• রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
  • ||

জগৎ বিখ্যাত কবি কহলিল জিবরান

প্রকাশ:  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২৭
পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ

কহলিল জিবরান। জগৎ বিখ্যাত কবি। আবার চিত্রশিল্পী এবং দার্শনিক। তার সম্পর্কে পাঠক মাত্রই জানেন। তবে কহলিল জিবরানকে আমি প্রথম জানি আমার শহরের প্রয়াত কবির কাছ থেকে। তিনি আমাদের প্রিয় মানুষ, জনপ্রতিনিধি এবং অকাল প্রয়াত কবি মমিনুল মউজদীন। মউজদীন ভাইর অন্যতম প্রিয় কবি ছিলেন কহলিল জিবরান। কবি কে ভালবেসে তার দুসন্তানের ছোটটির নাম রেখেছিলেন কহলিল জিবরান। ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী তাহেরা চৌধুরী আর সন্তান জিবরানসহ অকাল প্রয়াত হন তিনি। জিবরান বেঁচে থাকলে আমার ভাতিজা অন্তরের সমান হত।

মউজদীন ভাইর মৃত্যুর পর কহলিল জিবরানকে জানার চেস্টা করেছিলাম। একবার ফেসবুকে কিছু লিখেওছিলাম।

অনুজ আশরাফ শাহিন কয়েকদিন হল ঢাকায়। মউজদীন ভাইর সাথে তার ছিল অন্য এক ভাললাগা সম্পর্ক। সে আসার পর মউজদীন ভাইর আলোচনার সূত্র ধরেই আবার কহলিল জিবরান আমাদের আলোচনায়।

১৮৮৩ সালে লেবাননে জন্ম নেয়া এই কবির আয়ুস্কাল ও কম ছিল। মাত্র ৪৮ বছরে তার মৃত্যু হয় নিউইয়র্কে। কিন্তু এই অল্প সময়ে তার কবিতা সারাবিশ্বে জনপ্রিয়। তাকে সাহিত্যের পাশাপাশি রাজনীতিতে বিদ্রোহী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার গদ্য কবিতা পায় ভিন্ন মর্যাদা। সেক্সপিয়ের আর লাউজির পরেই বহুল বিক্রীত বইয়ের কবি হিসেবে তার স্থান তৃতীয়।

তিনি ছিলেন প্রথা বিরোধী লেখক।

তার বিখ্যাত গ্রন্থ দি প্রফেট ৪০টি ভাষায় অনুদিত হয়।

জিবরানের জীবনে ছিল তীব্র প্রেম। ছিল কষ্ট বেদনার পারিবারিক জীবন। কাছাকাছি সময়ে মা বোন ভাই এর মৃত্যুর সামনে দাড়াতে হয়েছে তাকে। ১৯০৪ সালের ৩রা মে তার জীবনের অন্যতম দিন। এদিন বোস্টনে তার দেখা হয় হাসকেলের সাথে। তিনি তীব্র প্রেমে ধাবিত হন হাসকেলের প্রতি। হাসকেলের সাথে তার দীর্ঘ প্রেমের সময়েই তিনি বেশী লিখেছেন। জিবরান এবং হাসকেলের প্রেমে তীব্রতা ছিল। জিবরান তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের বিয়ে হয়নি। তবে হাসকেল একজনকে বিয়ে করেছিলেন। সেই বিয়েতে আবার জিবরান সহযোগীতা করেছিলেন। জিবরানের মৃত্যুর পর হাসকেলের লেখা দিনলিপি থেকে তাদের ভালবাসার তীব্রতা, আকর্ষণ সব জানা যায়।

জিবরান তার যাবতীয় অর্থ বোন মারিয়ানা আর হাসকেলের নামে উইল করে দিয়ে যান। তার চিত্রকর্ম এবং স্টুডিও দিয়ে যান হাসকেলকে। যেখানে হাসকেলের সাথে ২৩ বছরের প্রেমের সব চিঠি জমা ছিল। হাসকেল প্রথমে ভেবেছিলেন চিঠিগুলো পুড়িয়ে ফেলবেন। কারণ সেখানে তাদের যৌন সম্পর্কের সব বর্ণনা দেয়া ছিল। পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। যার ফলে দিনলিপিতে উঠে আসে তার, তাদের ভালবাসা ও অন্যান্য বিষয়।

তার বিখ্যাত গ্রন্থ দি প্রফেট। এই গ্রন্থ তাকে প্রবল খ্যাতি এনে দেয়। এলভিস প্রিসলিসহ আমেরিকার বিখ্যাত গায়কদের এই গ্রন্থ প্রভাবিত করেছিল। তাদের গানে কবিতার লাইন তারা ব্যাবহার করেন। দ্যা বিটলস ব্যান্ডের জন লেলন তার লেখা গানে ফোম এন্ড স্যান্ড কবিতার পঙতি ব্যবহার করেছিলেন।

দি প্রফেট বইটি মূলত শুরু হয় সত্য বলা প্রফেট বা সন্তের অর্ফালিজ নগরী থেকে বিদায়ের দিনে। শেষ হয় নগর ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। দি প্রফেট কবিতার নায়ক আল মোস্তফা। নায়ক মোস্তফা ধর্ম, মৃত্যু, ভালোবাসা, বিবাহ্, দান, সন্তান সহ বহু বিষয়ে বলে গেছেন।

যেমন- আমার আত্নার কতনা ক্ষুদ্র অংশ

আমি এই নগরীর পথে পথে ছড়িয়ে দিয়েছি,

আমি ব্যথিত এবং ভারাক্রান্ত না হয়ে কীভাবে তাদের ছেড়ে ফিরে যাব"

ভালবাসা নিয়ে বলেছেন "ভালোবাসা যখন তোমাকে ইশারা করে, তখন তার সঙ্গে তোমার চলার পথ কঠিন এবং বন্ধুর হলেও তুমি তাকে অনুসরণ করো"

দান সম্পর্কে বলেছেন "সত্য এই, জীবন জীবনকে দান করে এবং তুমি যদিও নিজেকে দাতা মনে কর, তুমি আসলে দানের স্বাক্ষী মাত্র"

কহলিল জিবরানের মৃত্যুর পর তাকে লেবাননে নিজগ্রামে সমাহিত করা হয়। লেবাননের বৈরুতে তার নামে রয়েছে বৈরুত বাগান। জিবরানের ইচ্ছা অনুযায়ী তার কবরের পাশে লেখা হয় "আমি তোমাদের মতো বেঁচে আছি এবং তোমাদের পাশেই দাঁড়িয়ে আছি। চোখ বন্ধ করে চারদিকে অনুভব করার চেষ্টা করো। আমাকে খুঁজে পাবে।"

লেখক: সংসদ সদস্য সুনামগঞ্জ-৪, বিরোধীদলীয় হুইপ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত