• শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

এরশাদকে মামা বানিয়ে জাতীয় পার্টি করা শুরু করে রাঙ্গা

প্রকাশ:  ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫১ | আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৬
আশরাফ পিয়ার

ওকে ধরেন -

মন ভাল নেই উপরন্ত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া রেল দুর্ঘটনায় আরও বিষন্ন , তদুপরি এখন পর্যন্ত দায়দায়িত্ব নিয়ে কেউ পদত্যাগ করলো না ! এমন মূহূর্তে কারো চরিত্রের সুরতহাল করার কোন রুচিই থাকার কথা নয় কিংবা প্রাকটিসের ভীষণ অভাব। ভাত বিশ্রামে নেমে আসা চোখের পাতায় মনে হলো নূর হোসেন বেশ যুৎসই বসে টরটরে নয়নে বলছে, কিরে কিছুই বলছিস না ? নাকি আপার জামাপড়া উপদেশটাই ভাল ছিল ?

জ্ঞানে এসে স্বগক্তির: মত বলি,

দাড়াও পথিক বর,

জন্ম যদি তব বঙ্গে তিষ্ঠ ক্ষণকাল !

আপা নিশ্চয়ই কিছু করবেন !!

চেহারা আর চরিত্রে এত বেশি বৈসাদৃশ্য এর আগে কখনো দেখিনি আমি ! হ্যাঁ, বলছিলাম মসিউর রহমান রাঙ্গার কথা ! যার জীবনী সত্যিসত্যিই মাদকে মাদকময় ! খুনি এরশাদের নির্দেশে যখন নূর হোসেনকে হত্যা করা হয় মসিউর রহমান রাঙ্গা তখন রংপুরের সবচেয়ে বড় বাংলা মদ ও তাড়ির ভাটিতে ফুট-ফরমায়েশ খেটে জীবিকা নির্বাহ করতো। তাতে দোষের কিছু নেই। অবশ্য পরে ওই তাড়ীভাঁটির মালিক লালাবাবু রাঙ্গাকে তার দোকানের ম্যানেজার বানিয়েছিলেন ! লালা বাবুর ছেলে কনকের সাথে দোস্তি পাতিয়ে লালাবাবুর বাড়ীতে উঠা-বসা করার সুযোগ নিয়ে এই বেঈমান হিন্দু ধর্মাবলম্বী লালাবাবুর মেয়েকে জোর করে ভাগিয়ে বিয়ে করে । বিয়ের পর কিছুদিন এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে রংপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদা কালেক্টর / চেইনমাস্টার এর কাজ নিয়ে প্রতিদিন নানাজনের নির্দেশে টাকার বিনিময়ে মারামারি মাস্তানি করে বেড়িয়েছে। বাস স্ট্যান্ডের ছিঁচকে সন্ত্রাসী রাঙা একপর্যায়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর হাতে পায়ে ধরে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা এবং তাঁর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে নিজেই একটা বাস কিনে মালিক বনে যায় । আর এখান থেকেই শুরু হয় রাঙ্গার উত্থান। রংপুরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিক নেতা আকরামকে হত্যার ভেতর দিয়ে দ্রুতই লাইম - লাইটে চলে আসে রাঙ্গা । আর সেই সাথে এই বেঈমান বিশ্বাসঘাতক যে ঝণ্টুর টাকায় বাস কিনে মালিক বনে গেল সেই শরফূদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকেই মালিক সমিতি থেকে উৎখাত করে পুরো রংপুর বাস স্ট্যান্ডের দখল নিজের হাতে নিয়ে নেয়।

এরশাদ আমলে রাঙ্গা বিএনপির নেতাদের পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়ালেও এরশাদের পতনের পরে রংপুরে এরশাদের আঞ্চলিক প্রভাব দেখে এরশাদকে মামা বানিয়ে জাতীয় পার্টি করা শুরু করে দেয়। বন্ধু বান্ধব জিজ্ঞাসা করলে রাঙ্গা তখন প্রকাশ্যেই এরশাদ - জিনাত মোশারফের নানা মুখরোচক গল্প বলে হাসাহাসি করতো। এহেন রাঙ্গার নিজের নানা অপকর্ম গুণ্ডামি চুরি চামারি নারী - লিপ্সার নানান কাহিনী রংপুরে সর্বজনবিদিত। মন্ত্রী হয়ে কয়েক শত মানুষের কাছ থেকে চাকরি দেবার নাম করে টাকা নিয়ে সব টাকাই গায়েব করে দিয়েছে।

রাঙ্গাদের বর্তমান বাড়ি দক্ষিণ গুপ্তপাড়ায় হলেও আসল বাড়ি লালমনিরহাট এর কালিগঞ্জের চামটা ইউনিয়নে। রাঙ্গার আপন বাপ ও চাচারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকার ছিল বলে স্বাধীনতার পর এদের পরিবার জনগণের গণপিটুনির ভয়ে গ্রামে যেতে পারতো না।

২০০০ সালে যখন রংপুরের গংগাচড়ার (বর্তমানে রাংগার সীট) এমপি সাবেক সিটি মেয়র ঝন্টু আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাপাতে যোগ দিলেন, সেই সময় রাঙ্গা জাপাতে যোগ দেন এবং সেই সময় রংপুরে জাপার ঝন্টু গ্রুপ ও এরশাদ গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানে রাঙ্গা তার চেইনমাস্টার বাহিনী দিয়ে এরশাদ জাপার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়। এই কারণেই ২০০১ এর নির্বাচনে গংগাচড়া থেকে নমিনেশন পান এবং ঝন্টুকে হারিয়ে এমপি। তারপর থেকেই মূলত: স্থানীয় জাপা রাঙ্গার হাতে। আর এরশাদের ভাগিনা হিসাবে মামা মামা বলে এগিয়ে যান। ( পরিমার্জিত ভাবে চলবে)

লেখক পরিচিতি: আশরাফ পিয়ার, সাংবাদিক।

লেখাটি ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

মশিউর রহমান রাঙ্গা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত