• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

ভাষার সম্ভ্রমহানি

প্রকাশ:  ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৫৪
আবু হাসান শাহরিয়ার
আবু হাসান শাহরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

কারও লেখার প্রশংসাকালে 'সুন্দর লেখনী' বা 'দারুণ লেখনী' ইত্যাদি লিখলেই বোঝা যায়, তুমি বানানসচেতন নও। লেখনী মানে যা দিয়ে লেখা বা আঁকা হয়— কলম, পেন্সিল বা তুলি। 'স্বাস্থ্য' ঠিক বানান; কিন্তু, 'সুস্থ'কে 'সুস্থ্য' লিখলেও তুমি বানানদূষক। বানানদূষণে ভাষার স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 'হৃৎপিণ্ড'কে 'হৃদপিণ্ড' লেখা যাবে না। আবার, 'হৃদরোগ'কে 'হৃৎরোগ' লিখলেও ভুল হবে। যখন চিরবর্তমান, তখন ক্রিয়াপদ— 'ওঠে'। ঘটমান বর্তমানে হবে 'উঠল'। অসমাপিকা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে— 'উঠে'। যখন কেউ 'উঠল'কে 'ওঠল' লেখে, তখন লেখ্যবাংলা গুরুতর আহত হয়।

সম্পূরক তিনটি শুদ্ধ উদাহরণ: ১. আকতার রোজ কাকভোরে ওঠে। ২. বাবুল এইমাত্র ঘুম থেকে উঠল। ৩. কাজল রিকশায় উঠে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

লেখালিখি করতে হলে এমন অনেক কিছু জানতে হয়। নিয়মিত পাঠে রাখতে হয় কীর্তিমান কবি-লেখকের বই। সংশয়মোচনে হাতের কাছে অভিধানও অপরিহার্য। একটি-দুটি ভুল মার্জনীয়। উপর্যুপরি ভুল করলে তোমাকে কেউ 'ভাষাধর্ষক' বললে অন্যায় হবে না। মাতৃভাষার মর্যাদারক্ষায় বাঙালি প্রাণ দিয়েছে। বাঙালি হয়ে তুমি সেই ভাষার সম্ভ্রমহানি করছ। লজ্জা।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম

আবু হাসান শাহরিয়ার,ভাষা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত