• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকা!

প্রকাশ:  ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৩ | আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৯
রাশেদা রওনক খান
ঢাবি শিক্ষক রাশেদা রওনক খান। ছবি: সংগৃহীত

সারাবিশ্বে আর কোথাও এভাবে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ে মুনাফা করার মতো অমানবিক ও অনৈতিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আছে কিনা কে জানে! এখানে বা বিশ্বের আরো যে কটি দেশে থেকেছি, সব সময় দেখেছি খাদ্য দ্রব্যের উপর মূল্যছাড় দিতে এক্সপেয়ার এর সময় ঘনিয়ে আসার অনেক পূর্বেই! আর আমাদের দেশে খাদ্য দ্রব্য প্রয়োজনে পঁচিয়ে নদীতে ফেলবে, তবুও দাম বাড়ানোর জন্য মজুত করে রাখে একটি চক্র। তাছাড়া বিদেশে কোনো বিশেষ দিবস ঘনিয়ে এলে প্রতিটি পণ্যের উপর মূল্যছাড় দেবেই যেন ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলেই বিশেষ উৎসবকে উপভোগ করতে পারে| এই হল ব্যবসার ক্ষেত্রে মানবিকতা! আমাদের দেশে বিশেষ উৎসব আসা মানেই জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি! রোজা বা ঈদ এলেই সব হুহু করে বাড়াতে থাকে পণ্যের দাম! আর সারা বছর ধরেই মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা তো আছেই!

এর পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে- এক. মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে অতি মুনাফা লাভ, দুই. সরকারের ইমেজ জনসাধারণের কাছে শূন্যের ঘরে নামিয়ে আনার একটা কৌশল!

কারণ দুটার যেটাই হউক, কিংবা উভয়টাই হউক, এই চক্রের সাথে রাষ্ট্র যন্ত্রের ভেতরে থাকা কেউ কেউ যুক্ত থাকতে পারে, যাদের সমর্থনে একটি কুচক্রী মহল একের পর এক পণ্যে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে! বিষয় হলো, কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই মুনাফালোভী কুচক্রী মহলকে?

প্রথমত, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।

দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের এখন সময় এসেছে কৃষিক্ষেত্রে কেবল ধান উৎপাদনই নয়, পেঁয়াজ সহ যা যা আমাদের খাদ্যাভাসে নিত্যপণ্য সামগ্রী সেগুলো উৎপাদনে কৃষককে উৎসাহিত করা। আর এই ক্ষেত্রে প্রধান উৎসাহ হচ্ছে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া, অনেক ক্ষেত্রেই কৃষক তা পায়না বলে ধান ছাড়াও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে তাঁদের উৎসাহ থাকে না। মানুষের পেট কেবল ভাতে নয়, সাথে অন্যান্য খাদ্যপণ্যও দরকার হয়। তাই ধান চাষের পাশাপাশি কৃষককে অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা রাষ্ট্রের জন্য এখন মূল দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। সেই ৮০র দশক হতে আমাদের রাষ্ট্র যন্ত্র ও তার পলিসিসমূহ যেভাবে শিল্প-কারখানার উন্নতির দিকে মনোযোগ দিয়ে আসছে, তার কিছুটা ফিরিয়ে আনা দরকার আমাদের কৃষিখাতের দিকেও।

বেকার সমস্যা সমাধানে শিল্প কারখানা, আইটি সেক্টর এর পাশাপাশি কৃষিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় এতটা আইটি খাতে উন্নত হবার পরও রাষ্ট্র হিসেবে কৃষিখাতকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেবার ব্যাপারে সম্পূর্ণ মনোযোগী, ফলে এসব দেশের কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রেই ধনী হয়ে থাকে। যদিও তাদের আবহাওয়া অনেকটাই কৃষিকাজের জন্য অনুকূলে নয়, সেদিক থেকে আমরা অনেক ভালো অবস্থানে থাকলেও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সর্বোচ্চটুকু না পেলে দরিদ্র কৃষক উৎসাহিত হবে না, আর নতুন কৃষকেরও জন্ম হবেনা।

এখন রাষ্ট্রকেই ভাবতে হবে কিভাবে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটদের অসুদপায়ে কোটিপতি হওয়া থেকে বিরত করে বরং আমাদের গ্রামের সাধারণ দরিদ্র কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে, ইনটেনসিভ প্রদানের মাধ্যমে একদিকে কৃষকদের জীবন মান উন্নত করা যায়, অন্যদিকে সাধারণের প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা আনা যেতে পারে! কারণ গুটিকয়েকের জন্য রাষ্ট্র নয়, রাষ্ট্র কেবলই সাধারণের, গণ মানুষের!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর

রাশেদা রওনক খান,ঢাবি শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত