• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

আবরারের মৃত্যুতে প্রথম আলো দায় এড়াবে কিভাবে

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২১ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৫
শাহীন কামাল

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আররার নিহত হয়েছে প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হয়ে।

গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে মঞ্চের পিছনে বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত আবরারের চিকিৎসায় দীর্ঘসূত্রতা ও সময়ক্ষেপণ এবং যেই কিশোরদের নামে এই আয়োজন, তাদের একজনের করুণ মৃত্যুর পরও অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নেয়ায় কতৃপক্ষের মানবিকতা ও মানষিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ মৃত্যুতে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে প্রথম আলোর দায়বদ্ধতা নিয়েও।

যে শিশু কিশোরদের জন্য এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দূর্বলতাকে এড়িয়ে যাবেন কিভাবে কতৃপক্ষ? শিশুকিশোরদের নাম ভাঙিয়ে অভিভাবকদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে যে পত্রিকা ব্যবসা করছেন, তাদের এই উদাসীনতার বলী হলো এক সম্ভাবনাময় তরুণ। জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ছেলেটি বাসা থেকে এনে তার জীবনই নিয়ে নিলো প্রথম আলো! শুধুমাত্র ব্যবসায়িক কারনে অনুষ্ঠানস্থলের বিপরীতে অবস্থিত হাসপাতালে না নিয়ে আহত ছেলেটিকে নিয়ে যাওয়া হলো মহাখালী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে স্পষ্টতই ক্ষোভ প্রকাশ করে, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

অনুষ্ঠানস্থলে একটা তাজা প্রাণের এইভাবে চলে যাওয়ার পরও শুধুমাত্র ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোন থেকে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া, প্রথম আলো চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অনুষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিলে স্পন্সরদের বিরাগভাজন হবেন ভেবে প্রথম আলো কতৃপক্ষের এই হীনতাকে মানতে কষ্ট হচ্ছে। যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠান বন্ধ করে শোকের আবহ তৈরি করবে, সেই মূহুর্তে অর্ণবের গান শোনানো শুধু নতুন প্রজন্মের সাথে প্রথম আলোর উপহাসই নয়, চরম ধৃষ্টতা। আবরার আহত হওয়ার পর একই ভাবে আরো দুর্ঘটনাও তো ঘটতে পারতো।

সংবাদ প্রকাশে প্রথম আলো অত্যন্ত স্বার্থপরতা দেখিয়েছে। চিরদিন নিরপেক্ষতার দাবিদার পত্রিকাটি আবরারের মূত্যুকে সামান্য ঘটনা হিসেবেই দেখেছি, যা প্রথম আলোর কথা ও কাজের সাথে অসংগতিপূর্ণ। ছাত্রছাত্রীদের যে কোন আন্দোলন সংগ্রাম, দাবিদাওয়া, ঘটনা দূর্ঘটনা, প্রাপ্তি প্রত্যাশায় যে প্রথম আলো সর্বদা অগ্রগামী তারা কিনা নিজেদের দায় এড়াতে ঘটনা পরবর্তী দিন পঞ্চম পৃষ্ঠায় গুরুত্বহীন ভাবে সংবাদটি ছেপেছে। তারা ঐ দিনের পত্রিকায় ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে এই মৃত্যুকে সামান্য তুচ্ছজ্ঞান করেছে, যা গণমাধ্যমের ভুমিকাকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছে। সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতায় প্রথম আলো পাঠক হিসেবে ইহা আমাকে আহত করেছে চরমভাবে।

বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোর নানাবিধ সংবাদ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে থাকলেও আবরার মৃত্যু বিষয়ে সামাজিক মাধ্যম চমৎকার ভুমিকা রেখেছে। সবদিক ম্যানেজ করে মধ্যরাতে লাশ দাফন করে গণমাধ্যম সকল তৃপ্তির সাথে ঘুমিয়ে ছিল তখনই সামাজিক মাধ্যম দায়িত্বশীল ভুমিকা রেখেছে। শুধু সামাজিক মাধ্যমের কারনেই ঘটনা বিষয়ে প্রথম আলো দৃষ্টি দিতে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়তের বাবা মামলা করেছে। আদালত লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সক্রিয় হয়েছে।

ঘটনা বিষয়ে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। কোন মহল যেন প্রভাবিত করতে না পারে তদন্ত কার্যক্রমকে। প্রকৃত অপরাধী বের হয়ে আসুন। এই কিশোরের মৃত্যুতে আয়োজকদের উদাসীনতা থাকলে অবশ্যই তার বিচার হতে হবে। যারা আমাদের নতুন প্রজম্মকে নতুনের দিকে আহবান করে স্বপ্ন দেখিয়ে ব্যবসা করবেন, আর নিরাপত্তা দিতে উদাসীন থাকবেন, তাদের আমরা ক্ষমা করি কিভাবে!

লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক

নাইমুল আবরার,প্রথম আলো
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত