• রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
  • ||

আবরার হত্যায় ২৬ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার ছাত্ররাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

প্রকাশ:  ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৪৪ | আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৭
রাশেদা রওনক খান
রাশেদা রওনক খান ও আবরার ফাহাদ। ছবি: সংগৃহীত

আবরার হত্যাকাণ্ডে ২৬ ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের খবরটি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা!

আমাদের সন্তানেরা ভাল কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেলে পিতা মাতা-আত্মীয়স্বজন সহ সকলই খুব আনন্দিত হই, মাঝে মাঝে এতোটা আনন্দিত ও ভারমুক্ত হই যে, খেয়ালই রাখিনা ভর্তি পরবর্তী সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তারা কি করছে, কতটা পড়ালেখায় মনোযোগী কিংবা অমনোযোগী হয়ে উঠছে, কিংবা কতটা মানবিক আর কতটা দাম্ভিক ও অহংকারী হয়ে উঠছে|

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সন্তান কোথায় কিভাবে কার সাথে মেলা মেশা করছে, এসবে অনেকেই মনোযোগ দেয় না| আমরা ধরে নেই, সন্তান তো বড় হয়ে গেছে... সম্ভবত এখানেই ভুলটা হয়ে যাচ্ছে! শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাস জীবনে প্রবেশ করেই বুঝতে পারেনা, এই কেবল শুরু, সামনের দিনগুলো অনেক কঠিন, অপেক্ষা করছে জীবনের অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ| ক্যাম্পাস জীবন একজন শিক্ষার্থীকে অনেক কিছুর দিকে টানে - প্রেম, রাজনীতি, বিভিন্ন ক্লাব/ সংগঠন করা, রক্ত দান কর্মসূচি, লাইব্রেরি ওয়ার্ক, পাঠ চক্র হতে অনেক ভাল কিছুর হাত ছানি যেমন আছে, তেমনি খারাপ দিকের হাতছানিও দেয় যেমন, খারাপ সঙ্গ, মাদকাসক্ত হওয়া, পড়ালেখা বাদে আজে বাজে কাজে যুক্ত হওয়া, রাজনীতির নামে ত্রাস তৈরিতে বড় ভাইদের 'চামচা' হওয়া, যা খুবই অসম্মানজনক!

শিক্ষার্থী হিসেবে 'আমাকে'ই ভাবতে হবে, আমি আসলে জীবনে কি করতে চাই- আমি কি একজন ভাল ও মানবিক নাগরিক হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে নিজের জীবনকে সুন্দর করতে চাই? নাকি একজন বড় ভাইদের 'চামচা' হয়ে এই ২৬ জনের মতো কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হয়ে নিজেকে এবংপরিবারকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চাই! আবরার এর মৃত্যু কিন্তু বর্তমান ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত অনেকেই (অবশ্যই সবাই এক নয়) যারা নিজেদের 'আমি কি হনুরে' ভাব নিয়ে ঘুরে ফিরে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ত্রাস করে বেড়ায় তাদের অনেক কিছু জানান দিয়ে গেলো| এই ঘটনার পরও যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির নামে ত্রাস বিস্তারের চেষ্টা করে কেউ, তাদের কপালে আসলে খারাপ কিছুই অপেক্ষা করছে!

আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, নুসরাতের পর এবার আবরার হত্যার বিচার এর কাজটিও সুস্থ গতিতে এগিয়ে চলছে আশা করছি| এর পেছনে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনেক বড় অবদান আছে| যে যেভাবে যেখান থেকে পেরেছে এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে, কলম চালিয়েছে, রাজপথে আন্দোলন-লড়াই করেছে| এই থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ করতেই হবে.তবেই বিচার প্রক্রিয়া দিনকে দিন স্বচ্ছ হবে..অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই হউক আমাদের একমাত্র ভাষা-গন মানুষের জয় হবেই! রাষ্ট্র দিন শেষে কেবলমাত্র গন মানুষেরই!

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর

আবরার ফাহাদ,রাশেদা রওনক খান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত