• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

পীর মিসবাহ এমপির সহজ সরল জীবনের সুখের ব্যাখ্যা

প্রকাশ:  ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:০৭ | আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:১৬
পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ

মানুষের সাথে সম্পর্ক আজীবনের। শৈশবে পাড়ার,স্কুলের বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো। খেলা- গল্প।কিশোর বয়স থেকে সংগঠন। শহরের বিভিন্ন পাড়ার মাঠে খেলাধুলা। ছাত্র রাজনীতি দিয়ে ব্যাপক মানুষের সাথে আড্ডা।পাড়ার আড্ডা থেকে উকিলপাড়া, কলেজের পুকুর পাড়, হোস্টেলের আড্ডায় আড্ডায় মানুষের সাথে সখ্যতা।মিছিলে স্লোগান দেই,বক্তৃতা করি।রাজনীতি, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, খেলাধুলা সখ্যতায় ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হল আর ক্যাম্পাস সখ্যতার জগৎ বিস্তৃত করেছে।

গণরাজনীতি নিয়ে গেছে তুনমুলের মানুষের কাছে।আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে সবাই ছেয়েছিলেন সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় জড়িত হই।আমার মন পরে থাকত সুনামগঞ্জে।উকিলপাড়া, ট্রাফিক পয়েন্ট আমায় টানত।আমি আমার জন্মের শহরেই ফিরে গিয়েছিলাম।আপনজন অনেকে চাইতেন আমি যেন ঢাকায় ফিরে যাই।আইনজীবী সনদ থাকলেও কোর্টের চেয়ে উকিল পাড়ায় বন্ধুদের প্রানখোলা তুমুল আড্ডা আমাকে টানত।মিছিল মিটিং আদালত পাড়া থেকে সড়কে টেনে নিত।অকাল প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যান কবি মউজদীন ভাইকে কেন্দ্র করে আরেক আড্ডার জগৎ ছিল আমাদের।ভাইয়েরা এবং আপনজন অনেকে চাইতেন আমি যেন সুপ্রিমকোর্টে আইন পেশায় চলে যাই।বিশ্বিবিদ্যালয়ের আমার আইনবিভাগের

আলোকিত সাথীরা হাইকোর্টের বিচারপতি হন আমি গর্বিত হই।আমি আমার সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি।সমিতিতে আড্ডায় মিলিত হই ।সিনিয়র আইনজীবী আত্নীয় শহীদুজ্জামান চৌধুরী সহ অনেকে এ নিয়ে আক্ষেপ করতেন।প্রিয় সুনামগঞ্জ আমাকে টেনে রাখত।

সংসদ সদস্য হবার পরও আমার সন্তানরা সুনামগঞ্জের স্কুলেই পড়াশুনা করে।আমিও সুনামগঞ্জেই থাকি। সংসদ অধিবেশন এবং কাজ থাকলে ঢাকায় থাকি।কাজ শেষে ফিরে যাই আমার সুনামগঞ্জে।

আমাদের একান্নবর্তী পৈতৃক টিনের বাড়ীতেই আমার আনন্দ।সকাল থেকে লোকজন ছুটে আসেন বাড়ীতে।মানুষের জন্য উন্মুক্ত আমার বাড়ীতে গ্রামের সাধারন মানুষরা বেশী আসেন।আমার কাছে আসতে তাদের কোন মাধ্যম লাগেনা।কোন নেতাকে নিয়ে আসতে হয়না।সরাসরি পুরুষ -মহিলারা আমার কাছে আসেন।কেউ কাজে আসেন। কেউ এমনিই আসেন।কথা বলতে আসেন।অনেকে বাড়ীর উঠানে আড্ডার নেশায় আসেন।কতজনের কত গল্প।আবার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষরা আসেন। কিছু মানুষ একান্তে নিজের কথা বলেন।কেউ সমাধান খুজেন। কেউ কথা বলে নিজেকে হাল্কা করেন।কত মানুষ। কত কথা।

কথা শুনি।অনেকের কথা আমাকে ভাবায়।আপাত দৃস্টিতে যাকে জানি সুখী মানুষ। কথা বলার পর জানি তিনি ভাল নেই।সব আছে। সুখ নেই।আশ্চর্য হই।অবাক লাগে।অনেক কে চিনি। যার সব আছে।সুখি না হবার কোনো কারণ নেই।তিনিও দেখি সুখে নেই।আবার অনেক আসেন তেমন কিছু নেই। সুখ আছে।সুখি মানুষ।

অনেক মানুষ কে দেখি শুধু অন্যকে নিয়ে নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে থাকেন।যাকে বলি পরশ্রী কাতরতা। শুধু পরশ্রীকাতরতায় নিজেকে অসুখি বানিয়ে ফেলেছেন।এ এক আশ্চর্য বিষয়। নিজে সুখী হবার সব বিষয় ঠিক আছে।শুধু অন্যের ভাল সহ্য করতে না পেরে নিজেই অসুখী হয়ে বসে আছেন। অথচ নিজেই জানেননা।এমন অদ্ভুত মানুষের সংখ্যা প্রচুর আমাদের চারিপাশে।মানুষের সাথে সার্বক্ষণিক মেলামেশার সুবাদে অনেকের অনেক কিছু জানা হয়।এমন অনেক আশ্চর্য মানুষকে জানি যারা বেশী মানুষের সাথে মিশেনা।নিজেকে গুটিয়ে রাখে।শুধু তার চারপাশের মানুষ যারা ভাল আছেন। তাদেরকে নিয়ে ভাবে।এদের খুত খুজে।সমালোচনা করে।শুধু মাত্র তার পরিচিত কিছু মানুষ ভাল থাকাকে সে মেনে নিতে পারেনা।এটা করতে করতে সে অসুখী হয়ে বসে আছে।সেটা সে জানেইনা।এ নিয়েই হয়ত

গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন"চিন্তার প্রতিফলন ঘটে স্বভাব বা প্রকৃতিতে।যদি কেউ মন্দ অভিপ্রায় নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে দুঃখ তাকে অনুগমন করে।আর কেউ যদি সুচিন্তা নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে সুখ তাকে ছায়ার মত অনুসরন করে"।

বলা হয় সুখ একটি মানবিক অনুভুতি। মনের এমন এক অবস্থা বা অনুভুতি যা ভালোবাসা,তৃপ্তি,আনন্দ বা উচ্ছাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।সুখের সংজ্ঞা বা দর্শন মানুষের জৈবিক,মানসিক,মনস্তাত্ত্বিক,দর্শন এবং ধর্ম দিয়ে নির্ধারনের চেস্টা করা হয়েছে।মনোবিজ্ঞানিরা তাত্ত্বিক মডেলের ভিত্তিতে সুখ পরিমাপ করেন।এ মডেলে সুখ ইতিবাচক কর্ম ও আবেগের সমস্টি।এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় আনন্দ,অঙ্গীকার এবং অর্থ।গবেষকরা সুখের কিছু বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেছেন। যা সুখের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত।যেমন বহির্মুখী বা অন্তর্মুখী অবস্থা।স্বাস্থ্য,গনতান্ত্রিক স্বাধীনতা,আশাবাদ এরকম কিছুকে।তারপরও বলা যায় সুখ আসলে আপেক্ষিক বিষয়।

আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন "মানুষ যতটা সুখী হতে চায়,ততটাই হতে পারে।সুখের কোন পরিসীমা নেই।ইচ্ছে করলেই সুখকে আমরা আকাশ অভিসারী করে তুলতে পারি।

দর্শনশাস্ত্র এবং ধর্মীয় চিন্তাবিদরা প্রায়ই আবেগের পরিবর্তে একটি ভালো জীবন বা সমৃদ্ধশালী জীবন ধারনের ক্ষেত্রকে সুখ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।এই অর্থে সুখকে বুঝার জন্য গ্রিক eudaimoniaব্যাবহার করা হত।নৈতিকতার নীতিতে যা এখনও ব্যাবহার করা হয়।সহস্রাব্দ ঘুরে অমর্ত্য সেনের মানবিক বিকাশের পদ্বতিটি উন্নত হয়েছে।ফলে সুখের ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে আগ্রহ বেড়েছে।আবার ১৭৭৬ এ যুক্তরাস্ট্রের থমাস জেফারসন লিখিত স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রটি ছিল মুলত রাজনৈতিক মুল্যবোধ। সেখানে আবার গুরুত্ব পেয়েছিল "সুখের অনুধাবন করা একটি সার্বজনীন অধিকার" হিসাবে।

২০১২সালে ওয়ার্লড হ্যাপিনেস রিপোর্টে বলা হয়েছে ব্যাক্তিগত কল্যানমুলক পদক্ষেপে,প্রাথমিক বিশুদ্ধতম জীবনের মুল্যায়ন এবং মানবিক প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে পার্থক্য নির্নয় করা।সুখকে উভয় জীবন মুল্যায়নে ব্যাবহার করা হয়।যেমন মোটের উপর আপনি আপনার জীবনে কতটা সুখী? এবং মানসিক প্রতিবেদনে এখন আপনি কতটা সুখী? গবেষণা প্রতিবেদনগুলো এই পরিমাপ পদ্বতির মাধ্যমে সুখের সর্বোচ্চ স্তরের দেশগুলোকে চিহ্নিত করে।আবার গবেষনায় বলা হয় সুখ ৫০ভাগ জিনগত ভাবে নির্ধারিত হয়।এর ১০ভাগ চলমান জীবনের পরিস্থিতি এবং ৪০ভাগ সুখ আত্ননিয়ন্ত্রনের বিষয়।

জানিনা রবীন্দ্র নাথ কেন বলেছিলেন "এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলেনা,শুধু সুখ চলে যায়।"

তবে মোটা দাগে আমার মত সাধারন মানুষ বুঝি, কারো ক্ষতি না করে নিজের ভাল লাগা নিয়ে চলাতেই সুখ।যা আছে তার ভেতর আনন্দ খুজে পেতে হবে।তবেই জীবনে সুখ।এই যে, মানুষের পায়ে পায়ে হাটি।মানুষের সাথে চলি। আমার হাওরের শহরে পুর্নিমা রাতে হেটে বেড়াই।নিঃস্বার্থ আড্ডায় ডুবে যাই। ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলি।মেয়েকে এনে দেয়া বই এর গল্প শুনায় আগ্রহ নিয়ে। এটাই সুখ।তাই আমিও বলি "জগতে আনন্দযঞ্জে আমার নিমন্ত্রণ।"

আসুন হিংসা-বিদ্বেষ বাদ দিয়ে সুখে থাকি।সুখের মধ্যে বসবাস করি।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ,ফেসবুক স্ট্যাটাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত