• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

নষ্ট রাজনীতির ছোবলে মেধাবীরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে

প্রকাশ:  ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১২:২৬ | আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৫৭
আনিসুর রহমান

বুয়েট ছাত্র আবরারকে নির্মম হত্যার ঘটনায় আমি যতোটা চিন্তিত তার চেয়ে বেশি চিন্তিত এ দেশের নষ্ট রাজনীতির ছোবলে মেধাবীরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে! গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে যে এক বুয়েটেই ১০টি টর্চার সেল রয়েছে! ভাবা যায়!? এটা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র হতে পারে?

ব্যাপারটি এরকম দাঁড়িয়েছে, যেসব ছাত্র তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করে বুয়েটের মতো সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে খুনি হয়ে গেল? তাদের নির্মমতা আর ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার খবর আজ ফেসবুক, টিভি, পত্রিকার শিরোনাম। কোনো ছাত্রসংগঠনের আদর্শ বা চরিত্র এমন হোক, এটা তো দেশের কোনো মানুষ কামনা করে না। তাহলে কেন এই পরিস্থিতি? যারাই ক্ষমতায় যায় তাদের ছাত্রসংগঠনগুলো কেমন যেন ভিন্নমতের ছাত্রদের ওপর অত্যাচারী হয়ে ওঠে। এটাই বিগত কয়েক দশকের চিত্র। আর বর্তমান ছাত্রলীগের স্বার্থপর ও লোভী কিছু ছাত্র পদ পেয়ে এই সংগঠনের গৌরবের ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছে। পুরো সগঠনকে জাতির কাছে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

যেখানে ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব হলো, ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে কাজ করা, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করা, সেখানে আসল কাজ বাদ দিয়ে তারা নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে চাঁদাবাজি, মাস্তানি আর নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, তারা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। বর্তমানে সর্বত্র চলছে ছাত্রলীগ নিয়ে আলোচনা। একসময়ের ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠন আজ নষ্ট হয়ে গেছে। অত্যাচারী, খুনি, অমানবিক হয়ে গেছে। এর দায় কার?

তাদের হাতে কলমের পরিবর্তে আজ ভিন্নমতের সহপাঠীদের ওপর টর্চার করার যন্ত্রপাতি, পড়ার টেবিলে মদের বোতল। চাঁদাবাজি আর নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে তারা। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তারা দানবে পরিণত হয়ে গেছে। ওদের অবস্থা এখন এতই খারাপ, এতই ভয়ংকর যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও চরম বিরক্ত। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, 'ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গ সংগঠন নয়।' বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে হলে অভিযান চালিয়ে মাস্তান ধরার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আমরা উনার এই নির্দেশকে স্বাগত জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় মতো ছাত্রলীগকে সংস্কারের যে দায়িত্ব পালন করছেন তা সর্ব মহলে প্রশংসনীয়।

তবে ছাত্রলীগ যদি আওয়ামী লীগের কেউ না-ই হয় তাহলে এই ছাত্রলীগ আসলে কার? কে তাদের অভিভাবক? কে তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে? কে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবে? আজ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে আতঙ্ক। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ছাত্ররা মুক্ত হবে কবে? আশার কথা, বুয়েট ছাত্রলীগের কালো হাতে আবরার ভয়াবহ নিষ্ঠুরতায় জীবন দেওয়ার পর দেশ জেগেছে, দেশের ছাত্রসমাজ জেগেছে।

আমার বিশ্বাস এই প্রতিবাদ, এই আন্দোলন জাতিকে পথ দেখাবে, শিক্ষাঙ্গন নিরাপদ হবে, হত্যা বন্ধ হবে। পড়াশোনার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে ইতিবাচক পরিবর্তন সামনে আসছে এই ছাত্রসমাজের জন্য, এই জাতির জন্য, সেটি হবে দেশপ্রেমিক মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরারের রক্তের শোধ। দেশপ্রেমিক আবরারদের রক্ত কখনো বৃথা যায়নি। যেমন, বৃথা যায়নি বায়ান্নতে, বৃথা যায়নি একাত্তরে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি নিউজ

আনিসুর রহমান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত