচারী এদিনটা মপিং কমপ্লেক্সগুলোতে ভীড় জমাতো যে- রাস্তাঘাটে ট্রাফিক জ্যাম লেগে যেতো। অনেক জায়গায় হাঙ্গামা লেগে যেতো। ট্রাফিক জ্যাম আর হাঙ্গামা দমনে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হতো। শ্রমিকরা সিক কল করে কাজে ফাঁকি দিলেও পুলিশের সেটি করার সুযোগ ছিলো না। ফলে ‘ইর্ষাপরায়ন’ পুলিশ কর্মকর্তারা দিনটিকে ‘কালো দিন ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ হিসেবে উল্লেখ করতে শুরু করলো। সেই থেকে এর নাম হয়ে যায় ব্ল্যাক ফ্রাইডে।

৫. ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ নিয়ে আরো একটি গল্প প্রচলিত আছে। মার্কিন ব্যবসায়ীরা তখনো হাতে হাতে তাদের জমা খরচের হিসাব লিখতো। ব্যবসায় লোকসান হলে সেটি তারা লিখতো লাল কালিতে, আর মুনাফা হলে কালো কালিতে। থ্যাংকস গিভিং এর পরের দিন এতোই বেচা বিক্রি হতো যে প্রত্যেকের হিসাবের খাতাটা সেদিন কালো দিয়েই লেখা হতো। সেই থেকে ব্যবসায়ীরা এদিনটিকে ’ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ (মুনাফার শুক্রবার) হিসেবে ডাকতে শুরু করে।

‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ আসলে কানাডা-আমেরিকার ব্যবসায়ীদের মুনাফার শুক্রবারই বটে!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম

ব্ল্যাক ফ্রাইডে
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত